চট্টগ্রামের ইপিজেড থানা এলাকায় আয়াতকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার মামলায় আসামি আবির আলীর বাবা আজহারুল ও মা আলো বেগমের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক অলি উল্লাহ এ আদেশ দেন। এর আগে তাদের গ্রেফতার করে সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত সংস্থা পিবিআই। আসামি আবির আলীর বোনকেও গ্রেফতার করেছে পিবিআই। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার তাকে শিশু আদালতে হাজির করা হয়েছে।
আবীর আলী নগরের ইপিজেড থানার দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের নয়ারহাট এলাকার ভাড়াটিয়া বাসিন্দা আজহারুল ইসলামের ছেলে। তাদের বাড়ি রংপুর জেলায়। শিশু আয়াতকে খুনের মামলায় তার সম্পৃক্ততার তথ্যপ্রমাণ পাওয়ার পর গত ২৪ নভেম্বর রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।
১৫ নভেম্বর বন্দরটিলার নয়ারহাট বিদ্যুৎ অফিস এলাকায় মসজিদে আরবি পড়তে যাওয়ার সময় আয়াত নিখোঁজ হয় । এ ঘটনায় পরদিন ইপিজেড থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করেন আয়াতের বাবা সোহেল রানা। এরপরই পিবিআই ঘটনা তদন্তে নামে ।
পিবিআই পুলিশ সুপার নাঈমা সুলতানা বলেন, শিশু আয়াত নিখোঁজের পর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে আবির আলী নামের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। হত্যার নানা আলামত উদ্ধার করে পিবিআই। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক আবির শিশু আয়াতকে মুক্তিপণ দাবির উদ্দেশ্যে অপহরণ করে বলে জানায়। তবে শিশু আয়াত চিৎকার করতে থাকলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে আবির। পরে আকমল আলী সড়কের বাসায় নিয়ে মরদেহ ছয় টুকরো করে। এরপর মরদেহের খণ্ডিত অংশগুলো দুটি ব্যাগে ভর্তি করে বেড়িবাঁধ এলাকায় নদীতে ফেলে দেয়।
গত ২৫ নভেম্বর আবীরকে নিয়ে পুলিশ নগরীর আকমল আলী সড়কের স্লুইস গেট সংলগ্ন নালায় এবং পরবর্তীতে আউটার রিং রোড সংলগ্ন বে-টার্মিনাল এলাকার সমুদ্র পাড়ে যায়। ‘সাগরের পানিতে’ভেসে যাওয়ায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা যায়নি। তবে আকমল আলী সড়কে তার মায়ের বাসার সামনে একটি ঝোপ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বঁটি উদ্ধার করে। এছাড়া আয়াতের বাসার পাশে কবরস্থানে আয়াতের পায়ের স্যান্ডেলও উদ্ধার করা হয়।
মাহফুজা ২৯-১১



