২২শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
১৪ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি

    সর্বশেষ খবর

    বৈশ্বিক মন্দায় সঙ্কটে ভয় না পেয়ে তা মোকাবিলা করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    বৈশ্বিক মন্দায় সঙ্কট আসতে পারে, ভয় না পেয়ে তা মোকাবিলা করে সফল হওয়ার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

    দেশ যখন নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, সে সময় স্বাধীনতা এবং উন্নয়নবিরোধী একটি গোষ্ঠী অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানান সরকার প্রধান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের সরকার এবং  মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। মানুষের ভোগান্তি হোক, কষ্ট হোক, তা আমরা কখনই চাই না। বৈশ্বিক কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল। তা এখন অনেকটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে এবং  মূল্যস্ফীতিও হ্রাস পাচ্ছে।’আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলসহ কোনো জিনিসের দাম কমার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তা সমন্বয় করব।’

    তিনি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জয়ী হয়। এরপর ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে। ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রয়েছে।

    শেখ হাসিনা বলেন, ব্যাংকে টাকা নেই বলে গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। অযথা গুজবে কান দেবেন না। ব্যাংকে টাকার কোনও ঘাটতি নেই। উপার্জিত টাকা ঘরে রেখে বিপদ ডেকে আনবেন না। আমাদের বিনিয়োগ, রেমিটেন্স প্রবাহ এবং আমদানি-রফতানি পরিস্থিতি সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। এ ছাড়া আমাদের রিজার্ভ নিয়ে অনেকেই নানা মনগড়া মন্তব্য করছেন। তিন মাসের আমদানি খরচ মেটানোর মতো রিজার্ভ থাকলেই চলে। বর্তমানে আমাদের পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো বৈদেশিক মুদ্রা মজুদ আছে।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের মাটি ঊর্বর। আমি আপনাদের অনুরোধ করছি, এক ইঞ্চি জমিও পতিত রাখবেন না।’

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘সঙ্কট আসবে এবং  সঙ্কটে ভয় পেলে চলবে না। জনগণের সহায়তায় আমরা করোনা সফলভাবে মোকাবিলা করেছি। বর্তমান বৈশ্বিক মন্দাও আমরা মোকাবিলা করব, ইনশাআল্লাহ। এজন্য আপনাদের সহযোগিতা চাই।’

    তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধের প্রভাব কোনো একক দেশের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ-পরবর্তী অর্থনৈতিক অবরোধ-পাল্টা অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সময়োচিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে আমরা মানুষের প্রাণহানি যেমন কমাতে পেরেছি, তেমনি অর্থনীতিকে সচল রাখতে সক্ষম হয়েছি। করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আমরা জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন হাসপাতালে ১৫ হাজার শয্যা বৃদ্ধি করেছিলাম। স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার জন্য পিপিই, রোগীর জন্য অক্সিজেন, ভেন্টিলেটর, জরুরি ওষুধসহ সকল উপকরণ সরবরাহ করা হয়।’

    ‘টিকা পাওয়ার উপযোগী সবাইকে বিনামূল্যে প্রায় ৩৪ কোটি টিকা দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৪ কোটি ৯০ লাখ মানুষ প্রথম ডোজ, ১২ কোটি ৬৫ লাখ ২৫ হাজার দ্বিতীয় ডোজ এবং ৬ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ বুস্টার ডোজ পেয়েছেন।’

    তিনি বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২২ হাজার ডাক্তার এবং ৪০ হাজার নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শিল্পকারখানায় উৎপাদন অব্যাহত রাখতে ২৮টি প্যাকেজের আওতায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। গার্মেন্টসসহ অন্যান্য শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা হয়েছে। ৫০ লাখ প্রান্তিক মানুষকে দুই দফায় আড়াই হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

    সরকারপ্রধান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, ভোজ্য তেল, গম, চিনি, ভুট্টা, ডাল, রাসায়নিক সারসহ প্রায় সকল ভোগ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পরিবহন খরচ বহু গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে আমরা পৃথিবীর যেখানেই আমাদের চাহিদার পণ্য পাওয়া যাচ্ছে এবং যত দামই হোক, সেখান থেকেই তা সংগ্রহ করছি এবং যোগান দিচ্ছি।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই কার্ডের মাধ্যমে  পরিবারগুলো ৩০ টাকা কেজি দরে চাল ও সাশ্রয়ীমূল্যে ভোজ্য তেল, ডাল ও চিনি সংগ্রহ করতে পারছেন। ৫০ লাখ পরিবার ১৫ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি চাল কিনতে পারছেন। অসহায় মানুষদের ভিজিডি ও ভিজিএফের মাধ্যমে ৩০ কেজি করে চাল প্রতিমাসে বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের কাছে আস্থা হারিয়ে বিএনপি-জামায়াত এখন বিদেশিদের কাছে ধরনা দিচ্ছে। জনগণ তাদের প্রত্যাখান করেছিল। এ দেশের জনগণ বিএনপি-জামায়াতকে চিনে ফেলেছে। তাই যড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না।বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘পঁচাত্তরের পর ২৯ বছর মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিল এবং তারা দেশের সম্পদ লুটে-পুটে খেয়ে দেশটাকে খোকলা বানিয়েছিল। এখনও এ দেশে একাত্তরের শকুনি এবং পঁচাত্তরের হায়েনাদের বংশধরেরা সক্রিয় আছে।’

    ‘সুযোগ পেলেই তারা দন্ত-নখর বসিয়ে দেশটাকে ক্ষত-বিক্ষত করে ফেলে। সাধারণ মানুষ ভালো আছে দেখলে এদের গায়ে জ্বালা ধরে। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। কিন্তু, বাংলাদেশের মানুষ এদের চিনে ফেলেছে। ষড়যন্ত্র করে আর তাদের বিভ্রান্ত করা যাবে না’, বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জিয়াউর রহমান এদের রাজনীতিতে পুনর্বাসন করেন। পুনর্বাসিত হয়ে এরা আবার হত্যা ও সন্ত্রাসের রাজনীতি শুরু করে।

    তিনি বলেন, এদের (বিএনপি) প্রত্যক্ষ মদদে হরকাতুল জিহাদ, বাংলাভাই, জামায়াতুল মুজাহিদিন ইত্যাদি জঙ্গি সংগঠন গড়ে ওঠে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে গ্রেনেড হামলা করে আমাকে এবং আমার দলের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করতে চেয়েছিল। আমি বেঁচে গেলেও সেইদিন ২৪ জন নেতাকর্মী মারা যান। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারা দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে পাঁচ শতাধিক স্থানে বোমা হামলা চালায়।

    শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৩ সালে সারা দেশে বিএনপি-জামায়াত অগ্নি এবং পেট্রল বোমা সন্ত্রাসের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। ২০১৫ সাল পর্যন্ত যা অব্যাহত থাকে। এ সময় তাদের পেট্রল বোমা হামলায় ৫০০ জন নিরীহ মানুষ নিহত হয় এবং ৩ হাজার ১৮০ জন দগ্ধ হন। দগ্ধ শরীরের যন্ত্রণা আজও অনেকেই বয়ে বেড়াচ্ছেন। এ সময় বিএনপি-জামায়াত জোট সন্ত্রাসীরা হাজার হাজার কোটি টাকার সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি ধবংস করে। এদের হামলায় সাড়ে তিন হাজার বাস-ট্রাক, ২৯টি ট্রেন, ৯টা লঞ্চ পুড়ে ধ্বংস হয়। ৭০টি সরকারি অফিস ও স্থাপনা ভাংচুর করে এবং ৬টি ভূমি অফিস সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেয়।

    প্রধানমন্ত্রীর ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও স্টেশনগুলোতে সম্প্রচার করা হয়।

    মাহফুজা ১৫-১২

     

    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

    Latest Posts

    spot_imgspot_img

    আলোচিত খবর