আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কঠোর আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী নির্বাচনী প্রচারে ড্রোন ও পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণাও চালানো যাবে না।
সোমবার (১০ নভেম্বর) জারিকৃত আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, একজন প্রার্থী তাঁর নির্বাচনী এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন, যার দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১৬ ফুট ও প্রস্থ ৯ ফুট। প্রচারণায় আলোকসজ্জা, পলিথিন ও পিভিসি জাতীয় উপকরণ ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ইসি পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।
কঠোর শাস্তির বিধান
আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা যাবে। কোনো দল নিয়ম ভাঙলে একই অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়বে। গুরুতর অপরাধে তদন্তসাপেক্ষে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও থাকবে কমিশনের হাতে।
সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি
প্রার্থী বা তাদের এজেন্টরা সামাজিক মাধ্যমে প্রচার চালাতে পারবেন, তবে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট, ইমেইল ও আইডি আগে থেকেই রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর তথ্য, ঘৃণাত্মক বক্তব্য কিংবা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অপপ্রচার—সবই নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহার, নারী বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার এবং চরিত্র হননের চেষ্টা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
বিদেশে প্রচার নিষিদ্ধ
কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী বিদেশে জনসভা, পথসভা বা প্রচারণা চালাতে পারবেন না। নির্বাচনী প্রচারে ড্রোন, কোয়াডকপ্টার বা অনুরূপ যন্ত্র ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
এক মঞ্চে ইশতেহার ঘোষণা
প্রথমবারের মতো প্রতিটি আসনে সব প্রার্থীকে একই মঞ্চে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার এই আয়োজন করবেন। প্রার্থী ও দল উভয়কেই আচরণবিধি মানার লিখিত অঙ্গীকারনামা জমা দিতে হবে।
পোস্টাল ভোটে প্রযুক্তির ব্যবহার
প্রবাসী ভোটারসহ তিন শ্রেণির ভোটার এবার প্রথমবারের মতো আইটি-সমর্থিত ডাক ভোটের (Postal Voting) মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন।
আইন সংস্কারের শেষ ধাপ
ইসি জানিয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন, ভোটার তালিকা আইন, নির্বাচন কর্মকর্তা বিশেষ বিধান আইন, সাংবাদিক নীতিমালা ও দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষণ নীতিমালা হালনাগাদ শেষে আচরণবিধি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন,
“পরিবেশবান্ধব প্রচারণা, স্বচ্ছ ব্যয়ব্যবস্থা ও প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধের মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গত ও আধুনিক নির্বাচনই এবারের মূল লক্ষ্য।”



