২২শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
১৪ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি

    সর্বশেষ খবর

    দুর্নীতিই করে কেউ বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে, আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মেয়ে মেনে নিতে পারি না -প্রধানমন্ত্রী

    স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এবং দক্ষ জনশক্তি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে দেশে প্রযুক্তিখাতে ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাই না। ওগুলো বন্ধ করেন। সকল দেশ স্বাধীন সবার স্বাধীনভাবে চলার অধিকার আছে। যুদ্ধের ভয়াবহতা আমরা জানি।’  ‘বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে আহ্বান করবো, এই যুদ্ধ বন্ধ করেন। তাদের উসকানি দেওয়া বন্ধ করুন।

    শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    এসময় স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেখানে মাথাপিছু আয় ছিল মাত্র ৫৩৪ ডলার। আর বিএনপির আমলে তো মাত্র ৩৩৫ ডলার ছিল। আজকে আমাদের সেখানে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮২৪ মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে পেরেছি। আমরা যে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা করেছিলাম ২০১০ থেকে ২০২১ সেটা আমরা বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা আনতে পেরেছি।’

    আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে, আমি সেটা করতে দিতে পারি না। আমরা চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম- নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করবো। করেছি। বিমানবন্দর, সারাদেশে স্কুল-কলেজ, রাস্তাঘাট, ব্রিজ করেছি। এর আগে কোনো সরকার কি পেরেছে ১০০ ব্রিজ একসঙ্গে করতে? আওয়ামী লীগই পারে।

    আমার বাবা রাষ্ট্রপতি ছিলেন, প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আর আমি চার বারের প্রধানমন্ত্রী। আমাদের পরিবার দুর্নীতিই যদি করত, তাহলে দেশের মানুষকে আর কিছু দিতে পারতাম না। মানুষের জন্য করতে এসেছি। কেউ বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে, এটা অত্যন্ত আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মেয়ে মেনে নিতে পারি না।’

    শেখ হাসিনা বলেন, ভোট দেওয়ার অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার- আওয়ামী লীগই নিশ্চিত করেছে। আওয়ামী লীগেরে স্লোগান ছিল- আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দেবো। আমরা নির্বাচন কমিশন গঠন করে দিয়েছি। তাদের আর্থিক সক্ষমতা তাদের হাতে দিয়েছি। তারা যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সেই সুযোগ করে দিয়েছি। সবাইকে ভোটার আইডি কার্ড করে দিয়েছি। নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইন-২০২২ করে দিয়েছি।

    তিনি বলেন, আমাদের যদি ভোট চুরির নিয়ত থাকতো, তাহলে তো খালেদা জিয়ার মতো আজিজ মার্কা নির্বাচন কমিশন করতে পারতাম। আমরা সেটা করিনি।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এরকম এক সম্মেলনে আমার অনুপস্থিতিতে আমাকে সভাপতি করা হয়। ছেলেমেদের দায়িত্ব রেহানার ওপর ছেড়ে দিয়ে চলে এসেছিলাম।

    তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যাতে সরকারে না আসতে পারে, অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের এতটুকু স্বার্থ আমার জীবন থাকতে কারও হাতে তুলে দেবো না, এটাই ছিল আমার প্রতিজ্ঞা।

    শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা চেয়েছিলেন বাংলাদেশ হবে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ। তিনি দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করতে চেয়েছিলেন। দুর্ভাগ্য তিনি সেটা পারেননি। আমরা সেটা করছি।

    ৯৬ সাল থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা শুরু করেছিলাম ভূমি ও গৃহহীনদের ঘর দেওয়ার কাজ। আজকে ৩৫ লাখ গৃহহীন ও ভূমিহীনদের ঘর দিয়েছি।

    তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে ২২ হাজার চিকিৎসক এবং ৩০ হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছি। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে ৩০ প্রকার ওষুধ বিনামূল্যে দিয়েছি। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে এটা বন্ধ করে দিয়েছিল। এরা তো মানুষের কথা চিন্তা করে না।

    তিনি বলেন, আজকে ৭৪ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ বয়স্ক বিধবা এবং স্বামী নিগৃহীত, তারা ভাতা পাচ্ছেন। যেখানে আমরা খরচ করছি ৯৮১ কোটি ১২ লাখ টাকা। মানুষ যেন কষ্টে না থাকে সেজন্য এই সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এর বাইরে প্রতিটি প্রতিবন্ধী মানুষকে আমরা ভাতা দিই। দুই কোটি ৫৩ লাখ শিক্ষার্থীকে আমরা কিন্তু বৃত্তি দিয়ে যাচ্ছি করোনার সময়ে তা বন্ধ হয়নি, বরং প্রতিটি শিক্ষার্থীকে এক হাজার টাকা করে প্রণোদনা দিয়েছি প্রয়োজনীয় উপকরণ কেনার জন্য। আমরা আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী দিচ্ছি।

    এতে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।

    মাহফুজা ২৪-১২

     

    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

    Latest Posts

    spot_imgspot_img

    আলোচিত খবর