জুলাই সনদ বাস্তবায়নে এবং জাতির স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে খোলামেলা আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারসহ সব পক্ষ আন্তরিক হলে আলোচনার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক সংকটের সমাধান সম্ভব।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) ভোরে বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের তাগিদ
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরাই সবার আগে আহ্বান জানিয়েছি যে, আসুন, আমরা খোলামেলা আলোচনা করে জাতির স্বার্থে একটি সমাধানে পৌঁছাই। আমরা আশা করি, অন্যরা আমাদের এই আহ্বানে সাড়া দেবেন।”
সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সরকার সময় বেঁধে দেয়নি, বরং অনুরোধ করেছে—দলগুলো এক সপ্তাহের মধ্যে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ঐকমত্যে পৌঁছাক। আমি মনে করি, এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।”
গণতন্ত্রে মতানৈক্য স্বাভাবিক বিষয়
রাজনীতিতে মতপার্থক্য প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, “আমাদের মধ্যে মতানৈক্য থাকবে, তবে মতবিরোধ যেন না হয়—এই কামনা করি। মতের ভিন্নতা থাকবে, এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। সব দল তো এক দল নয়, তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পার্থক্য থাকবেই।” তিনি বলেন, “আমরা সকলের মতকে শ্রদ্ধা করি। সাংবাদিকরা জাতির বিবেক, সমাজের দর্পণ। দেশ গঠনে আপনাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
বিদেশ সফরের অভিজ্ঞতা
জামায়াতের আমির জানান, গত ১৯ অক্টোবর তিনি ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যান। তিন দিনে ওমরা সম্পন্ন করার পর যুক্তরাষ্ট্রের চারটি শহর, যুক্তরাজ্য ও তুরস্কে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ ও সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেন।
তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নয়, দেশের স্বার্থে বিদেশ সফরে গিয়েছিলাম। প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা শুরু থেকেই কাজ করে আসছি। নির্বাচন কমিশনের নেওয়া উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই, তবে প্রযুক্তিগত কিছু জটিলতার কারণে অনেক প্রবাসী ভোটার হতে পারেননি। আমরা সময়সীমা আরও ১৫ দিন বাড়ানোর দাবি জানাই।”
‘আমির’ নয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী
নিজেকে ‘আমির’ বলা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমি নির্বাচিত আমির নই, সহকর্মীরা আমার ওপর দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। এই দায়িত্ব বড় ভারী, দোয়া করবেন যেন আল্লাহ আমাকে সাহায্য করেন।”
বিমানবন্দরে ফুলেল শুভেচ্ছা
সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা আনম শামসুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।



