২২শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
১৪ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি

    সর্বশেষ খবর

    চট্টগ্রাম টেস্টে বড় হার বাংলাদেশের

    সামনে ছিল ৫১৩ রানের লক্ষ্য। যেখানে টেস্ট ইতিহাসেই ৪১৮ রানের বেশি তাড়া করে জেতার রেকর্ড নেই, সেখানে বাংলাদেশ এই ম্যাচে অসাধ্য সাধন করে ফেলবে, এমন ভাবা বাড়াবাড়িই ছিল।

    তবে দুই ওপেনার নাজমুল হোসেন  আর জাকির হাসান উদ্বোধনী জুটিতে ১২৪ রান তুলে দেওয়ার পর আশায় বুক বেঁধেছিলেন সমর্থকরা। বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন ছুঁতে পারলো না। যেতে পারলো না কাছাকাছিও। চট্টগ্রাম টেস্টে সাকিব আল হাসানের দলকে ১৮৮ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে দুই ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে ভারত।

    এই টেস্টে প্রথম ইনিংসটাই পিছিয়ে দিয়েছিল টাইগারদের। তাদের ১৫০ রানে গুটিয়ে দিয়ে ভারত অলআউট হয় ৪০৪ রানে। উইকেটের অবস্থা দেখে বাংলাদেশকে আর ফলোঅন করায়নি ভারত। দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে নেমে ২ উইকেটে ২৫৮ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। বাংলাদেশের সামনে জয়ের রক্ষ্য দাঁড়ায় ৫১৩ রানের।

    দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য লড়েছে সাকিব বাহিনী। শেষ পর্যন্ত ১১৩.২ ওভারে অলআউট হয়েছে ৩২৪ রানে। ৬ উইকেটে ২৭২ রান নিয়ে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। সাকিব ৪০ আর মিরাজ ৯ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন। জিততে হলে শেষ দিনে বাংলাদেশকে করতে হতো আরও ২৪১ রান।

    সাতসকালে মিরাজ মোহাম্মদ সিরাজের শিকার হয়ে ফিরলে সেই সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়। লোয়ার অর্ডার নিয়ে ওতদূরের পথ পাড়ি দেওয়া অসম্ভব, বুঝে গিয়েছিলেন সাকিব। তাই সঙ্গী হারিয়ে মারমুখী ভূমিকায় হাজির হন টাইগার অধিনায়ক।

    যেভাবে খেলছিলেন, সেঞ্চুরির সম্ভাবনাও ছিল। তবে শেষতক আর হয়নি। ১০৮ বলে ৮৪ রান করে কুলদ্বীপ যাদবের বলে বোল্ড হয়েছেন সাকিব। মারমুখী ইনিংসে ৬টি চারের সঙ্গে সমান সংখ্যক ছক্কা হাঁকান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

    সাকিব ফেরার পর আর সময় লাগেনি ভারতের। ৪ রানের মধ্যে তারা তুলে নিয়েছে বাকি দুই উইকেট। তাইজুল ইসলাম ৪ আর এবাদত আউট হন শূন্য রানে।

    অক্ষর প্যাটেল ৭৭ রান খরচায় নেন ৪টি উইকেট। ৩ উইকেট শিকার প্রথম ইনিংসে ফাইফার নেওয়া কুলদ্বীপ যাদবের।

    ম্যাচ চতুর্থ দিনই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছিল ভারত। আজ ছিল স্রেফ আনুষ্ঠানিকতা। তবুও সাকিব আল হাসান ক্রিজে থাকায় আশার প্রদ্বীপ জ্বালিয়ে রেখেছিল স্বাগতিকরা। কুলদীপের বলে সাকিব বোল্ড হলে সফরকারীদের জয় হাতের মুঠোয় চলে আসে। তবে সাকিবের ৩৮ মিনিটের ব্যাটিংয়ে স্টেডিয়ামে হাজির হওয়া হাতে গোনা দর্শক কিছুটা হলেও আনন্দ পেয়েছে। আগের দিনের ২৭২ রানের সঙ্গে রোববার ৫২ রান যোগ করে বাংলাদেশ। তাতেই শেষ ৪ উইকেট।

    ৫১৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশ অলআউট ৩২৪ রানে। ভারত পেয়ে যায় ১৮৮ রানের বিশাল জয়। সঙ্গে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ১২ পয়েন্ট। আজকের ৫২ রানের ৪৪ রানই করেছেন সাকিব। এজন্য খেলেছেন ৩৯ বল। ৪৪ রান তুলতে সাকিব ছক্কা হাঁকিয়েছেন ৪টি, চার ৩টি। মানে ৩৬ রান এসেছে ৭ বলে। বাকিটা এক-দুইয়ে। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের সামনে সুযোগ ছিল পাঁচ বছর পর টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার। অক্ষর পাটেল, সিরাজদের যেভাবে ছক্কা উড়িয়েছেন তাতে মনে হচ্ছিল জহুর আহমেদ তার ব্যাটে সেঞ্চুরি আঁকা হবে। কিন্তু কুলদীপকে বোলিংয়ে এনে সাকিবকে ফেরানোর পথ খুলে দেন রাহুল। তার বল সুইপ করতে গিয়ে ৮৪ রানে বোল্ড হন বাংলাদেশের অধিনায়ক। ১০৮ বলে ৬টি করে চার ও ছক্কায় সাজান তার ৮৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস।

    মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে সাকিব দিনের খেলা শুরু করেছিলেন। লক্ষ্য থেকে ২৪১ রান পিছিয়ে দিন শুরু করেন তারা। আজ হারানোর মতো কিছু ছিল না বাংলাদেশের। সাকিব, মিরাজের প্রতিরোধ প্রাপ্তির খতিয়ান লম্বা করতে পারতেন। শুরুটা মিরাজ খারাপ করেননি। দারুণ কভার ড্রাইভে চার মেরে দিন শুরু করেন। এক ওভার পর প্রায় একই শট খেলেছিলেন। কিন্তু এবার পয়েন্টে আটকে যান। শরীরের থেকে দূরের বল জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন মিরাজ। এরপর চলে সাকিবের ৩৮ মিনিটের শো। যেখানে অক্ষরকে মিড উইকেট, ডিপ মিড উইকেট ও লং অন দিয়ে উড়িয়েছেন ছক্কা। সিরাজকে পুল করে ফাইন লেগ দিয়ে যে ছক্কা হাঁকিয়েছেন তা ছিল চোখ ধাঁধানো।

    সাকিবের এরকম এলোপাতাড়ি ব্যাটিংয়ে একটুও ঘাবড়ে যায়নি ভারত। উল্টো তাদের ফিল্ডিং ছিল আঁটসাঁট। কুলদীপকে বোলিংয়ে এসে সাকিবের উইকেট পেতে স্রেফ ছয় বল নেন রাহুল। তাইজুলের সঙ্গে সাকিবের জুটি ছিল ৩৭ রানের। সবকটি রানই এসেছেন সাকিবের ব্যাট থেকে। এরপর ইবাদত ও তাইজুলকে পরপর দুই ওভারে ফিরিয়ে জয়ের বাকি কাজ সারেন কুলদীপ ও অক্ষর।

    পঞ্চম দিনে মাত্র ৪৯ মিনিটের খেলায় শেষ ৪ উইকেট তুলে সহজ জয় নিশ্চিত করে ভারত। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা চাইলে নিজেদের স্থির রেখে প্রতিরোধ গড়তে পারতেন। চাইলে লড়াই চালিয়ে ম্যাচটা লম্বাও করতে পারতেন। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটের আসল খেলাটাই তো এখনও বুঝে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে বিব্রতকর হারের তালিকায় আরেকটি পরাজয়ও যুক্ত হলো।

    শেষ পর্যন্ত প্রথম টেস্টে ১৮৮ রানে বড় হারই সঙ্গী হলো বাংলাদেশের। এদিকে প্রথম ইনিংসে ৫ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট পাওয়ায় ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে কুলদীপের হাতে। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ২২ ডিসেম্বর মিরপুরে।

    মাহফুজা ১৮-১২

     

    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

    Latest Posts

    spot_imgspot_img

    আলোচিত খবর