২রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৭শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

    সর্বশেষ খবর

    এবার প্রশান্ত মহাসাগরে ‘মাদকবাহী নৌযানে’ মার্কিন বিমান হামলা

    সমুদ্রপথে মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক বহনকারী সন্দেহভাজন আরেকটি নৌযানে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।
    মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, বুধবারের হামলায় মার্কিন বাহিনীর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। প্রশান্ত মহাসাগরে একদিন আগে অনুরূপ আরেকটি নৌযানে বিমান হামলায় দুজন নিহত হওয়ার পর এটি দ্বিতীয় হামলা।
    হেগসেথ দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় পরিচিত মাদক পাচারের পথে থাকা উভয় নৌযানই মাদক পরিবহন করছিল। গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌকার বিরুদ্ধে এটি যুক্তরাষ্ট্রের অষ্টম ও নবম হামলা। এর আগে সাতটি হামলা হয় ক্যারিবীয় সাগরে।
    বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (X)–এ দেওয়া এক পোস্টে হেগসেথ বলেন,
    “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একটি চিহ্নিত সন্ত্রাসী সংগঠন পরিচালিত নৌযানে আরও একটি মারাত্মক হামলা চালিয়েছে। সন্ত্রাসীরা পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারে জড়িত ছিল।”

    তিনি আরও লেখেন,“এই হামলাগুলো অব্যাহত থাকবে। এরা শুধু মাদক ব্যবসায়ী নয়, এরা মাদক সন্ত্রাসী— যারা আমাদের শহরে মৃত্যু ও ধ্বংস ডেকে আনছে।”

    হেগসেথের পোস্টে সংযুক্ত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মার্কিন বোমার আঘাতে একটি নৌকা আগুনে জ্বলছে।

    মার্কিন বাহিনীর এসব হামলা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ–নিযুক্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের একটি দল। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন।

    বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যে বলা হয়,
    “যদিও যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ সত্যও হয়, তবুও আন্তর্জাতিক জলসীমায় কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া প্রাণঘাতী হামলা চালানো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।”

    তাঁরা আরও বলেন, এসব হামলা ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অপর দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির পরিপন্থী।
    ওয়াশিংটনের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন,“আন্তর্জাতিক জলসীমায় মাদক সন্ত্রাসীদের ওপর হামলা চালানোর অধিকার আমাদের রয়েছে।”

    তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে স্থল অভিযানেও যেতে পারেন। “আমরা স্থলে মাদকবিরোধী অভিযান সম্প্রসারণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত, স্থল অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নিলে তিনি মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে পারেন।
    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রশান্ত ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বেড়েছে। ওয়াশিংটন বলছে, মাদক পাচার থেকে অর্থায়ন পায় তথাকথিত “মাদক সন্ত্রাসী” গোষ্ঠীগুলো, তাই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
    তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক পাচার কোনো সশস্ত্র সংঘাত নয়— তাই সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে তা মোকাবিলা করা আইনগতভাবে বিতর্কিত এবং এটি আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।

    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

    Latest Posts

    spot_imgspot_img

    আলোচিত খবর