১৬ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
৮ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি

    সর্বশেষ খবর

    ৩৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা;নায়কের ভূমিকায় লিওনেল মেসি

    আর্জেন্টিনা কাতার  বিশ্বকাপের  এবারের চ্যাম্পিয়ন। ৩৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন হলো আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের মুকুট পড়লো আর্জেন্টিনা। অবশেষে ফুটবল জাদুকরের জীবনে এলো পূর্ণতা। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে একমাত্র খাদ থাকা বিশ্বকাপ ট্রফি নিলেন হাতে। লিওনেল মেসি হলেন সর্বকালের সেরা ফুটবলার।

    ১৯৮৬ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনা একাই জিতিয়েছিলেন আর্জেন্টিনাকে। তার অধিনায়কত্বে দ্বিতীয়বার হয়েছিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। হয়েছিলেন কিংবদন্তি। তারপর তার জায়গা নিতে পারেননি কেউই। হয়তো কখনও নিতে পারবেন না কেউ। কিন্তু মেসি যখন এলেন, জাদু দেখিয়ে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির সঙ্গে উচ্চারিত হয়েছে তার নাম। যদিও বিশ্বকাপের ট্রফি তার হাতে ছিল না বলে ঠিক জমছিল না কে সেরা, সেই বিতর্কে। তারই ইতি টানলেন মধুর সমাপ্তিতে।

    সেমিফাইনাল জিতে ফাইনালে ওঠার পরই বিশ্বকাপ অধ্যায়ের ইতি টানার ঘোষণা দেন মেসি। সেটাই যেন আরও তাতিয়ে দেয় মলিনা-মার্তিনেজদের। কোমর বেধে মেসির শেষ বিদায়টা রাঙাতে নামে লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে।

    ১১ জনই ছিলেন যুদ্ধাংদেহী। একের পর এক বল নিয়ে বক্সে ঢুকে রদ্রিগো ডি পল, অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া ও ম্যাক অ্যালিস্টার মুহুর্মুহু আক্রমণ চালাতে থাকেন। তাতে তটস্থ ফ্রান্সের ১১ যোদ্ধা। পুরো মাঠ জুড়ে ছিলেন মেসির সেনারা। ফরাসি কোনও খেলোয়াড়কেই বল পায়ে রাখতে দেননি। বল যেখানে সেখানেই ছিলেন মেসি থেকে শুরু করে ওটামেন্ডিরা।

    প্রথমার্ধের ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও এমবাপের দুই মিনিটের ম্যাজিকে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-২ এ সমতায় থেকে নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ করে ফ্রান্স৷ অতিরিক্ত সময়েও চলে নাটক। এবার মেসির গোলে আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেলেও এমবাপে গোল করলে ৩-৩ সমতায় থেকে টাইব্রেকারে যায় ম্যাচ। সেখানেই জয় লাভ করে আর্জেন্টিনা।

    শুরুটা আর্জেন্টিনা করেছিল দুর্দান্ত। ম্যাচের ৪ মিনিটে ডি পল এবং আলভারেজের দারুণ বোঝাপড়ায় ডি পলের বাড়ানো বলে আলভারেজ শট নিলেও রেফারি অফসাইডের সিদ্ধান্ত দেন। ৬ মিনিটে ম্যাক এলিস্টারের দূরপাল্লার শট সোজা তালুবন্দি করেন ফ্রেঞ্চ গোলরক্ষক লরিস। এর ঠিক ২ মিনিট পর আবারও আক্রমণ করে আর্জেন্টিনা

    এবার ডি পল ডি বক্সের বাইরে থেকে জোড়ালো শট নিলে ফ্রেঞ্চ ডিফেন্ডার ভারানের পায়ে লেগে বল বাইরে চলে গেলে কর্নার পায় আর্জেন্টিনা। অবশ্য সেই কর্নার কাজে লাগাতে পারেননি আলবিসেলেস্তারা। ১৬ মিনিটে আবারও গোলের সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। এবার ডি পলের ডান পাশ থেকে বাড়ানো ক্রসে ডি মারিয়ার ডান পায়ের শট চলে যায় গোলবারের অনেক উপর দিয়ে।

    ম্যাচের ২১ মিনিটের মাথায় ডি মারিয়াকে ডি বক্সের ভেতর ফাউল করে বসেন ডেম্বেলে। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দিলেন মেসি। বিশ্বকাপে এটি তার ৬ষ্ঠ গোল।

    পুরো মাঝমাঠেই যেন ফ্রান্সকে আটকে রাখে আর্জেন্টিনা। বল দখলে আর্জেন্টিনার ধারে কাছেও ছিল না বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ৩৭ মিনিটে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত কাউন্টার এটাকে খেই হারিয়ে ফেলে ফ্রান্স। মাঝমাঠ থেকে মেসির পাস থেকে আলভারেজ বল পেলে সেটি বাড়ান ম্যাকএলিস্টারের উদ্দেশ্যে, দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে তিনি বল দেন ডি মারিয়াকে। তিনি আর মিস করলেন না।

    কোপা আমেরিকার ফাইনাল, ফিনালিসিমার পর আরও একটি ফাইনালে গোল করলেন এই জুভেন্টাস তারকা। দুই গোলে পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধেই জিরু ও ডেম্বেলেকে পাল্টে ফেলেন ফ্রান্স কোচ। তবুও তাদের ভাগ্যের চাকা ফেরেনি। শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।

    ম্যাচের ৫১ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু ডি বলের ডিবক্সের ভেতর থেকে নেওয়া দুর্দান্ত ভলি সোজা লরিসের হাতে গিয়ে পড়ে। ৬০ মিনিটে আবারো সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। বাম পাশ থেকে আলভারেজের নেওয়া শট দারুণভাবে সেভ করেন লরিস।

    ম্যাচ যখন শেষের দিকে যাচ্ছে ঠিক সে সময়েই যেন জ্বলে ওঠেন এমবাপে। মাত্র ৯৭ সেকেন্ডের ব্যবধানে আর্জেন্টিনার স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেন এই পিএসজি তারকা। ৭৮ মিনিটে কুলো মুয়ানিকে ডি বক্সের ভেতর ফাউল করে বসেন ওতামেন্দি। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান।

    স্পট কিক থেকে বিশ্বকাপে নিজের ৬ষ্ঠ গোলটি করেন এমবাপে। এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও গোল করে এমবাপে। ৮১ মিনিটে এমবাপের দুর্দান্ত ভলিতে গোল করে দলকে ২-২ এ সমতায় ফেরান এই পিএসজি তারকা। দুই গোল দিয়ে যেন আরো উজ্জীবিত হয়ে খেলতে থাকে ফ্রান্স।

    ৯৬ মিনিটে কামাভিঙ্গার শট দারুণভাবে সেভ করেন এমি মার্টিনেজ। এর ঠিক এক মিনিট পর ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে মেসির দূর পাল্লার বুলেট গতির শট হুগো লরিস ঝাপিয়ে পড়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন। এর কিছুক্ষণ পর রেফারি বাঁশি বাজালে ২-২ সমতায় থেকেই শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের খেলা।

    অতিরিক্ত সময়ের ম্যাচের ১০৮ মিনিটের মাথায় দুর্দান্ত এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করে দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন মেসি। এটি বিশ্বকাপে তার ৭ম গোল। মেসির এই গোলের রেশ না কাটতে কাটতে এমবাপের আবার গোল। বিশ্বকাপের ফাইনালে হ্যাটট্রিক করে দলকে ৩-৩ সমতায় এনে টাইব্রেকারে নিয়ে যান এই তারকা

    ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। টাইব্রেকারে আবারও দলকে রক্ষা করলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। এবার তিনি বিশ্বকাপ এনে দিলেন। স্পট কিক থেকে ফ্রান্সের কোম্যানের পেনাল্টি রুখে দেন মার্টিনেজ এবং চুয়ামেনি মারেন গোলবারের বাইরে দিয়ে। অন্যদিকে চারটি স্পট কিক থেকে চারটিতেই গোল করে ফ্রান্সকে ৪-২ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতলো আর্জেন্টিনা।

    পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে ছিল মেসির পদচারণা। ফাইনালেও রেখেছেন দুর্দান্ত ছাপ। করেছেন জোড়া গোল। ৭ গোল ও তিন অ্যাসিস্টে গোল্ডেন বুটটা হয়তো জিততে পারেননি। তবে বিশ্বকাপ ট্রফিটা দিয়ে ফুটবল শোধ করলো তার ঋণ।

    বিশ্বকাপে রেকর্ড ২৬তম ম্যাচ খেলতে নেমে এই আসরের ষষ্ঠ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে যান। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ১২ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট। ১৯৬৬ সালে এই রেকর্ড তালিকাভুক্ত করার পর থেকে বিশ্বকাপে কোনও খেলোয়াড় সর্বোচ্চ ২০ গোলে অবদান রাখলেন। এছাড়া প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে গ্রুপ পর্ব, শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালে গোলের কীর্তি গড়লেন সাতবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী।

    মাহফুজা ১৯-১২

     

     

    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

    Latest Posts

    spot_imgspot_img

    আলোচিত খবর