১০ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
১৩ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

    সর্বশেষ খবর

    মাঠে কাজ করা বা ফসল ফলানো এটা অত্যন্ত গৌরবের বিষয়, লজ্জার বিষয় নয় – প্রধানমন্ত্রী

    মাঠে কাজ করা বা ফসল ফলানো এটা অত্যন্ত গৌরবের বিষয়, লজ্জার বিষয় নয়। সেই ভাবেই আমাদের তরুণ প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাকালে যখন আমাদের কৃষি শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছিল না, ধান কাটতে আমি যখন আমাদের ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে সহযোগী সংগঠনের সকল ছেলে-মেয়েকে নির্দেশ দিলাম তোমরা মাঠে যাও, ধান কাটো কৃষকের পাশে। তারা কিন্তু ধান কেটেছে। অর্থাৎ যেটা খেয়ে তোমাদের জীবন বাঁচবে সেই কাজ করাটা লজ্জার না, গর্বের। সেই মানসিকতাটাও বদলানো প্রয়োজন ছিল। আজকে অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে এবং  আমাদের যুব সমাজকে আরও সম্পৃক্ত করা দরকার। আমার মনে হয় স্কুলজীবন থেকে সম্পৃক্ত করা দরকার।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু খাদ্য নিরাপত্তা ও ধান উৎপাদনকে বেশি প্রধান্য দিয়েছিলেন। জাতির পিতা চেয়েছিলেন আমাদের খাদ্য আমরা উৎপাদন করব। ১৯৭৩ সালে তিনি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন করে প্রতিষ্ঠা করে দিয়ে গবেষণার ওপর সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিজ্ঞা ছিল- কৃষককে সারের পেছনে ছুটতে হবে না, সার কৃষকের দোড়গোড়ায় পৌঁছে যাবে। আর সেই ব্যবস্থা আমরা ২০০৯ সালে সরকারে এসে গ্রহণ করি।

    ‘২০০৯ সালে যখন সরকার গঠন করি তখন দেখি ২৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি। সে কারণে পুনরায় কৃষি গবেষণা, উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকদের মাঝে উন্নত মানের সার বীজ সরবরাহ, কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করার পদক্ষেপ নেই। ফলে সেই অন্ধকার যুগ কাটিয়ে আমরা এখন সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী।

    শুধু ধান উৎপাদন না, ধানের সঙ্গে তরকারি-ফলমূল সবকিছু উৎপাদনেও কিন্তু বাংলাদেশ একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এজন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছি এবং দক্ষ মানবশক্তি তৈরি করার জন্য ইতোমধ্যেই আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। সেই সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবন সারা বিশ্বে হচ্ছে। বাংলাদেশেও উদ্ভাবন করতে হবে। আমাদের জলবায়ুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আরও নতুন উদ্ভাবন আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা চাই আমাদের দেশে এগিয়ে যাবে। আমরা আর পিছনে ফিরে তাকাব না।’

    তিনি বলেন, আমরা পার্লামেন্টে যেদিন ঘোষণা দিলাম বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে, আমাদের বিপক্ষে ছিল খালেদা জিয়া এবং বিএনপি। তাদের পক্ষ থেকে সাথে সাথে বলা হলো খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া ভালো নয়, বিদেশ থেকে সাহায্য পাওয়া যাবে না। আমার প্রশ্ন, বাংলাদেশ কি সারাজীবন ভিক্ষা চেয়ে চলবে আর বিদেশের উপর নির্ভর করে চলবে?

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ১১টায় গাজীপুরে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে পৌঁছালে দুই শিশু প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানায়। প্রধানমন্ত্রী হাসি মুখে শিশুদের কাছ থেকে ফুলের তোড়া গ্রহণ করেন। পরে তাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট চত্বরে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু-পিয়েরে ট্রুডো কৃষি প্রযুক্তি কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। তিনি কেন্দ্রটি ঘুরে ব্রি’র বিজ্ঞানীদের বিভিন্ন উদ্ভাবন ও বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং  এ সময় তিনি বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের পাঁচটি প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেন ।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাডার গ্লোবাল ইনস্টিটিউট অব ফুড সিকিউরিটির (সিইইউ) নির্বাহী পরিচালক ড. স্টেভিন ওয়েব, ফিলিপাইনের ইন্টারন্যাশনাল রাইস রিচার্স ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর জেনারেল ড. জেইন বালি। স্বাগত বক্তব্য দেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ওয়াহিদা আক্তার, কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক কৃষি বিজ্ঞানী ড. মো. শাহজাহান কবীর।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন  মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন ।

     

    মাহফুজা  ২৩-২

     

    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

    Latest Posts

    spot_imgspot_img

    আলোচিত খবর