সুপ্রিম কোর্ট যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের গর্ভপাতের অধিকার বাতিল করে দিলেন । দেশটির প্রায় ৫০ বছর আগে গর্ভপাতকে বৈধ ঘোষণা করার রায় সর্বোচ্চ আদালত পাল্টে দেয়ার চিন্তা করছে- এমন খবর ফাঁস হওয়ার পর থেকেই তীব্র বিতর্ক চলছিল। শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ‘রো বনাম ওয়েড’ নামে পরিচিত মামলার সেই যুগান্তকারী রায় সত্যিই পাল্টে দিলো ।
রক্ষণশীল বিচারকরাই মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ। শুক্রবার গর্ভপাতের সাংবিধানিক অধিকার রহিত করার পক্ষে মতামত দেন আদালতের ছয় বিচারক, তিনজন বিপক্ষে দেন।
সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি অনুমোদন দেয়া না দেয়ার সিদ্ধান্তের ক্ষমতা প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। মিসিসিপি তে গর্ভধারণের ১৫ সপ্তাহের পর গর্ভপাত নিষিদ্ধ করাকে চ্যালেঞ্জ করে আনা এক মামলার রায়ে সর্বোচ্চ আদালত রাজ্য সরকারের পক্ষে রায় দিলে, গর্ভপাতের সাংবিধানিক অধিকার কার্যত রহিত হয়ে যায়।
গর্ভপাতের অধিকার সংবিধানের আওতায় থাকতে পারে না- এটি নিয়ন্ত্রণের অধিকার অবশ্যই মানুষের এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে থাকা উচিত এমনটা বলা হয় রায়ে ।
এই রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকের বেশি অঙ্গরাজ্যে গর্ভপাত নিষিদ্ধ হবে অথবা এর ওপর হতে পারে নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ।, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সঙ্গে সঙ্গেই গর্ভপাত নিষিদ্ধ হবে, এরই মধ্যে ১৩টি অঙ্গরাজ্য এমন আইন পাস করেছে ।
এক জরিপে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানধারণে সক্ষম অন্তত ৩ কোটি ৬০ লাখ নারী গর্ভপাতের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সর্বোচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ‘মর্মান্তিক ভুল’ বলে মন্তব্য করেন । রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে তিনি বলেন যেভাবে নারীদের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার কেড়ে নেওয়া হলো, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এটিকে উল্লেখ করেছেন মৌলিক স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ বলে ।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটিই সংবিধানকে অনুসরণ করছে এবং মানুষকে সেই অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে, যা তাদের দেয়া উচিত ছিল অনেক আগেই । এই রায়কে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সও স্বাগত জানিয়েছেন।
মাহফুজা ২৫



