২২শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
১৪ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি

    সর্বশেষ খবর

    পঞ্চগড়ে দেশের সর্বনিম্ন ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড

    সকালে সূর্য  উঠলেও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে পঞ্চগড়ে। টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহের শীতের দাপটে নাজেহাল হয়ে পড়েছে উত্তরের এ জেলা।

    শনিবার  সকাল ৯টায় ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ভোর ৬টায় রেকর্ড করা হয় ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে গত ১০ জানুয়ারি রেকর্ড করা হয়েছিল ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন জেলার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গত তিনদিন তাপমাত্রা বাড়লেও আজ নেমে এসেছে ৬ দশমিক ১ ডিগ্রিতে। গতকাল শুক্রবার রেকর্ড করা হয়েছিল ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    এদিকে সপ্তাহজুড়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের কারণে ঘন কুয়াশা আর হিমশীতল বাতাস বয়ে চলেছে। এতে হাড় কাঁপানো শীত অনুভূত হচ্ছে। তবে প্রতিদিনের মত শনিবার সকাল ৯ টার পর সূর্যের মুখ দেখা গেছে। রোদে স্থানীয়দের মাঝে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে।

    পঞ্চগড়ে সুর্যের মুখ দেখা গেলেও মিলছে না রোদের উষ্ণতা। শীত দুর্ভোগে পড়েছে নানান শ্রমজীবী-কর্মজীবী গরীব অসহায় মানুষ। পাথর শ্রমিক, চা শ্রমিক, দিনমজুর থেকে শুরু করে ছোটখাটো যানবাহন ভ্যান চালক মানুষগুলো পড়েছেন বিপাকে। তীব্র শীতের কারণে কাজে যেতে পারছেন না অনেকে।

    বীজতলা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরাও। তারা জানান, ঘন কুয়াশা আর কনকনে শীতের কারণে ক্ষেতখামারে কাজ করতে পারছেন না। অনেক দেরিতে মাঠে যেতে হচ্ছে। এখন বোরো মৌসুম, ভুট্টা, মরিচ, গমসহ বিভিন্ন ফসলের বীজ বপন করতে হচ্ছে। শীতের কারণে বেলা করে ক্ষেতে গিয়ে কাজ এগুচ্ছে না বলে জানান তারা।

    এদিকে শীতে প্রকোপে বেড়েছে নানান শীতজনিত রোগ। জ্বর, সর্দি-কাঁশি, শ্বাসকষ্ট, ডায়েরিয়া, নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগ নিয়ে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা। উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু।

    তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ বলেন, এ জেলার উপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। উত্তরদিক থেকে হিমালেয়ের হিমেল হাওয়া প্রবাহিত হওয়ায় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। সামনে আরো কয়েকদিন শৈত্যপ্রবাহ থাকবে বলে জানান তিনি।

    জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে এ পর্যন্ত চল্লিশ হাজার শীত বিতরণ করা হয়েছে।

    ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে এ জেলায় স্মরণকালে এ জেলায় ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল।

    শনিবার হালকা অথবা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। শুক্রবার  রাতে আবহাওয়াবিদ মনোয়ার হোসেন এ তথ্য জানান।

    তিনি জানান, শনিবার  সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খুলনা, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় হালকা অথবা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। তবে ঢাকায় বৃষ্টিপাতের কোনো আভাস নেই।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ফরিদপুর, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা জেলাসহ রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

    মাহফুজা ১৪-১

    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

    Latest Posts

    spot_imgspot_img

    আলোচিত খবর