২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৯শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

    সর্বশেষ খবর

    কক্সবাজারের টেকনাফে মাদক মামলায় ১০১ জনের দেড় বছর করে কারাদণ্ড ও জরিমানা

    কক্সবাজারের টেকনাফে মাদক মামলায় আদালত ১০১ জনকে দেড় বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে । একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

    বুধবার  দুপুর দেড়টায় এ রায় দেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল। এ দুপুর সাড়ে ১২টায় রায় পড়া শুরু হয়। বেলা ১১টায়  আদালতে আনা হয় কারাগারে থাকা ১৭ আসামিকে।

    এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ফরিদুল আলম।

    তিনি জানান, ১০১ জনের প্রত্যেককে ১ বছর ৬ মাস করে কারাদণ্ড  এবং ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। অস্ত্র মামলায় কারো সংশ্লিষ্ট না পাওয়ায় সাবইকে খালাস দেয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় আদালতে ১৭ আসামি উপস্থিত ছিলেন।

    মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফরিদুল আলম বলেন, পলাতক যারা রয়েছেন তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করে এই সাজা ভোগ করার পর জামিন লাভ করবেন। সাজাপ্রাপ্তরা ইয়াবা কারবারি হিসেবে দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেন।

    আদালতের সর্বশেষ ধার্যদিনে অনুপস্থিত থাকায় ৮৪ জনের জামিন বাতিল ঘোষণা করেন আদালত। এর মধ্যে মোহাম্মদ হোছাইন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও এখনও পালাতক রয়েছে ৮৩ জন।

    ২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফ সৈকতের কাছের এলাকায় ইয়াবা ও অস্ত্রসহ একদল মাদক কারবারি অবস্থান করছে বলে খবর পেয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। ওই সময় পুলিশের কাছে ১০২ জন আত্মসমর্পণ করেন। পরে টেকনাফ সদরের টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের উপস্থিতিতে ১০২ জন আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারি ও গডফাদার সাড়ে ৩ লাখ ইয়াবা, দেশি তৈরি ৩০টি বন্দুক ও ৭০ রাউন্ড গুলিসহ আত্মসমর্পণ করেন।

    ওইদিন আত্মসমর্পণকারী ১০২ জনকে আসামি করে টেকনাফ মডেল থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা দায়ের হয়। বাদী হয়ে মামলা দুটি করেন টেকনাফ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) শরীফ ইবনে আলম এবং  মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন পরিদর্শক এবিএম এস দোহাকে।

    মামলা দায়েরের দিনই আদালতের মাধ্যমে সব আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ১০২ জন আসামির মধ্যে মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে ২০১৯ সালের ৭ আগস্ট মোহাম্মদ রাসেল নামে এক আসামি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

    ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তামান্না ফারাহ’র আদালতে ১০১ আসামির বিরুদ্ধে দুটি চার্জশিট দাখিল করেন।  পরবর্তীতে মামলা দুটি বিচারের জন্য জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। একই বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল সব আসামির উপস্থিতিতে শুনানি শেষে মামলার চার্জ গঠন করেন। বিচার শেষে ১৫ নভেম্বর মামলার রায় ঘোষণার জন্য ২৩ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।

    কারাগারে থাকা আসামিরা হলেন, নুরুল হুদা, শাহ আলম, আব্দুর রহমান, ফরিদ আলম, মাহবুব আলম, রশিদ আহমেদ, মোহাম্মদ তৈয়ব, জাফর আলম, মোহাম্মদ হাশেম , আবু তৈয়ব, আলী নেওয়াজ, মোহাম্মদ আইয়ুব, কামাল হোসেন, নুরুল বশর, আব্দুল করিম , দিল মোহাম্মদ, মো. সাকের মিয়া, মোহাম্মদ হোছাইন।

    ২০১৯ সালে ৩৭ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। ২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ৩ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ও ৩০টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। আত্মসমর্পণকারী আসামিরা উদ্ধার করা আলামত তাদের বলে স্বীকার করেন। অস্ত্র মামলায় ৩৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।

    মাহফুজা ২৩-১১

     

    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

    Latest Posts

    spot_imgspot_img

    আলোচিত খবর