ডিজিটাল বাংলাদেশ করা হয়েছে, এবার আমাদের টার্গেট আগামীর বাংলাদেশ হবে স্মার্ট বাংলাদেশ বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সোমবার ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস-২০২২ এর উদ্বোধনী ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এদিন প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কে জয় সিলিকন টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু মিউজিয়াম এবং বরিশালে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং সেন্টার উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার বয়স হয়েছে যেকোনো সময় চলে যেতে পারি। পরিকল্পনা করে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সুন্দর পথ প্রদর্শন করে যাচ্ছি। বেঁচে থাকলে বাস্তবায়ন করবো, না হয় তরুণরা করবে।
২১০০ সালের ‘ডেল্টা প্ল্যান’ করে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘২০২১ থেকে ৪১’ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করে দিয়ে গেলাম। কিভাবে দেশের উন্নয়নটা হবে তার একটা কাঠামো পরিকল্পনা প্রণয়ন করে সেটা বাংলাদেশের জনগণের জন্য আমি রেখে যাচ্ছি। আর ২১০০ সালের এই ব-দ্বীপ প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন এই ব-দ্বীপে জলবায়ুর অভিঘাত থেকে রক্ষা পায়, দেশ উন্নত হয় এবং উন্নত দেশে স্বাধীনভাবে সুন্দরভাবে যেন স্মার্টভাবে বাঁচতে পারে সেই ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।’
তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে স্মার্ট বাংলাদেশ। স্মার্ট বাংলাদেশের চারটি মৌলিক স্তম্ভ। এক, স্মার্ট সিটিজেন। প্রতিটি নাগরিক (সিটিজেন) প্রযুক্তি ব্যবহারে হবে দক্ষ এবং উপযোগী। দুই, স্মার্ট ইকোনমি। আমাদের অর্থনীতির সব লেনদেন ও ব্যবহার হবে প্রযুক্তি নির্ভর। তিন, স্মার্ট গভর্নমেন্ট। সরকারি সব সুযোগ সুবিধা ও কর্মকাণ্ড হবে প্রযুক্তর নির্ভর, প্রযুক্তির ব্যবহার হবে সর্বত্র। এবং সবশেষ স্মার্ট সোসাইটি। আমাদের পুরো সমাজটাই হবে প্রযুক্তি বান্ধব।
নিজেও ছেলের কাছ থেকে কম্পিউটার বিষয়ক জ্ঞান আহরন এবং শিখেছেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আজকে সারাদেশে ব্রডব্যান্ড সেবা পৌঁছে গেছে। জয় পরামর্শ না দিলে এটা করা সম্ভব হতো না। ডিজিটাল বাংলাদেশে আজ প্রত্যন্ত অঞ্চলেও কানেক্টেভিটি আছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ করা হয়েছে বলেই করোনাকালে কোনো কাজ থেমে থাকেনি। অফিস থেকে শুরু করে আদালত, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি অফিসসহ সবকিছু ভার্চুয়ালি চলমান ছিল।
প্রযুক্তি ব্যবহারের সুফল তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এখন ১৮ কোটি মোবাইল সিম ব্যবহার হয়। পৃথিবীর বোধহয় আর কোনো দেশে এত সিম ব্যবহার হয় না। শ্রমিকদের বেতন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপবৃত্তি বাচ্চাদের মায়েদের মোবাইল ফোনে চলে যায়। এই বৃত্তি দেওয়ার সময় ২০ লাখ মায়ের মোবাইল ফোন ছিল না। তাদের মোবাইল ফোন কিনে দিয়ে সেটা চালু করা হয়েছে।
সরকার প্রধান বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বলেছিলাম প্রত্যেকটি ফাইল কম্পিউটারে আসতে হবে। আগে কম্পিউটার কেউ ব্যবহার করতো না।
’৯২ সালে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে ইন্টারনেটে যুক্ত হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করায় বিএনপির সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এতে আন্তর্জাতিক লিংক থেকে বাংলাদেশ দূরে সরে ছিলো। ৯২ সালে আমরা একটা সুযোগ পেয়েছিলাম সাবমেরিন ক্যাবল যখন ভারতসহ আশপাশের দেশগুলো সংযুক্ত হয়। বাংলাদেশ সেই সুযোগ পেলেও খালেদা জিয়া নেয়নি। এতে সব তথ্য নাকি বিদেশি চলে যাবে। পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হয় বাংলাদেশ।
এ সময় ফ্রিল্যান্সাররা যাতে তাদের সার্বিক কর্মকাণ্ড ও কাজ নিবিড় ও ঝামেলাহীনভাবে করতে পারেন সেজন্য সরকারের সহায়ক বিভিন্ন পদক্ষেপও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তার সরকার ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের দাম কমিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার আরও সহজলভ্য করেছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
মাহফুজা ১২-১২


