মঙ্গলবার কলম্বোর আর প্রেসাদাসা স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কা আগে ব্যাট করে আসালঙ্কার সেঞ্চুরিতে ভর করে ৪৯ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৫৮ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ৫০ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৫৪ রানের বেশি করতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।
চতুর্থ ওয়ানডেতে ২৫৮ রান তাড়া করতে নেমে শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১৯ রান প্রয়োজন ছিল অস্ট্রেলিয়ার। বোলিং অলরাউন্ডার ম্যাথিউ কুহনিম্যান আশা জাগিয়েও শেষ পযর্ন্ত পারলেন না জয় তুলে নিতে। দাসুন শানাকার করা ওভারের পাঁচ বলে তিন বাউন্ডারিতে তুলে ফেললেন ১৪ রান।
শেষ বলে জয়ের জন্য ৫ রান প্রয়োজন ছিল। শেষ বলটি হাওয়ায় ভাসিয়ে খেলেছিলেনও কুহনিম্যান। কিন্তু কাভারে ধরা পড়ে যান চারিথ আসালঙ্কার হাতে। অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয়ে যায় ২৫৪ রানে। ৪ রানের দারুণ এক জয় পায় লঙ্কানরা। আর ঘরের মাঠে পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ ৩-১ ব্যবধানে জিতে নেয়। যা ঘরের মাঠে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩০ বছরের মধ্যে প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয়। আর ১২ বছর পর কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়।
আজও অস্ট্রেলিয়া অবশ্য ভালো শুরু করে স্পিনের কাছে ধরাশায়ী হয়েছে। ডেভিড ওয়ার্নার শুরুতে দারুণ খেলেন। উদ্বোধনী এই ব্যাটসম্যান ৯৯ রানে স্ট্যাম্পড হন।
৩৫.৫ ওভারের সময় ৪ উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিল ১৮৯। জয়টা হাতের নাগালেই ছিল। কিন্তু এরপর মাত্র ৬৫ রানে শেষ ৬টি উইকেট হারায় তারা। অবস্থা আরও খারাপ হতে পারতো, যদি না প্যাট কামিন্স ৩৫ রানের ইনিংস না খেলতেন। আর কুহনিম্যান শেষ ওভারে ১৪ রান না নিতেন।
ওয়ার্নারের ৯৯ ও কামিন্সের ৩৫ রানের বাইরে ত্রাভিস হেড ২৭ ও মিচেল মার্শ ২৬ রান করেন। বল হাতে চামিকা করুণারত্নে, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ও জেফরি বন্দরসে ২টি করে উইকেট নেন।
তার আগে শ্রীলঙ্কার ২৫৮ রানের ইনিংসে অবদান রাখেন আসালঙ্কা ও ধনঞ্জয়া। ৩৪ রানেই ৩ উইকেট হারানোর পর তারা দুজন ১০১ রানের জুটি গড়েন। ধনঞ্জয়া ৬০ রান করে আউট হলেও আসালঙ্কা তুলে নেন তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। তিনি ১০৬ বলে ১০টি চার ও ১ ছক্কায় ১১০ রান করেন। এছাড়া ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা অপরাজিত ২১ রান করলে ২৫৮ রানের সংগ্রহ পায় স্বাগতিকরা।
বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার ম্যাথিউ কুহনিম্যান, প্যাট কামিন্স ও মিচেল মার্শ ২টি করে উইকেট নেন।
আসালঙ্কা ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন ।



