ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্র জ্যামাইকার দিকে ধেয়ে আসছে চলতি বছরের বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় ‘হারিকেন মেলিসা’। ঘণ্টায় ১৭৫ মাইল (২৮২ কিলোমিটার) বেগে বইছে বাতাস—যা এটিকে ক্যাটাগরি ৫ মাত্রার হারিকেন, অর্থাৎ সর্বোচ্চ স্তরের ঝড় হিসেবে চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি)।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘূর্ণিঝড় শুধু ২০২৫ সালের সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়ই নয়, বরং জ্যামাইকার ইতিহাসে রেকর্ড করা সবচেয়ে বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় হতে পারে। ইতোমধ্যে দেশটিতে অন্তত তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে।
এনএইচসি সতর্ক করে জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল নাগাদ জ্যামাইকার স্থলভাগে আঘাত হানবে মেলিসা। এর ফলে প্রাণঘাতী বাতাস, ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস ও বন্যা দ্বীপজুড়ে তাণ্ডব চালাতে পারে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, আগামী চার দিনে দেশে ১০০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।
এনএইচসি পরিচালক মাইকেল ব্রেনান সতর্ক করে বলেন, “এই ঝড়ের সময় বাইরে যাওয়া মানেই মৃত্যুকে আমন্ত্রণ। মেলিসার কেন্দ্র অতিক্রমের সময় কেউ যেন ঘর থেকে বের না হন।”
জ্যামাইকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঝড়ের মূল আঘাতের আগেই কয়েকটি দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। দেশজুড়ে ৮৮১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে মানুষ বিনামূল্যে থাকতে পারবেন।
জ্যামাইকার শিক্ষামন্ত্রী ডানা মরিস ডিকসন বিবিসিকে বলেন, “আমরা এমন ঝড় আগে কখনো দেখিনি। অক্টোবরজুড়ে বৃষ্টি হয়েছে, মাটি ভিজে ও দুর্বল। এখন মেলিসার ভারী বৃষ্টি যুক্ত হলে ভয়াবহ ভূমিধস হতে পারে।”
এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হলনেস দ্বীপজুড়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (X)-এ তিনি লিখেছেন—
“প্রত্যেক জ্যামাইকান যেন প্রস্তুত থাকে, ঘরে অবস্থান করে এবং স্থানান্তরের নির্দেশ মেনে চলে। আমরা এই ঝড় মোকাবিলা করব এবং আরও শক্তভাবে পুনর্গঠন করব।”
এনএইচসি বিশেষজ্ঞদের মতে, মেলিসার গতিবেগ তুলনামূলক ধীর হওয়ায় এটি দীর্ঘ সময় ধরে একই অঞ্চলে অবস্থান করতে পারে—যা বিপর্যয়ের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে—মেলিসা এখন পর্যন্ত ২০২৫ সালের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং প্রাণঘাতী ঝড়ে পরিণত হয়েছে।
প্রস্তুতি না নিলে জ্যামাইকায় “শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগ” নেমে আসতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।



