গত ০২ জুলাই ২০২২ তারিখে জাপানে বাংলাদেশী উদ্যোক্তা উন্নয়নের লক্ষ্যে দিনব্যাপী আন্তজার্তিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সময় সকাল ১১ টা থেকে বিকাল ৬.৩০ পর্যন্ত মোট ৭ টি পর্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। অনলাইনের মাধ্যমে প্রায় তিনশতাধিক ছাত্রছাত্রী, সম্ভাব্য তরুন উদ্যোক্তা, একামেডিশিয়ান, ব্যবসায়ী, পলিসি মেকারস উক্ত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন।
উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন জনাব ড. শামসুল আলম, প্রতিমন্ত্রী, পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়, বাংলাদেশ সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব শাহাবুদ্দিন আহমেদ, মাননীয় রাষ্ট্রদূত, বাংলাদেশ এম্বেসী, জাপান। অন্যান্য অতিথিবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাপানে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত জনাব আশরাফ উদ দৌলা, প্রফেসর ড. মোখলেছুর রহমান, প্রিন্সিপাল, কোডো ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, জাপান, জনাব শাহরিয়ার হোসেন, ব্যাবস্থাপনা পরিচালক, ডেলোয়েটজাপান, ড. রফিকুল ইসলাম মারুফ, সহযোগী অধ্যাপক, কিয়ুশু বিশ্ববিদ্যালয়, জাপান এবং অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সভপতিত্ব করেন উদ্যোগ ও উদ্যোক্তা জাপান এসোসিয়েশন এর প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রেসিডেন্ট জনাব ফরহাদ হোসেনবিপু। অতিথি বক্তাগণ জাপান বাংলাদেশের ৫০ বছরের অর্জন এবং ভবিষ্যত সম্ভাবনার কথা তুলে ধরনে। মহামান্য রাষ্ট্রদূততার বক্তব্যে জাপান বাংলাদেশের বর্তমান এবং ভবিষ্যত কার্যক্রম সম্পর্কে ধারনা প্রদান করেন। সেই সাথে তরুন উদ্যোক্তা উন্নয়নের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ ও পর্যায়ক্রমে ৫ টি প্লেনারি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেশন গুলো ছিল নিম্নরূপঃ
সেশন ১: জাপান – বাংলাদেশ এর ৫০ বছর পূর্তী, অর্জন এবং ভবিষ্যত সুযোগ সমূহ
সেশনের উদ্দেশ্যঃ জাপান বাংলাদেশের বিগত ৫০ বছরের আমলা তান্ত্রিক সম্পর্ক, জাপানের সহযোগীতা, শিক্ষার সুযোগ এবং অর্থনৈতিক অর্জন ও সুযোগ সমূহ নিয়ে ধারণা দেওয়া। উক্ত সেশনটি মডারেট করেন ড. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ খান, রিসার্চার, টোকিও মেডিক্যাল এবং ডেন্টাল বিশ্ববিদ্যালয়। প্যানেল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব ড. আব্দুলাহ আল মামুন, সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, জাপানিজ স্টাডি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ড. তাজভীর আহমেদ, পিএচডি ফেলো, টোকিওবিশ্ববিদ্যালয়, জনাব সৈয়দ নাসির এরশাদ, ইকোনোমিক মিনিস্টার, বাংলাদেশ এম্বেসী, জাপান। রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব আশরাফ উদ দৌলা এবং ড. মোয়াজ্জেম হোসেন, ব্যাবস্থাপনা পরিচালক, জাপান ইস্ট ওয়েস্ট মেডিক্যালবিশ্ববিদ্যালয়।
সেশন ২: এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যে উদ্যোক্তা উন্নয়ন
সেশনের উদ্দেশ্যঃ এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যে আমাদের দেশের গবেষক এবং উদ্যোক্তাগণ কি করছে, কি করতে পারে, এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতি ইত্যাদি। উক্ত সেশনটি মডারেট করেন ড. রফিকুল ইসলাম মারুফ, সহযোগী অধ্যাপক, কিয়ুশু বিশ্ববিদ্যালয়। প্যানেল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. আশির আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক, কিয়ুশু বিশ্ববিদ্যালয়, তিনি এসডিজি -৩ অর্জনে তার গবেষণা কর্ম ডিজিটাল হেলথ টেকনোলজি এবং মাইক্রো হেলথ এন্ট্রারপ্রেণারশীপ নিয়ে কথা বলেন।জনাব শাহরিয়ার হোসেন, ব্যাবস্থাপনা পরিচালক, ডেলোয়েট জাপান, সাসটেইনেবল টেকনোলজি নিয়ে কথা বলেন। জনাব তারেক রাফি বিন ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক, জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স, এসডিজি ৮ এবং ৯ অর্জনে বাংলাদেশের উদ্যোগ এবং জাপানের বিনিয়োগ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সামাজিক উদ্যোক্তাজনাব তাকুইয়া কাওয়ামুরা, অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান।
সেশন-৩: সম্ভাবনাময় তরুন ও মহিলা উদ্যোক্তা
সেশনের উদ্দেশ্যঃ তরুন/মহিলা উদ্যোক্তারা কি করছে, তাদের পরিকল্পনা কি, প্রতিবন্ধকতা সমূহ কি কি তা নিয়ে আলোচনাকরা। এই সেশনটি মডারেট করেন ড. মেহরুবা মনা, সহকারী অধ্যাপক, ওকাইয়ামা বিশ্ববিদ্যালয়, জাপান। প্যানেল বক্তাহিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিস শাইলাজা কাসাজু, কান্ট্রী ডিরেক্টর, উদ্যোগ ও উদ্যোক্তা নেপাল, তিনি নেপালে উদ্যোগ ও উদ্যোক্তার ভবিষ্য কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন। মিস ইয়মাশিতা হারুকা জাপানে নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি করতে সহায়তাকরবে এই রকম একটি বিজনেস পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। মিস সামিরা হোসেন তার উদ্যোগের মাধ্যমে কীভাবে বাংলাদেশের তরুনদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জাপানে তাদের কর্মসংস্হান হতে পারে সে বিষয়ে কথা বলেন। এই সেশনে রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক এবিএম শহিদুল ইসলাম, চেয়ারম্যন, মার্কেটিং বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং এস এম আলীআজম, সহকারী অধ্যাপক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ঢাকা কমার্স কলেজ।
সেশন-৪: ব্যর্থতার গল্প
সেশনের উদ্দেশ্যঃ প্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তাদের ব্যর্থতার গল্প শেয়ার করা এবং সেটা কীভাবে অতিক্রম করে সফল হয়েছেন তা থেকে নতুনের শিক্ষা নেওয়া। এই সেশনটি মডারেট করেন জনাব উষা রন্জন, ফাউন্ডার এবং সিইও, উষা ইন্টারন্যাশনাল কো. লি. জাপান। প্যানেল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মাশিউর রহমান, ফাউন্ডার, বাংলা টিওটর এবং বিজ্ঞানী। জনাব জেভীয়ার চৌধুরী, ফাউন্ডার, আইকারি। জনাব মোহাম্মদ সোলাইমান হোসেন, ফাউন্ডার, সারা ক্রিয়েশনস কো. লি. জাপান। প্রত্যকে নিজনিজ ব্যর্থতা এবং তা অতিক্রম করার পদক্ষেপ তুলে ধরে নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্ভুদ্ধ করার চেষ্টা করেন। উক্ত সেশন রিসোর্সপারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপানের দুইজন সফল ব্যবসায়ী মো আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং জনাব হিরোশিইয়ামামোতো।
সেশন -৫: উদ্যোগ/ব্যবসায় শুরু করার ধাপ সমূহ
সেশনের উদ্দেশ্যঃ ব্যবসায় শুরু করার প্রাথমিক ধাপ সমূহ কি কি, স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য ফান্ডিং এর কি কি সুযোগ রয়েছে, জাপানে ব্যবসায় করতে হলে ধাপ গুলো কি কি সে সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করা। উক্ত সেশনটি মডারেট করেন জনাব শাহজাবীন কবির, ফাউন্ডার, দেয়ালকোঠা। প্যানেল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. বিষ্নু কুমার অধিকারী, সহযোগীঅধ্যাপক, দশিষা বিশ্ববিদ্যালয়, জাপান। তিনি নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ফান্ডিং অপুরচুনিটি নিয়ে কথা বলেন, বিশেষ করেক্রাউড ফান্ডিং। জনাব খোকন কুমার নন্দি, প্রেসিডেন্ট, জেবিআর কো. লি. জাপানে ব্যবসায় শুরু করার আইনগত প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য ধাপ সমূহ নিয়ে কথা বলেন। ড. ফরহাদ হক, লেখক এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ক ফ্রীল্যান্স কনসালটেন্ট, উদ্যোগ/ব্যবসায় শুরু করার প্রাথমিক ধাপ সমূহ নিয়ে কথা বলেন। রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. রুবিনা হোসেন, এসআইওয়াইবি মাস্টার ট্রেইনার, আএলও এবং অধ্যাপক ড. মুনিম কুমার বাড়ই ।
সমাপণী পর্বে সভাপতিত্ব করেন উদ্যোগ ও উদ্যোক্তা জাপান এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক মিস আফরিনা খান প্রিয়া। মিস শিরিন জাহান, কান্ট্রি ডিরেক্টর, উদ্যোগ ও উদ্যোক্তা বাংলাদেশ, সবগুলো সেশনের মূল আলোচনা সামারি করেন, জনাবএম এম রায়হান, ভাইস প্রেসিডেন্ট, উদ্যোগ ও উদ্যোক্তা জাপান এসোসিয়েশন, সংগঠনের পরিচিত এবং ভবিষ্যত কর্ম পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সংগঠনের বাকি সদস্যবৃন্দ জনাব মনির হোসেন, মো শাখায়েত হোসেন, তাহমিদ তাজওয়ার, নাদিয়া বিনতেরহমান, অর্ণব চৌধুরী, ইমামুরা ইউসুকে, ইয়ামাশিতা হারুকা সংক্ষেপে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য উদ্যোগ ও উদ্যোক্তা জাপান এসোসিয়েশন জাপানে নিবন্ধিত একটি সামাজিক সংগঠন যার মূল উদ্দেশ্যে তরুন উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে জাপান-বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখা।



