প্রায় তিন দশক পর পুনরায় পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার এক ঘোষণায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন অন্যান্য পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মতো সমানভাবে অস্ত্র পরীক্ষা শুরু করে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশাল-এ লেখেন, “অন্য দেশগুলো পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাই আমি প্রতিরক্ষা দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছি আমাদেরও পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা শুরু করতে। এই প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হবে।”
মার্কিন সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই নির্দেশের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক পরীক্ষাবিরতি নীতির বড় পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে। দেশটি সর্বশেষ ১৯৯২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর নেভাদার ভূগর্ভস্থ পরীক্ষাকেন্দ্রে পারমাণবিক বোমা পরীক্ষা করেছিল।
সেই সময় শীতল যুদ্ধের অবসানের পর সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ পারমাণবিক বিস্ফোরণভিত্তিক সব পরীক্ষা স্থগিত করেন। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র কম্পিউটার সিমুলেশন ও অ-বিস্ফোরণমূলক উপায়ে অস্ত্রের কার্যকারিতা যাচাই করছিল।
ট্রাম্প তার পোস্টে আরও বলেন, “আমাদের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার রয়েছে। রাশিয়া দ্বিতীয়, আর চীন অনেক পিছিয়ে তৃতীয় অবস্থানে। তবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই তারা সমান হয়ে যাবে।”
এই ঘোষণার মাত্র কয়েকদিন আগে রাশিয়া পারমাণবিকচালিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ‘বুরেভেস্তনিক’–এর সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করার দাবি করে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় সীমাহীন এবং এটি যেকোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে পারে। এটি Comprehensive Nuclear-Test-Ban Treaty (CTBT)–এর চেতনারও পরিপন্থী, যদিও যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেনি।
গবেষণা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের প্রায় ৮৭ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার হাতে। এর মধ্যে রাশিয়ার কাছে রয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার, আর যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার একশ পারমাণবিক ওয়ারহেড।
বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত পারমাণবিক প্রতিযোগিতাকে নতুন করে উসকে দিতে পারে—যা বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এক নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।



