বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ কেন্দ্র করে রাজধানীর প্রায় সব প্রবেশমুখ এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। রাজধানীর প্রবেশ মুখে এবং নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (সকাল থেকেই গাবতলী আমিন বাজার এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও মানুষের চলাচলের গতিবিধি নজরদারি করছে পুলিশ। যথাযথ কাগজপত্র দেখে তাদের রাজধানীতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, যাত্রাবাড়ী ও উত্তর এলাকায়ও চেকপোস্ট বসিয়ে চেক করা হচ্ছে। আমিনবাজার ব্রিজের ওপর পুলিশের বিশেষ ১৫ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীতে আন্দোলনের নামে কেউ যেন নাশকতা কিংবা সহিংসতা করতে না পারে সেজন্য এ তল্লাশি। তবে প্রমাণাদি না দেখাতে পারলে ঢাকার বাইরে থেকে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে নেই কোনো নেতাকর্মী। নয়াপল্টন জুড়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। পরিচয়পত্র দেখিয়ে এসব এলাকার লোকজনকে চলাচল করতে হচ্ছে।
পল্টন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাউদ্দিন মিয়া বলেন, এই এলাকায় বুধবারের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সেজন্যই আজ সকাল থেকে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
সকাল পৌনে ৯টার দিকে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তায় গিয়ে দেখা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকায় প্রবেশের অংশে (দক্ষিণ অংশ) কামাল ম্যানশনের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ অবস্থান নিয়েছে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড়সহ বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ। সাড়ে ১০টায় উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোড়ে গিয়ে দেখা যায়, পুলিশ প্রতিটি গাড়ি ও যাত্রীদের তল্লাশি করছে। এই পথ দিয়েই উত্তরবঙ্গের সব গাড়ি ঢাকায় প্রবেশ করে থাকে। ১৫ থেকে ২০ জন পুলিশ সদস্য সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল, পিকআপ, দূরপাল্লার বাস, ট্রাক গতিরোধ করে জিজ্ঞাবাদ ও তল্লাশি করছে। দূরপাল্লার বাস গতিরোধ করে যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ, ব্যাগ, বস্তা, মুঠোফোন চেক করছে।
গাজীপুর টঙ্গীতেও পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। কালিয়াকৈর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজিম হোসেন বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড যেন না ঘটে, সে জন্য বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। চেকপোস্টের মাধ্যমে কাউকে সন্দেহ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তবে কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, রাজধানীতে নিয়মিত চেকপোস্ট বসছে। কারণ, ১ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশেষ অভিযান চলছে। ১৪ ও ১৬ ডিসেম্বর এবং ২৫ ডিসেম্বরের মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিন সামনে। এর আগে যেন কোনো ধরনের নাশকতার ঘটনা না ঘটে সেজন্য আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে চেকপোস্ট বসিয়েছি।
মাহফুজা ৮-১২



