আজ বেগম রোকেয়া দিবস। এ দিবসটি সরকারিভাবে পালিত একটি জাতীয় দিবস। বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ দিবসটি পালন করা হচ্ছে। দিবসটি উদযাপনে দেশব্যাপী জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও গ্রহণ করা হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি ।
এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা বাণী দিয়েছেন।
দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বৈষম্যহীন ও সমতাভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে বেগম রোকেয়ার জীবনাদর্শ ও নারী শিক্ষার প্রসারে তার অবদান আমাদের নারী সমাজের অগ্রযাত্রায় এক অন্তহীন প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
শুক্রবার সকাল ১০টায় এ উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় দেশের পাঁচজন নারীকে ‘রোকেয়া পদক’ দেওয়া হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এসময় মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা উপস্থিত থাকবেন।
এবার যে ৫ জন নারী বেগম রোকেয়া পদক পাচ্ছেন তারা হচ্ছেন- চট্রগ্রাম জেলার প্রফেসর কামরুন নাহার বেগম (অ্যাডভোকেট), সাতক্ষীরা জেলার ফরিদা ইয়াসমিন, নড়াইল জেলার ড. আফরোজা পারভীন, ঝিনাইদহ জেলার নাছিমা বেগম ও ফরিদপুর জেলার রহিমা খাতুন। পদক প্রাপ্তদের প্রত্যেককে আঠারো ক্যারেট মানের পঁচিশ গ্রাম স্বর্ণ নির্মিত একটি পদক, পদকের রেপ্লিকা, চার লাখ টাকার চেক ও সম্মাননাপত্র দেয়া হবে।
এছাড়াও সরকারি ও বেসরকারিভাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় দিবসটি পালন করা হবে। এর মধ্যে বিকাল সাড়ে ৩টায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘নারী সমাবেশ’ করবে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম। এর আগে সকাল ৯টায় রোকেয়া হল প্রাঙ্গণে বেগম রোকেয়ার ভাস্কর্যে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করবে সংগঠনটি৷ বিকেলের সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন মহিলা ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রকৌশলী শম্পা বসু।
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সে সময় মুসলিম সমাজে মেয়েদের লেখাপড়া শেখানোর প্রচলন ছিল না। এমন অবস্থায়ও পরিবারের অগোচরে বেগম রোকেয়া চারটি ভাষায় লেখা ও পড়ায় সিদ্ধহস্ত হন। পরবর্তীতে বিয়ের পরে স্বামী সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের উৎসাহে তিনি লেখাপড়ার প্রসার ঘটান। বেগম রোকেয়া ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর মারা যান।
বেগম রোকেয়া ২০০৪ সালে বিবিসি বাংলার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি’ জরিপে ষষ্ঠ নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে পরিচিত। তার উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-মতিচূর, সুলতানার স্বপ্ন, পদ্মরাগ, অবরোধ-বাসিনী।
মাহফুজা ৯-১২



