পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা, ভাই ও চাচা। তাদের বিরুদ্ধে এক রাজনৈতিক নেতাকে মারধরের অভিযোগে পৃথক একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। বর্তমানে ভুক্তভোগী শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে।
বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, “ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা নেওয়া হয়েছে। তবে তারা আগেই দায়ের হওয়া মারধরের মামলায় আসামি থাকায় গ্রেপ্তার করা হয়।”
শিশুটির পরিবারের দাবি, সোমবার দুপুরে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার বাড়িতে টিভি দেখতে গেলে ফেরার পথে অভিযুক্ত আশিকুজ্জামান মানিক একটি নির্জন গলিতে শিশুটির মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরে বিষয়টি জানালে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে অভিযোগপত্র ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও করেছেন তারা।
শিশুটির মা বলেন, “আমার মেয়ের ওপর নির্যাতনের বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো আমার স্বামী, ছেলে ও দেবরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা ন্যায়বিচার পাব কি না, তা নিয়েই এখন শঙ্কায়।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত আশিকুজ্জামান মানিক—বোদা উপজেলা বিএনপির সদস্য ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা—এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তাকে পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে বাড়িতে নিয়ে মারধর করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি রংপুরে চিকিৎসাধীন আছেন।
মানিক দাবি করেন, “আমার চোখ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আমার ওপর হামলা হয়েছে, আমার স্ত্রী-সন্তানও নিরাপদ নয়। আমাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে টার্গেট করা হয়েছে।”
বিএনপির স্থানীয় নেতারাও দাবি করেছেন, মানিক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করে আসছেন। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগটিকে ‘তদন্তসাপেক্ষ’ বলে মন্তব্য করেছেন তারা।
বোদা থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, পূর্ব বিরোধের জেরে একটি পক্ষ মানিককে মারধর করেছে। বিষয়টি স্পর্শকাতর। উভয় পক্ষের মামলা নেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “এজাহার ছিঁড়ে ফেলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে যেভাবে অভিযোগ করা হয়েছে, তা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি অন্য মামলার আসামিদেরও আইনি প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
ভুক্তভোগী শিশুটি বর্তমানে সদর হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার বারান্দায় চিকিৎসাধীন। সঙ্গে রয়েছেন তার মা। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শারীরিক পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


