২২শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
১৪ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি

    সর্বশেষ খবর

    ক্রোয়েশিয়াকে উড়িয়ে হেসে খেলে ফাইনালে মেসির আর্জেন্টিনা

    প্রথম সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে আবারো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলো আর্জেন্টিনা। গেলবারের সেমিফাইনালিস্ট ক্রোয়েশিয়াকে কোনরকম ছাড় না দিয়ে মেসি এবং আলভারেজ জাদুতে ৩-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে মেসিরা। আগামীকাল ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচের জয়ী দল ১৮ তারিখ ফাইনালে লড়বে স্কালোনির শিষ্যরা।

    ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালের পর আবারো মেসি ও তার দলের সামনে সুযোগ আসলো বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের। দুর্দান্ত মেসি যেভাবে আগাচ্ছেন তাতে বোধহয় ভাগ্যদেবতা তার দিকে মুখ তুলে তাকাতেও পারেন।

    দুই পরিবর্তন নিয়ে এদিন একাদশ সাজান আর্জেন্টাইন কোচ স্কালোনি। কিন্তু ম্যাচ যত গড়িয়েছে ততই মিডফিল্ডে আধিপত্য দেখিয়েছে ক্রোয়েশিয়া।

    ম্যাচের শুরু থেকে ক্রোয়েশিয়া বল দখলে রাখলেও ম্যাচের সুযোগ তৈরি করতে পারতেছিল না ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে আর্জেন্টিনা।

    ২৫ মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্টিনা-ক্রোয়েশিয়ার কেউই কোনো গোল দিতে পারেনি। তবে লড়ছে সমানতালে। আর্জেন্টিনা ২ শট নিয়েছে, ১টি অন টার্গেট। অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়া ১টি শট নিয়েছে।

    ম্যাচের ২৬ মিনিটে প্রথম সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। ডি বক্সের বাইরে থেকে এনজো ফার্নান্দেজের দূরপাল্লার শট রুখে দেন লিভাকোভিচ। ম্যাচের ৩৩ মিনিটেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৩২ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের দারুণ এক পাস থেকে ডি বক্সের ভেতর বল পান আলভারেজ। আলভারেজকে ফাউল করে বসেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক লিভাকোভিচ। রেফারি সাথে সাথে পেনাল্টির বাঁশি বাজান।

     

    স্পট কিক থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ৩৩ মিনিটে ১-০ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে দেন লিওনেল মেসি। এই বিশ্বকাপে এটি তার ৫ম গোল। তাছাড়া সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ১১টি গোল করলেন মেসি।

    এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতে আবার আর্জেন্টিনার গোল। এবারর হুলিয়ান আলভারেজের দারুণ গোলে ৩৯ মিনিটেই এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা।

    প্রথমার্ধ শেষে দুই গোলে এগিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো নকআউট পর্বে ২-০ গোলে এগিয়ে আছে আর্জেন্টিনা। ২০১০ সালে মেক্সিকোর বিপক্ষে শেষ ষোলোতে এগিয়ে ছিল একই ব্যবধানে। অন্যদিকে দ্বিতীয়বারের মতো প্রথমার্ধে ২-০ গোলে পিছিয়ে আছে ক্রোয়েশিয়া। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা ৫টি আক্রমণ করে, যার মধ্যে ৪টি ছিল অন টার্গেট। অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়া ৪টি শট নিলেও একটিও অন টার্গেট ছিল না।

    মাঝমাঠ থেকে মেসির পাস থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত ক্ষিপ্র গতিতে বল নিয়ে ডি বক্সের ভেতর ঢুকে ক্রোয়েশিয়ার দুই ডিফেন্ডারকে টপকে বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে লিভাকোভিচকে পরাস্ত করেন এই ম্যান সিটি স্ট্রাইকার। বিশ্বকাপে এটি তার ৩য় গোল।

    ম্যাচের শেষ দিকে আরো সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ৪৩ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে তাগলিয়াফিকোর হেড দুর্দান্তভাবে রুখে দেন লিভাকোভিচ। প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।

    বিরতি থেকে ফিরে আবারো মাঝমাঠের দখল নেয় ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু দলে যে একজন মেসি আছেন সেটা ভুলেই গিয়েছিল ক্রোয়েশিয়া।

    ৫৯ মিনিটে এনজোর সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান অয়াসে ডি বক্সের ভেতরে ঢুকে মেসি বা পায়ের শট নিলে দারুণভাবে রুখে দেন লিভাকোভিচ।

    বল নিজেদের দখলে রাখলেও গোলের সুযোগই তৈরি করতে পারেনি ক্রোয়েশিয়া। উলটো ৭০ মিনিটে আর্জেন্টিনা আবারো গোল দিয়ে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

    ম্যাচের ৭০ মিনিটে দারুণভাবে মাঝমাঠ থেকে একা বল নিয়ে ডিবক্সের ভেতরে ডিফেন্ডার ভার্ডিওলকে কাটিয়ে ডিবক্সের ভেতর আলভারেজকে পাস দিলে দারুণ ফিনিশিংয়ে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দিলেন মেসি। বিশ্বকাপে এটি আলভারেজের ৪র্থ গোল। এবং মেসির ৮ম এসিস্ট।

    ৩ গোলে পিছিয়ে থেকে গোল শোধের চেষ্টা করে ক্রোয়েশিয়া। ৭৬ মিনিটে পেরেসিচের দূরপাল্লার দারুণ শট সেভ করেন এমি মার্টিনেজ। ৭৮ নিনিটে আবারো ওরসিচের শট চলে যায় গোলবারের উপর দিয়ে।

    ৮৪ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি কিক পেলে দ্রুত কিক নিয়ে বল ডি বক্সের ভেতরে পান ম্যাকএলিস্টার। তার ডান পায়ের শট বাম গোল বারের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। শেষ দিকে ক্রোয়েটরা চেষ্টা করলেও সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা। ফলে ৩-০ গোলের জয়ে আবারো বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা।

    আর্জেন্টিনা একাদশে ছিলেন-

    এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, নাহুয়েল মলিনা, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, নিকোলাস ওটামেন্ডি, নিকোলাস টাগলিয়াফিকো; লিয়ান্দ্রো পারেদেস, রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, লিওনেল মেসি ও ইউলিয়ান অ্যালভারেজ।

    বিশ্বকাপে আগে দুইবার একে অন্যের সঙ্গে খেললেও এবারই প্রথম নকআউটে দেখা হয় তাদের। বিশ্বমঞ্চে আগের দুই দেখায় একটি করে জিতেছে আর্জেন্টিনা ও ক্রোয়েশিয়া। সব মিলিয়ে পাঁচবারের দেখায় দুটি করে জয় দুই দলের, অন্যটি ড্র। প্রথমবার দুই দলের সাক্ষাৎ হয়েছিল ১৯৯৪ সালের জুনে। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে দুই দলের কেউ গোলের দেখা পায়নি, শেষ হয় গোলশূন্য ড্রতে। চার বছর পর ফ্রান্স বিশ্বকাপে গ্রুপ ম্যাচে প্রথম দেখা হয়, সেখানে মাউরিসিও পিনেদার একমাত্র গোলে জেতে আর্জেন্টিনা। ২০ বছর পর ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয় দুই দল। গ্রুপ পর্বের ওই ম্যাচে আন্তে রেবিচ, লুকা মদরিচ ও ইভান রাকিতিচের দ্বিতীয়ার্ধের গোলে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারায় ক্রোটরা।

    আর্জেন্টিনার কাতার বিশ্বকাপ শুরু হয়েছিল হার দিয়ে। সৌদি আরবের কাছে ২-১ গোলে হারের পর মেক্সিকো ও পোল্যান্ডের বিপক্ষে জিতে গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। শেষ ষোলোতে অস্ট্রেলিয়া ও কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসবধ করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে।

    ক্রোয়েশিয়া মরক্কোর সঙ্গে ড্র করার পর কানাডাকে হারায়। গ্রুপের শেষ ম্যাচে বেলজিয়ামের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে নকআউটে ওঠে তারা। জাপান ও ব্রাজিলকে টাইব্রেকারে হারিয়ে সেমিফাইনালে গতবারের রানার্সআপরা।

    মাহফুজা ১৪-১২

     

     

    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

    Latest Posts

    spot_imgspot_img

    আলোচিত খবর