১৬ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
৮ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি

    সর্বশেষ খবর

    শীত শুরু হতেই আবার বাড়তে শুরু করেছে করোনার সংক্রমণ; বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও

    বিগত কয়েক মাস ধরেই বিশ্বজুড়ে করোনা সংক্রমণের হার ছিল নিম্নমুখী। এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে তুলে নেয়া হয় কোভিডের কঠোর সব বিধিনিষেধ। তবে শীত মৌসুম শুরু হতে না হতেই আবার বাড়তে শুরু করেছে এর সংক্রমণ; বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও। এতে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ।

    আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বুধবার জাপানে করোনা শনাক্ত হয়েছে প্রায় দুই লাখ মানুষের দেহে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রেও বাড়ছে আক্রান্তের হার। চীনেও করোনা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ভারতে নতুন করে এ সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    জাপানের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বুধবার দেশটিতে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা আগস্ট মাসের পর দেশটিতে সর্বোচ্চ। বিধিনিষেধ শিথিল করায় কেবল নভেম্বর মাসেই ১০ লাখের বেশি পর্যটকের আগমন হয় জাপানে। এটিকেই সংক্রমণ বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে আবারও বিধিনিষেধ দেয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি দেশটির সরকার।

    ভারতে নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বুধবার এক বিবৃতিতে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মান্ডবীয় জানান, চীনে করোনার নতুন ধরনটি আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, ওমিক্রনের সেই ‘বিএফ.সেভেন’– আক্রান্ত তিনজন রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে ভারতে।পরিস্থিতি নাজুক মন্তব্য করে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে গণপরিবহনসহ যেকোনো জনসমাগমস্থলে সবাইকে মাস্ক পরে চলাচলের আহ্বান জানান তিনি।

    বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, চীনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ডব্লিউএইচও খুবই উদ্বিগ্ন। আমরা ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে চীনকে সহায়তা করছি। এমনকি আমাদের পক্ষ থেকে চীনা নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় সহায়তার প্রস্তাব অব্যাহত থাকবে।

    চীন সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চীনে করোনা মহামারি শুরুর পর এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ২৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির কবরস্থানে মরদেহের সারি দেখা গেলেও মঙ্গল ও বুধবার নতুন করে করোনায় কেউ মারা যায়নি বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।

    দেশটির স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, চীনের জনসংখ্যা বিবেচনায় সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বিভিন্ন দেশের তুলনায় অনেক কম।

    অন্যদিকে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত গবেষণা প্রতিষ্ঠান এয়ারফিনিটি জানায়, চীনে প্রতিদিন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে এবং  দিনপ্রতি মৃত্যুর সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি।

    বুধবার সাংহাই শহরের ডেজি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের ধারণা, এ মুহূর্তে শহরটির ৫৪ লাখ ৩০ হাজার নাগরিক করোনা পজিটিভ। বছর শেষ হতে এ সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখে উন্নীত হতে পারে।

    চীনে গণবিক্ষোভের মুখে পড়ে করোনার কঠোর বিধিনিষেধ শিথিলের পর হু হু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বুধবারও আক্রান্ত হন আড়াই হাজারের বেশি। আর গত দুদিনে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। তবে সংক্রমণ বাড়লেও, সাধারণ মানুষ এখনো টিকা নিতে অনীহা প্রকাশ করছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ

    ২০২০ সাল থেকে দেশটিতে ‘জিরো কোভিড নীতি’ চালু করা হয়,যা চলতি মাসের শুরুর দিকেও জারি ছিল। কিন্তু সম্প্রতি কঠোর ওই বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ জানাতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা না মেনে রাস্তায় নেমে আসেন হাজার হাজার চীনা নাগরিক।

    বিক্ষোভের মুখে ৭ ডিসেম্বর অধিকাংশ বিধিনিষেধ তুলে নেয় শি জিনপিং প্রশাসন। এরপর থেকেই দেশটিতে করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকে।

    মাহফুজা ২২-১২

    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

    Latest Posts

    spot_imgspot_img

    আলোচিত খবর