১৬ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
৮ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি

    সর্বশেষ খবর

    আখেরি মোনাজাতে মুসল্লিদের ‘আমিন’, ‘আমিন’ ধ্বনির মধ্যে দিয়ে শেষ হলো ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব

    আখেরি মোনাজাতে ক্রন্দনরত মুসল্লিদের ‘আমিন’, ‘আমিন’ ধ্বনির মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব।এবারের ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব বিশ্ব শান্তি ও মুসলিম উম্মার কল্যাণ কামনায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো । এতে অংশ নেন বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখো মুসল্লি।

    বিশ্ব শান্তি, সারা দুনিয়ার মুসলিমদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, পরিপূর্ণ হেদায়েত, আল্লাহর সব হুকুম মানা আর নবী করীমের (সা.) দেখানো পথে জীবন গড়ার জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

    রোববার আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বি মাওলানা সাদ আহমদ কান্ধলভীর ছেলে মাওলানা ইউসুফ কান্ধলভী। এসময় মওলানা সদের মেজো ছেলে মাওলানা সাঈদ কান্ধলভী ও ছোট ছেলে মাওলানা ইলিয়াস কান্ধলভী ময়দানে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বাদ ফজর বয়ান করেন ভারতের মাওলানা মুরসালিন। আর হেদায়তি বয়ান করেন মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী। তাদের বয়ান বাংলায় তরজমা করবেন মাওলানা জিয়া বিন কাসিম।

    আজ দুপুর ১২টা ১৬ মিনিটে শুরু হওয়া মোনাজাত চলে দুপুর দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে চলা মোনাজাতে দেশ ও মানুষের কল্যাণ কামনা করেন মুসল্লিরা। এসময় তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

    মোনাজাতে আল্লাহর কাছে নিজেদের অন্তরের খাহেশাত মুক্ত, রাগকে বশ, নাফরমানিকে ঘৃণা, ভালোবাসা ছড়িয়ে বিশ্ব মুসলিম ভাতৃত্ব গড়া ও দ্বীনের জন্য নিজেদের কবুল করার বিশেষ আর্জি জানানো হয়।

    মোনাজাতে মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী প্রথমে সুরা আলে ইমরান থেকে তেলাওয়াত করেন। দয়াময় আল্লাহর নামে হামদ পাঠ করেন। মোনাজাতে তিনি সারা দুনিয়ার মুসলমানদের জান-মাল আর সময়কে আল্লাহর জন্য কবুল, জাহান্নামের ভয়ানক আগুন আর পুলসিরাতের কঠিন পথ মুক্তি এবং মুসলিমদের হকের ওপর অটুট রাখা এবং বাতিল শক্তিকে পরাজিত করার আর্জি জানান।

    কবরবাসী সকল মুমিন নারী-পুরুষকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান, দ্বীনের জন্য যারা মেহনত করছেন তাদের জান-মাল আর সময় কবুল করে তাদের সম্মান বৃদ্ধি, সাহাবিদের মতো ঈমান, ঈমানি শক্তি, ধৈর্য, প্রজ্ঞা আর সম্প্রতির দোয়া করেন তিনি।

    দুনিয়ার সমস্ত কাজকর্ম ঈমানের সঙ্গে করার, রাগকে খতম, নাফরমানিকে শেষ করে দিয়ে ঈমানের প্রতি আগ্রহ পয়দা করার বিশেষ আর্জি করা হয় মোনাজাতে। ধ্যানের সাথে নামাজ কায়েম, নামাজের মাধ্যমে যেকোনো সমস্যার সমাধান আর অন্তরকে স্রেফ আল্লাহর দিকে মুতাওয়াজ্জা করার তাওফিক চাওয়া হয়।

    তিনদিন ধরে তাবলীগ জামায়াতের নানামুখী শিক্ষা শেষে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন মুসল্লিরা।

    মোনাজাতের আগে চলে পবিত্র কোরআন-হাদিসের আলোকে বয়ান। এর আগে অনুষ্ঠিত হয় হেদায়াতি বয়ান। দেশ বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে এবাদত, বন্দেগি, জিকির, আসকার আর আল্লাহু আকবর ধ্বনিতে উত্তাল টঙ্গীর তুরাগ পাড়ের বিশ্ব ইজতেমা ময়দান

    এদিকে আখেরি মোনাজাত শেষে মুসুল্লিদের বাড়ি ফেরার সুবিধার্থে রেলওয়ে বিভাগের পক্ষ থেকে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সব ট্রেনের যাত্রাবিরতি রাখা হয় টঙ্গি স্টেশনে।

    শীত উপেক্ষা করে গাজীপুর এবং ঢাকা ও এর আশপাশ এলাকার লাখ লাখ মানুষ আখেরি মোনাজাতে শরিক হতে ইজতেমা স্থলে আসেন।

    ২২ জানুয়ারি ফজর নামাজের পরই আম বয়ানের মাধ্যমে শুরু হয় বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। এর দুদিন আগ থেকেই মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে আসতে শুরু করেন। শুক্রবার জুমার নামাজে মুসল্লিদের ঢল নামে। রাস্তায়ও নামাজ আদায় করেন অনেকে। দুদিন ধরে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অবিরাম চলে দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা আলেমদের বিভিন্ন ভাষায় বয়ান। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ঈমান, আখলাক ও দ্বীনের বিভিন্ন বয়ান শোনেন।

    ভোর থেকে মোনাজাত শেষ হওয়া পর্যন্ত ইজতেমা সংলগ্ন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া বাইপাস থেকে আব্দুল্লাপুর এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আশুলিয়া থেকে কামারপাড়া পর্যন্ত যানবাহন নিয়ন্ত্রিত রাখা হয়। তবে প্রথম পর্বের মতো যানচলাচল ভোগান্তিতে পড়েনি মুসল্লিরা।

    প্রতিবছর টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে আয়োজন করা হয়ে থাকে তাবলীগ জামায়াতের শীর্ষ সম্মেলন বিশ্ব ইজতেমা। যেখানে দেশ-বিদেশের লাখো মুসলিম যোগ দেন। ২০১৮ সালের বিরোধের পর বাংলাদেশের মাওলানা জুবায়ের ও দিল্লির মৌলভি সাদ কান্ধলভির দুই পক্ষ ২০১৯ ও ২০২০ সালে আলাদা ইজতেমা করে। করোনাভাইরাসের কারণে দুই বছর এই জমায়েত বন্ধ থাকার পর এবারও দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হলো বিশ্ব ইজতেমা।

    মাহফুজা ২২-১

     

    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

    Latest Posts

    spot_imgspot_img

    আলোচিত খবর