১৬ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
৮ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি

    সর্বশেষ খবর

    আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের জন্য কাজ করে যায়। জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা কী চান -প্রধানমন্ত্রী

    আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে জনগণের জন্য কাজ করে যায়। জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা কী চান বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের ৫০টি জেলায় ২০৪৯ দশমিক ১৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ১০০ মহাসড়ক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত ছিল টাঙ্গাইল ও খুলনা জেলা। বাকি জেলাগুলো প্রজেক্টরের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়।

    সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ৫০ জেলায় ১০০ মহাসড়ক নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৪ হাজার ৮২৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা। যার বেশিরভাগ অর্থের জোগান দিয়েছে সরকার। দুই হাজার কিলোমিটার সড়কের মধ্যে সবচেয়ে বড় সড়ক সাউথ এশিয়ান সাবরিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (সাসেক) কর্মসূচির আওতায় তৈরি হয়েছে। সেটি হলো জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা সড়ক। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৭০ কিলোমিটার। সবচেয়ে ছোট ইজতেমা সড়কের দৈর্ঘ্য ১.৩ কিলোমিটার। সর্বোচ্চ সংখ্যক সড়ক উদ্বোধন হয়েছে ঢাকা বিভাগে।

    ১০০ সড়কের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩২, ময়মনসিংহে ৬, চট্টগ্রামে ১৫, সিলেটে ৪, খুলনায় ১৬, রাজশাহীতে ৮, রংপুরে ১৫ ও বরিশালে চারটি সড়ক রয়েছে। জাতীয় সড়কে যুক্ত হচ্ছে ২০৬.৫৪ কিলোমিটার এবং আঞ্চলিকে ৬২১.৬৮ কিলোমিটার। আর জেলায় এক হাজার ১৯৩.৩৪ কিলোমিটার সড়ক যুক্ত হচ্ছে।

    তিনি বলেন, উন্নয়নশীল থেকে উন্নত দেশ গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য। ই-গভর্ন্যান্স, ই-এডুকেশন অর্থাৎ ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে প্রত্যেক ক্ষেত্রে আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এভাবেই আমরা পরিকল্পনা করেছি এবং বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

    শেখ হাসিনা বলেন,  ১০০ সেতু একদিনে উদ্বোধন, ১০০ সড়ক একদিনে উদ্বোধন; এগুলো অতীতে কেউ করতে পেরেছে, পারেনি। পারে আওয়ামী লীগই। এটাই প্রামণিত সত্য।

    সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনে  গ্রাম পর্যায় পর্যান্ত শক্তিশালী যোগাযোগ নেটওয়ার্ড করে তোলার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ’৯৬-তে ক্ষমতায় এসেও আমরা যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করেছিলাম। সারা দেশ থেকে এখন রাজধানীতে আসতে গেলে কম সময়ে মধ্যে আসতে পারে। এরপরও বলে আওয়ামী লীগ নাকি দেশ ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশের মানুষ এটা বিশ্বাস করবে কি না-এটাই আমার প্রশ্ন।

    তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে।এর বাইরে যারা ক্ষমতায় ছিলো এরা দেশের জন্য কি করেছে এবং কতটুকু উন্নয়ন করেছে, এই পার্থক্য মানুষ বিবেচনা করে দেখবে।

    ‘কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা, খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, শিক্ষার প্রসার ঘটানো, উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা, ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা, দক্ষ মানবশক্তি গড়ে তোলা, বিজ্ঞান প্রযুক্তি সম্পন্ন মানবসম্পদ গড়ে তোলা, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তি ব্যবহার করে জ্ঞানে এবং দক্ষতায় প্রতিটি বাঙালি যেনো সেভাবে তৈরি হয় সেই লক্ষ্য নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আমরা এদেশের মানুষকে শান্তি, নিরাপত্তা উন্নয়ন, নিশ্চিত করতে চাই। সেটা আমরা প্রমাণ  করেছি। বারবার ঝড়-আপ্টা এসেছে, আমরা তা মোকাবিলা করে এগিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।”

    বাংলাদেশকে স্মার্ট রাষ্ট্র হিসেবে গড়ো তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন আমাদের লক্ষ্য ’৪১ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল থেকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলা, যেখানে জনগণ হবে স্মার্ট।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই অর্থপাচারকারী, অগ্নিসন্ত্রাসকারী, গ্রেনেড হামলা করে মানুষ হত্যাকারী, মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা থেকে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে অন্যের কাছে হাত পাতা; এই ধরনের মানসিকতার কেউ যেন এদেশে…। যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না তারা এদেশের কোনো উন্নতি চায় না। সে কথা সবাইকে স্মরণ রাখতে হবে।

    তৃণমূল থেকে শুরু করে সব পর্যায়ে সড়ক ব্যবহারের নিয়ম-কানুনে শেখানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাধারণ পথচারী, যাত্রী এবং ড্রাইভার ও হেলপার যদি সড়ক ব্যবহারের নিয়ম জানে এবং যথাযথভাবে মানে তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা কমে যাবে।

    সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের দেশে একটা দুর্ঘটনা ঘটলে ড্রাইভার গাড়ি থামান না। ভয় পান। কারণ, সঙ্গে সঙ্গে জনগণ গিয়ে দুর্ঘটনা কবলিতকে সাহায্য না করে ড্রাইভারকে মারধর শুরু করেন। অনেক সময় গণপিটুনিতে ড্রাইভার মারা যান। এ কাজটা কেউ দয়া করে করবেন না। কেউ ইচ্ছে করে মানুষ মারে না। দুর্ঘটনা ড্রাইভারের কারণে হতে পারে, পথচারীর কারণেও হতে পারে। তবে আইন কেউ নিজের হাতে তুলে নেবেন না। যদি অপরাধ করে, আপনারা ধরেন, পুলিশে/থানায় দিয়ে দেন। বিচার হবে। এজন্য আইনও করে দিয়েছি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদিও আমরা প্রায় পুরো দেশেই প্রশিক্ষণকেন্দ্র করে দিয়েছি। একই সঙ্গে সড়কপথে চলতে নিয়ম মানার শিক্ষা স্কুল জীবন থেকেই দিতে হবে। রাস্তা ব্যবহারের নিয়মকানুনেরও ট্রেনিং দেওয়া দরকার। সাধারণ মানুষকেও এ ব্যাপারে সচেতন করতে হবে। দরকার হলে রাস্তাঘাটে, হাটে বাজারে প্রদর্শন করতে হবে। তাছাড়া টেলিভিশনসহ নানা মাধ্যমে সচেতনতা কার্যক্রম চালাতে হবে।

    তিনি বলেন, আমাদের গাড়ি চালকদের জন্য মহাসড়কে বিশ্রামাগার তৈরির নির্দেশ দিয়েছি। কিছু কিছু করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময় ড্রাইভ করার পর রেস্ট নিতে হবে বা ভিন্নজনকে দিয়ে ড্রাইভ করাতে হবে। ড্রাইভারদের খাবার, বিশ্রামসহ সব বিষয়ে মালিকদের যত্নবান হতে হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছি। অনেক সেতু করেছি। ড্রেজিং করে নদীপথও করেছি। প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা এদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবে। প্রত্যেকে প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হবে, প্রযুক্তি জানবে ও সুফল ভোগ করবে। এ লক্ষ্যে আমরা কর্মপরিকল্পনা ঠিক করেছি। জলবায়ুর অভিঘাত থেকে এই ব-দ্বীপ অঞ্চলকে রক্ষা করে উন্নত জীবন দিতে চাই। এজন্য ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ তৈরি করেছি। যদি দায়িত্বশীল, দেশপ্রেমিক, প্রগতিশীল সরকার ক্ষমতায় থাকে তাহলে এটা বাস্তবায়ন হতে থাকবে। যে সরকার জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করবে, নিজের ভাগ্য না।

    সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে ও মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব আমিনুল্লাহ নূরী। টাঙ্গাইল ও খুলনা থেকে যুক্ত হয়ে জেলা প্রশাসক ও উপকারভোগীরাও কথা বলেন।

    মাহফুজা ২১-১২

     

    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

    Latest Posts

    spot_imgspot_img

    আলোচিত খবর