১৯শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
২রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ
১১ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি

    সর্বশেষ খবর

    আজ নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭৫তম জন্মদিন

    আজ নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭৫তম জন্মদিন। দীর্ঘকাল ধরে লেখার জাদুতে পাঠককে ধরে রেখেছেন তিনি।

    এই নন্দিত লেখক  ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, চলচ্চিত্র সব শাখাতেই অসম্ভব সফল । তিনি তার লেখায় প্রতিটি লাইনে  পাঠককে চমকে দিতেন। অনেক লেখক দেখা যায় দু–চার পাতা পর একটা চমক দেন,যাতে পাঠক পরের অধ্যায় পড়তে আগ্রহ বোধ করেন। আর হুমায়ূন আহমেদ পাঠককে চমকে দিতেন ক্ষণে ক্ষণে।

    তিনি আসলেই ছিলেন কথার জাদুকর । লেখার জাদুতে তিনি যেমন আলোড়ন তুলেছেন, তেমনি সৃজনশীলতার সব শাখাতেই পাঠক ও দর্শকদের নিয়ে সাম্রাজ্য গড়েন।

    তার জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়ায়। ডাকনাম কাজল এবং বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজ। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা এবং  মা গৃহিণী। তিন ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। কথাসাহিত্যিক জাফর ইকবাল তার ছোট ভাই এবং  সবার ছোট ভাই আহসান হাবীব নামকরা কার্টুনিস্ট ও রম্যলেখক।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন তিনি । অথচ কথা সাহিত্যে- নন্দিত নরকে, লীলাবতী, কবি, শঙ্খনীল কারাগার, গৌরিপুর জংশন, নৃপতি, বহুব্রীহি, এইসব দিনরাত্রি, দারুচিনি দ্বীপ, শুভ্র, নক্ষত্রের রাত, কোথাও কেউ নেই, আগুনের পরশমণি, শ্রাবণ মেঘের দিন, জোছনা ও জননীর গল্প, এমন অসংখ্য উপন্যাস আমাদেরউপহার দিয়েছেন । তিনশ’র উপরে তার বইয়ের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে।

    হুমায়ূন আহমেদ প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ দিয়েই সাড়া ফেলেন। তার উপন্যাসের নাট্যরূপ ধারাবাহিকভাবে টেলিভিশনে প্রচারিত হলে সেখানেও দর্শকদের সাড়া। আবার যখন চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন তাপায় দর্শকপ্রিয়তা। তার চলচ্চিত্র আগুনের পরশমণি, শ্যামল ছায়া, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, নয় নম্বর বিপদ সংকেত ও ঘেটুপুত্র কমলা সবগুলোই ছিলো দর্শকপ্রিয় ও ব্যবসা সফল।

    চলচ্চিত্র বা নাটকের জন্য তিনি গান লিখেছেন, আবার তাতে সুরও দিয়েছেন- যা আজও জনপ্রিয়।‘যদি মন কাঁদে তুমি চলে এসো ’, ‘চাঁদনী পসরে কে’, ‘ও আমার উড়াল পঙ্খীরে’, ’এক যে ছিল সোনার কন্যা’, ‘আমার ভাঙ্গা ঘরে ভাঙ্গা বেড়া ভাঙ্গা চালার ফাঁকে’, ‘চাঁদনী পসর রাইতে যেন আমার মরণ হয়’ আজো মানুষের মুখে মুখে ফেরে  এসব গান।

    ১৯৯৪ সালে সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক `একুশে পদক` লাভ করেন তিনি।  এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮১), হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩ ও ১৯৯৪), বাচসাস পুরস্কার (১৯৮৮) লাভ করেন।

    ২০১২ সালের ১৯ জুলাই মাত্র ৬৪ বছর তিনি চলে যান না ফেরার দেশে। ক্যানসারের চিকিৎসায় যুক্তরাষ্ট্রে যাবার পর সেখানেই তিনি মারা যান। সেখান থেকে মরদেহ ঢাকায় আনার পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে লাখো মানুষের অশ্রু পুষ্পতে তিনি সিক্ত হন । নুহাশপল্লীর লিচুতলায় ২৪ জুলাই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় তাকে।

    মাহফুজা ১৩-১১

    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

    Latest Posts

    spot_imgspot_img

    আলোচিত খবর