১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
৩রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

    সর্বশেষ খবর

    পাবনা চরতারাপুরে কৃষক আব্দুস সালাম হত্যার ঘটনায় ২১ জন আসামির যাবজ্জীবন

    পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুরে কৃষক আব্দুস সালাম হত্যার ঘটনায় আদালত ২১ জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন । এছাড়াও প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত।

    সোমবার দুপুরে এই রায় ঘোষণা করেন পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয় আদালত) আদালতের বিচারক ইসরাত জাহান ।

    সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- সদর উপজেলার ভাদুরীডাঙ্গী গ্রামের সোবাহান মোল্লার ছেলে শাহজাহান মোল্লা, আব্দুল বাছেদ শেখের ছেলে মিনহাজ উদ্দিন, শাকের মোল্লার তিন ছেলে ছেলে নবী শেখ, সুলতান মাহমুদ পক্ষী ও মোক্তার হোসেন,  মৃত ছোবা শেখের ছেলে বাছেদ শেখ, ইনাই খাঁর ছেলে আইয়ুব খাঁ, আমির মোল্লার ছেলে আসলাম মোল্লা, গফুর মোল্লার ছেলে লতিফ মোল্লা, রুস্তম মোল্লার ছেলে ছোবাই মোল্লা, বাহাই প্রামানিকের ছেলে কালাম হোসেন, আকুল মোল্লার ছেলে মহির মোল্লা, হাচেন মোল্লার ছেলে মোহাম্মদ আলী মোল্লা ও রেজাউল মোল্লা, গফুর মোল্লার ছেলে বাবু মোল্লা, সুজানগর উপজেলার চর ভবানীপুর গ্রামের করিম মোল্লার দুই ছেলে মোকছেদ মোল্লা ও বারেক মোল্লা,  মৃত বশির মোল্লার ছেলে করিম মোল্লা, ভবানীপুর কাচারী মাঠ সংলগ্ন আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে খোকন, মানিকদিয়ার গ্রামের হবিবরের ছেলে রফিক এবং সদর উপজেলার কোলচুরি গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে বাবলু।

    সাজাপ্রাপ্ত ২১ জনের মধ্যে বারেক, মিনহাজ, বাবলু, বাছেদ শেখ, লতিফ মোল্লা, ছোবাই পলাতক আছেন। তাদের বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং  বাকি ১৫ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    ১৯৯৮ সালের ৭ নভেম্বর সালাম কৃষি জমিতে কাজ  করছিলেন। পূর্বশত্রুতার জেরে আসামিরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে ঘিরে ধরে। সালাম দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করলে পেছন থেকে গুলি করা হয়। এসময় সালাম মাটিতে পড়ে গেলে তাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

    এ ঘটনায় ২৪ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন তার ভাই জব্বার। পুলিশ ১৯৯৯ সালের ১ আগস্ট ২৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় । ৩ জন আসামির মারা যাওয়ায় দীর্ঘ স্বাক্ষী ও শুনানি শেষে আজ ২১ জন আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হলো।

    আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সনৎ কুমার সরকার এবং রাষ্ট্রপক্ষ পক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত সরকারি কৌশুলি (অতিরিক্ত পিপি) অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী।

    অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী বলেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড করা হয়। সাক্ষ্য ও তদন্তে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রামাণিত হয়েছে। আদালত তাদের উপযুক্ত শাস্তি দিয়েছেন এবং  আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট।

    তবে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সনৎ কুমার সরকার। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে সম্পূর্ণরুপে ব্যর্থ হয়েছে। তারপরও এই রায় দেওয়া হয় এবং  আমার মক্কেলরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

    মাহফুজা ৩১-১০

    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

    Latest Posts

    spot_imgspot_img

    আলোচিত খবর