ওয়ানডে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার পর এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও জয়ের খুব কাছ থেকে হেরে গেল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। প্রতিটি ম্যাচেই একাধিকবার সম্ভাবনার আলো জ্বেলে শেষ মুহূর্তে হতাশ হতে হয়েছে টাইগ্রেসদের। এবার সেই হার আরও বেশি কষ্টের—একেবারে সেমিফাইনালের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
সোমবার (২০ অক্টোবর) শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬ উইকেট হাতে রেখে ১২ বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র ১২ রান। এমন সহজ সমীকরণ থেকেও মাত্র ৭ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ। মাত্র ১ রানের ব্যবধানে ৫টি উইকেট হারিয়ে স্বপ্নভঙ্গের অধ্যায়ে আরেকটি করুণ সংযোজন হয়।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে আবেগ সামলাতে পারেননি অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। চোঁখের কোনে জল, কণ্ঠে বেদনা।
“এটা সত্যিই হৃদয়বিদারক। আমরা আবারও জয়ের খুব কাছে গিয়েছিলাম। ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং এখন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনটি ম্যাচেই প্রায় জিতেই ফেলেছিলাম। এই ধরণের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের আরও অভিজ্ঞতা দরকার। কীভাবে স্নায়ুচাপ সামলাতে হয়, তা শিখতে হবে।”
জ্যোতি স্পষ্টভাবে বলেন, এই হারকে তিনি ভাগ্যের দোষ নয়, নিজেদের ব্যর্থতা হিসেবেই দেখছেন।
“না, এটা আমাদের ভুল। এটা একটা ম্যাচ না—এটা তৃতীয়বার একই রকমভাবে ঘটল। আমরা শেষ মুহূর্তে সঠিকভাবে ম্যাচ শেষ করতে পারছি না। এই ধরণের রান তাড়া করে ম্যাচকে শেষ ওভারে নেওয়ারই কথা নয়।”
ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সুপ্তার ক্র্যাম্প হয়ে মাঠ ছাড়ায় ছন্দ ভেঙে যায় বলে উল্লেখ করেন জ্যোতি। তাঁর মতে, সে সময়ই ম্যাচের গতি পাল্টে যায়।
“আমি ও সুপ্তা খুব ভালো ব্যাট করছিলাম। কিন্তু সুপ্তা উঠে যেতে বাধ্য হয় ক্র্যাম্পের কারণে। এরপর নতুন ব্যাটার এলে আবার জুটি গড়তে সময় লেগেছে। একপর্যায়ে আমরা কোনো বাউন্ডারি পাচ্ছিলাম না, সেখানেই মূল ব্যর্থতা।”
এই হারে সেমিফাইনালের স্বপ্ন শেষ। তবে এখনও বাকি আছে একটি ম্যাচ—আগামী রবিবার ভারতের বিপক্ষে। জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করতে পারলেই সেটিই হতে পারে টাইগ্রেসদের সান্ত্বনার প্রাপ্তি।
বাংলাদেশ এবারের বিশ্বকাপ শুরু করেছিল পাকিস্তানকে হারিয়ে, তবে পরের তিন ম্যাচে হেরে বিদায়ের পথে হাঁটছে। ভারতের বিপক্ষে জয় নিয়েই দেশে ফিরতে চায় জ্যোতির দল।



