২১শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
১৩ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি

    সর্বশেষ খবর

    বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগে মোহাম্মদ হারুন অর রশীদসহ ১০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা নেয়ার আবেদন খারিজ

    রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় মহানগর গোয়েন্দা  পুলিশের প্রধান হারুন অর রশিদসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার আবেদন আদালত খারিজ করে দিয়েছেন ।

    রোববার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে এই আবেদন করেছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন।  আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এরপর মামলা গ্রহণের মতো কোনো উপাদান না থাকায় তা খারিজ করে দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরমান হোসেন এ তথ্য জানান।

    আবেদনে যাদের আসামি করা হয়- অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সঞ্জিত কুমার রায়, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মেহেদি হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ড. খ. মহিদ উদ্দিন, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, উপ-পুলিশ কমিশনার হায়াতুল ইসলাম খান, এসি মতিঝিল জোন গোলাম রুহানি, আনসার সদস্য আল আমিন ওরফে মাহিদুর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা ২০০-৩০০ পুলিশ সদস্য।

    নাজিম উদ্দিনের আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, গত ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদসহ ১০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। তবে আদালত মামলা গ্রহণের বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি।

    মামলার আবেদনে বলা হয়, ৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় হারুন অর রশিদ অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, ঢাকা মেট্রোপলিটনের গোয়েন্দা প্রধান তার সঙ্গে ১০-১২ জন বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে নিচতলার তালা ভাঙচুর চালান। এসময় তারা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ম্যুরালের গ্লাস ভেঙে ফেলেন এবং ম্যুরালটির বাম চোখের অংশ লোহার শাবল দিয়ে আঘাত করে চোখে পরিহিত কালো সানগ্লাসটি ভেঙে ফেলেন।

    পরে আসামিরা দ্বিতীয় তলায় প্রবেশ করেন এবং দ্বিতীয় তলার প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা প্রথমেই ডান দিকে থাকা বিএনপির হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কক্ষের তালা ভেঙে প্রবেশ করেন। হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেনের কক্ষে টেবিলের ড্রয়ার ভেঙে ফেলেন এবং একটি কম্পিউটার ও একটি প্রিন্টার মেশিন ডাকাতি করে নেন, যার মূল্য এক লাখ টাকা।

    বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কক্ষের ডান দিকের দরজার তালা ভেঙে ভেতরে অবৈধভাবে প্রবেশ করে টেবিলের গ্লাস ভেঙে ফেলেন এবং সোফাসহ আসবাবপত্র তছনছ করে ক্ষতিসাধন করেন। ক্ষতির পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা। দ্বিতীয়তলার উত্তর দিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কক্ষের ডান পাশের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে একটি কম্পিউটার, একটি এলইডি টিভি ও দুটি রাউটার চুরি করেন। যেগুলোর মূল্য ৯০ হাজার টাকা।

    ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির গণসমাবেশের কর্মসূচি ছিল। তার আগে ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে একজন নিহত হন। আহত হন বিএনপির অর্ধশত নেতা-কর্মী। সংঘর্ষের পর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালায় পুলিশ।

    অভিযানের পর ডিএমপির ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ৩০০ নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। বিএনপির কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়ে বিস্ফোরক ও ককটেল পাওয়া গেছে। বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে পুলিশের অন্তত ৫০ সদস্য আহত হয়েছেন।

    সংঘর্ষের ঘটনায় পরদিন চারটি মামলা হয়। পল্টন, মতিঝিল, রমনা ও শাহজাহানপুর থানায় পুলিশের করা পৃথক চার মামলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ২ হাজার ৯৭৫ নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে নাম উল্লেখ করা হয় ৭২৫ জনের। প্রতিটি মামলায়ই আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়।

    ১৮ ডিসেম্বর বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করা হয়, ৭ ডিসেম্বর দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশি হামলা হয়। সেদিন পুলিশের ছত্রচ্ছায়ায় ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীরা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢোকেন। তাঁরা বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর চালান। মালামাল লুট করা হয়। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় প্রায় ৫১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে বিএনপির অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ।

    মাহফুজা ২২-১

     

    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

    Latest Posts

    spot_imgspot_img

    আলোচিত খবর