যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। ৩৪ বছর বয়সী ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জোহরান মামদানি শহরের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন। তিনি একই সঙ্গে নিউইয়র্কের সবচেয়ে কম বয়সী, প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এবং আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া প্রথম মেয়রও।
প্রায় এক বছর আগে রাজনৈতিক অঙ্গনে যাত্রা শুরু করেছিলেন মামদানি। তুলনামূলক অখ্যাত এক স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শহরের নেতৃত্বে পৌঁছানোয় তার এই উত্থান এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় ১৭ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন বলে জানিয়েছে শহরের নির্বাচন বোর্ড। গত ৩০ বছরের মধ্যে এটিই ছিল সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।—খবর বিবিসি।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই সমর্থকদের মধ্যে উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে। তারা “জোহারান, জোহারান, জোহারান” বলে স্লোগান দিতে থাকেন। স্থানীয় ভোটারদের অনেকে জানান, ফলাফল ঘোষণার আগে তারা কিছুটা উদ্বিগ্ন ছিলেন, কিন্তু মামদানির বিজয়ের পর পুরো পরিবেশ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
এক ভোটার বলেন, “আমি শক্তি অনুভব করতে পারছি—সবাইয়ের মধ্যে উচ্ছ্বাস কাজ করছে।”আরেকজনের ভাষায়, “মামদানি আমাদের আশার প্রতীক।”
অন্যদিকে রিপাবলিকান হাউস স্পিকার মাইক জনসন মামদানির জয়কে কঠোরভাবে সমালোচনা করে বলেছেন, “নিউইয়র্ক সিটি একজন চরমপন্থী ও মার্কসবাদী প্রার্থীকে নির্বাচিত করেছে—এর প্রভাব গোটা যুক্তরাষ্ট্রে পড়বে।”
তবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা টুইট বার্তায় মামদানিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং বলেছেন, “নিউইয়র্ক নতুন ইতিহাস রচনা করল।”


