২১শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
৬ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
১০ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

    সর্বশেষ খবর

    মাকে বিয়ে দিতে ছেলের বিজ্ঞপ্তি

    ডেস্ক রিপোর্ট : গর্ভধারণী  মা। সেই মাকে আবারো বিবাহ দিতে চান ছেলে। আর এ জন্য ছেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তিও দিয়েছেন। শুনে অবাক হলেন। অবাক হওয়ার কিছু নেই মা এবং পরিবারের সবার মতামতের ভিত্তিতে মাকে বিয়ে দেয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে  ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা  মোহাম্মদ অপূর্ব।

    এবার আসা যাক আসল ঘটনায়। বাবা ঈয়াদ আলী  মারা গেছেন বছর দুই আগে। বাবার মৃত্যুর পর  ৪২ বছর বয়সি মা ডলি আক্তার অনেকটা একা হয়ে গেছেন। দুই ছেলে মাকে যথেষ্ট সময় দিতে পারেন না। তবে তাঁরা মাকে বাকিটা জীবন ভালো রাখতে চান। তাই মায়ের সম্মতি নিয়ে তাঁর জন্য পাত্র খুঁজছেন তাঁরা। এ জন্যই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি আকারে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে অপূর্ব লিখেছেন, বাবা মারা গেছেন। তাই আম্মুর জন্য পাত্র খুঁজছি।মায়ের জন্য কেমন পাত্র চান, তা-ও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছেন ছেলে। মায়ের সঙ্গে মানানসই পাত্র চান। পাত্র ঢাকার আশপাশের হলে ভালো হয়। শিক্ষাগত যোগ্যতা কম হলে সমস্যা নেই।

    পাত্রের পেশা চাকরি বা ব্যবসা—যেকোনোটা হতে পারে। ধর্মকর্ম করার পাশাপাশি পাত্রকে সাদামাটা হতে হবে। যিনি মায়ের জীবনের বাকি চলার পথের সঙ্গী হতে পারবেন। পাত্রের বয়স ৪২ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে হলে ভালো হয়।

    বিজ্ঞপ্তি শেষ করা হয়েছে এভাবে, পারিবারিকভাবেই মায়ের বিয়ে দিতে ইচ্ছুক। বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে মা-ছেলে ও মায়ের একার ছবি যুক্ত করা হয়েছে।

    এ প্রসঙ্গে অপূর্ব  বলেন, তাঁদের দুই ভাইয়ের সঙ্গে মায়ের আগে থেকেই বন্ধুর মতো সম্পর্ক। বাবা মারা যাওয়ার আগে থেকেই তাঁরা সবাই বড় ভাই ইমরানের করা বাড়িতে থাকেন। বড় ভাই বিয়ে করেছেন। তাঁর পাঁচ বছর বয়সী এক সন্তান আছে।অপূর্ব বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার পর মা তাঁর অনেক কথাই আমাদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন না। অনেক কথা বলতে গেলে তিনি একটু দ্বিধায় পড়ে যান। আমরা বড় হয়েছি। আমাদের ব্যস্ততা আছে। এ কারণে আমরা মাকে যথেষ্ট সময় দিতে পারি না। বড় ভাইয়ের সংসার আছে। আমিও ভবিষ্যতে বিয়ে করব। তখন মা আরও একা হয়ে যাবেন। তাই আমরা সবাই চাচ্ছি, মায়ের একটা সুন্দর জীবন হোক। তাঁর একজন ভালো জীবনসঙ্গী দরকার।’

    অপূর্ব জানান, তিনি এ বিষয়ে তাঁর মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর সম্মতি পান। বড় ভাইও সম্মতি দেন। মা ও বড় ভাইয়ের অনুমতি নিয়েই তিনি গত শনিবার রাতে ফেসবুক গ্রুপে বিজ্ঞপ্তিটি দেন।

    অপূর্ব বলেন, ‘আমি নিজে উদ্যোগী হয়ে বিষয়টিকে এত দূর নিয়ে এসেছি। এখন আমাদের একটাই চাওয়া—মায়ের জন্য একজন ভালো জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া।’

    ডলি আক্তার বলেন, আমার এক ছেলে বিয়ে করেছে। আরেক ছেলে এখনো বিয়ে করেনি। জীবনে চলতে গেলে একজন সঙ্গীর প্রয়োজন হয়। আমার স্বামী মারা গেছেন। এখন ছেলেরা আমার কথা ভাবছে। আমি সম্মতি দিয়েছি।’

    ডলি আক্তার আরো বলেন, তিনি ভালো মনের একজন জীবনসঙ্গী আশা করেন। যিনি তাঁর দুই ছেলে, ছেলেবউসহ পরিবারের সবাইকে আপন করে নিতে পারবেন।

    ডলি আক্তার এ কথা বলতেই পাশ থেকে ছেলে অপূর্ব বলে ওঠেন, ‘মায়ের কষ্ট আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। যদি দেখি নতুন জীবনসঙ্গীর সঙ্গে মা ভালো নেই, তাহলে আমরা তাঁকে আমাদের কাছে নিয়ে আসব।’

    পরিবারের অন্য সদস্যরা এই উদ্যোগকে কীভাবে নিচ্ছেন, জানতে চাইলে অপূর্ব বলেন, ‘মায়ের দিকের আত্মীয়-স্বজনেরা রাজি। তাঁরা চান, মায়ের আলাদা একটা জীবন হোক। বাবার দিকের আত্মীয়-স্বজনেরাও দ্বিমত করেননি। তাছাড়া মা যেহেতু মত দিয়েছেন, তাই আর তো কোনো কথা থাকে না।’

    অপূর্বের ভাষ্য, সমাজে পরিবর্তন আসছে। এই পরিবর্তন সবাইকে মানতে হবে। মায়ের জন্য উপযুক্ত বর খুঁজে পাবে ছেলেরা এমনটাই আশা সবার।

    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

    Latest Posts

    spot_imgspot_img

    আলোচিত খবর