নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেফতার ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান ও নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল কাদের ভূইয়া জামিন পেয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অন্য মামলায় পরোয়ানা না থাকায় রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে সিএমএম আদালতের হাজতখানা থেকে তাদের ছেড়ে দেয়া হয় বলে জানায় পুলিশ
বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন শুনানি শেষে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। এরপর তাদের আইনজীবী জামিননামা দাখিল করেন। তাদের বিরুদ্ধে অন্য মামলা না থাকায় সিএমএম আদালতের হাজতখানা থেকে তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ।
এদিন বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ ৪৩৪ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। বিএনপির ২৩ জনের দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানার ইনচার্জ জাহিদুর রহমান বিষয়টি জানিয়েছেন।
এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ১৫ আসামির সাতদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এসময় আমানউল্লাহ আমান ও আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েলের জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবী। শুনানি শেষে বিচারক রিজভীসহ ৪৩৪ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আমান ও জুয়েলের জামিন মঞ্জুর করেন।
বুধবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এতে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যানএবং আহত হন অনেকে। এসময় বিএনপি কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে চাল, পানি, নগদ টাকা ও বিস্ফোরকদ্রব্য পাওয়া যায় বলে জানায় পুলিশ।
কারাগারে যাওয়া উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ।
রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন—বিএনপির সহ-জলবায়ু সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, ঢাকা জেলা বিএনপি সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক, বিএনপি নেতা শাহজাহান, এ কে এম আমিনুল ইসলাম, ওয়াকিল আহমেদ, সজীব ভূঁইয়া, সারোয়ার হোসেন শেখ, সাইদুল ইকবাল মাহমুদ, মিজানুর রহমান, আল-আমিন, সাইফুল, শুভ ফরাজি, মাহমুদ হাসান রনি, জামিল হোসাইন, হারুনুর রশীদ, রিয়াদ আহমেদ, রবিউল ইমরান, জাহাঙ্গীর আলম সেন্টু, মোস্তাক মিয়া, মাহাবুব মিয়া, খোরশেদ আলম সোহেল ও সোহাগ মোল্লা
সংঘর্ষের ঘটনায় ৪৭৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত দেড় থেকে দুই হাজার বিএনপির নেতাকর্মীকে আসামি করে পল্টন মডেল থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে।
মাহফুজা ৮-১২



