গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে শিশুসহ অর্ধশতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে গাজা কর্তৃপক্ষ। এই হামলাকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন বলছে তারা। তবে ইসরায়েল বলছে, হামাস যোদ্ধাদের হামলার জবাবে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে তারা।
গাজার পূর্বাঞ্চলীয় তুফাহ এলাকার আল-শায়াফ অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে চারজন নিহত হন। প্যালেস্টাইনিয়ান সিভিল ডিফেন্স এজেন্সির দাবি, নিহতরা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া নিজেদের বাড়ির অবস্থা দেখতে গিয়েছিলেন। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এসব তথ্য জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ভাষ্য, গাজা সিটির শুজাইয়া এলাকায় তাদের ‘হলুদ রেখা’ অতিক্রম করে হামাস যোদ্ধারা সৈন্যদের কাছাকাছি চলে আসায় তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এই ‘হলুদ রেখা’ স্পষ্টভাবে চিহ্নিত না হওয়ায় স্থানীয়রা বিভ্রান্ত। তুফাহ এলাকার ৫০ বছর বয়সী সামির বলেন, “পুরো এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আমরা মানচিত্র দেখেছি, কিন্তু বুঝতে পারছি না রেখাগুলো কোথায়।”
রবিবারের বিমান হামলায় শিশুসহ কমপক্ষে ৪২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে যুদ্ধবিরতির পর থেকে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭ জনে।
ইসরায়েল বলছে, রাফাহ এলাকায় হামাস যোদ্ধাদের গুলিতে তাদের দুই সেনা নিহত হয়। সেই ঘটনার প্রতিশোধেই বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামাস এ ঘটনার দায় অস্বীকার করে জানিয়েছে, ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত রাফাহ এলাকায় তাদের কোনো ইউনিট নেই।
হামাসের এক কর্মকর্তা বলেন, “ইসরায়েল যুদ্ধ পুনরায় শুরুর অজুহাত তৈরি করছে।”
হামাস দাবি করেছে, তারা এ পর্যন্ত ২০ জন জীবিত ইসরায়েলি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে এবং গাজায় নিহত বন্দিদের মরদেহ ফেরত দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে যুদ্ধ ও হামলার কারণে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রেড ক্রসের মাধ্যমে তারা হামাসের কাছ থেকে ১৩তম বন্দির মরদেহ গ্রহণ করেছে।
ইসরায়েল রবিবার গাজায় মানবিক সহায়তা পাঠানো বন্ধের হুমকি দিলেও পরে জানায়, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী সহায়তা কার্যক্রম আবার শুরু করেছে।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক জানান, গাজায় ত্রাণ প্রবেশ পুনরায় শুরু হয়েছে, যদিও কী পরিমাণ সহায়তা পৌঁছেছে তা স্পষ্ট নয়।
আলজাজিরার গাজা প্রতিনিধি তারেক আবু আজযুম জানান, ইসরায়েলি সেনারা এখনও সামরিক চেকপয়েন্টে সহায়তাসামগ্রীবাহী ট্রাকগুলো আটকে রেখেছে। সোমবার খান ইউনুসের পূর্বাঞ্চলেও নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ’র প্রধান ফিলিপ লাজারিনি এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, “গাজায় এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।” তিনি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তেরও আহ্বান জানান।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে, তবে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার কারণে শান্তি প্রক্রিয়া হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


