২১শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
১৩ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি

    সর্বশেষ খবর

    প্রথম পর্বের বিশ্ব ইজতেমা শুরু ; তুরাগ নদীর তীর মুসল্লির সমাগমে মুখরিত

    তুরাগ নদীর তীরে আম বয়ানের মধ্যদিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব । শুক্রবার বাদ ফজর বয়ান শুরু করেন পাকিস্তানের মাওলানা জিয়াউল হক।

    আয়োজক সূত্র জানায়, উর্দুতে আম বয়ান শুরু হয়। পরে এ বয়ান বাংলাসহ কয়েকটি ভাষায় অনুবাদ করে শুনানো হয়। এরপর বাদ জুমা বয়ান করবেন মাওলানা ইসমাইল গুদর, বাদ আসর মাওলানা জুবায়ের আহমদ ও বাদ মাগরিব মাওলানা আহমদ  বয়ান করবেন। এসব বয়ানের বাংলা অনুবাদ করবেন বাংলাদেশের মাওলানা ওমর ফারুক।

    ইজতেমার আয়োজক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মো. মাহফুজ জানান, বৃহস্পতিবার প্রাথমিক আ’ম বয়ান শুরু হয়েছে। শুক্রবার বাদ ফজরে মূল বয়ানের মাধ্যমে ইজতেমা শুরু হয়েছে । আর রোববার আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত চলবে তাবলিগের ছয় উসুলের এ বয়ান। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের আলেমরা মূল বয়ান করবেন। মূল বয়ান বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষাভাষিদের জন্য তাৎক্ষণিক তরজমা করা হবে। আখেরি মোনাজাতের আগে হবে হেদায়েতি বয়ান।

    আজ দেশের বৃহত্তম জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে ইজতেমা ময়দানে। বেলা দেড়টার দিকে জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।  কাকরাইলের মুরুব্বি মাওলানা জুবায়ের আহমদ এ নামাজে ইমামতি করবেন বলে জানা গেছে। বৃহত্তর এ জুমায় শরিক হতে গাজীপুর, ঢাকাসহ আশপাশের জেলা থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানের দিকে আসতে শুরু করেছেন।

    মঙ্গলবার থেকে আসতে থাকা মুসল্লিদের ঢল শুক্রবারও অব্যাহত রয়েছে। জুমার নামাজে লাখ লাখ মুসল্লি এক সঙ্গে নামাজ আদায় করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    এ বছর প্রথম পর্বে চটের বিশাল সামিয়ানার নিচে মুসল্লিদের তিল ধরার কোনো ঠাঁই নেই। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মুসল্লিদের অনেকে মূল প্যান্ডেলের বাইরে খোলা স্থান ও সড়কের পাশে ফুটপাতে পলিথিন টানিয়ে অবস্থান নিয়েছেন।

    ইজতেমা ময়দানে হামদর্দ, ইবনে সিনা, যমুনা ব্যাংক ফাউন্ডেশন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, গাজীপুর সিটি করপোরেশনসহ শতাধিক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প মুসল্লিদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।

    ইজতেমা মাঠের সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশ ও র্যাব কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করেছে। সিসি ক্যামেরা মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা কন্ট্রেল রুম থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। খিত্তায় খিত্তায় সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা অবস্থান করছেন। এ ছাড়া বাইনোকুলার, মেটাল ডিটেক্টর, নৌ-টহল, চেকপোস্ট। দুই পর্বে প্রায় ১০ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ইজতেমার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন।

    গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুই পর্বে পোশাকে, সাদা পোশাকে পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকবেন সাড়ে ৭ হাজার সদস্য। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুুলিশ বিভাগ ১৪টি কন্ট্রোলরুম তৈরি করেছে।

    গাজীপুর সিটি করপোরেশন ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান  বলেন, মুসল্লিদের অনুরোধে আমরা সিটি কর্পোরেশন ৩০ হাজার গজ চটের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। পরিস্কার পরিচ্ছন্নের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা, মশা নিধন ঔষধসহ যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে।

    ইজতেমার মুরুব্বীদের দেয়া তথ্য মতে, ১৯৪৬ সালে প্রথম কাকরাইল মসজিদে ইজতেমার আয়োজন শুরু করা হয়। তারপর ১৯৪৮ সালে চট্টগ্রামের হাজী ক্যাম্পে ও ১৯৫৮ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৬৬ সালে গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে বর্তমানস্থলে স্থানান্তর করা হয়। পরে সরকারিভাবে ১৯৭২ সালে শেখ মুজিবুর রহমান তুরাগ তীরের ১৬০ একর জমি স্থায়ীভাবে ইজতেমার জন্য বরাদ্দ দেন।

    মাহফুজা ১৩-১

     

    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

    Latest Posts

    spot_imgspot_img

    আলোচিত খবর