১০ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
১৩ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

    সর্বশেষ খবর

    আজ ১৪ অক্টোবর; বিশ্ব ডিম দিবস

    আজ ১৪ অক্টোবর। বিশ্ব ডিম দিবস। ‘প্রতিদিন একটি ডিম, পুষ্টিময় সারাদিন’ এই প্রতিপাদ্যে  বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এ দিবস পালন করা হচ্ছে।

    প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল, ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি যৌথ উদ্যোগে ডিম দিবসে  পালন করা হবে নানা কর্মসূচি।

    বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) থেকে জানানো হয়, দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে সেমিনার, ডিমের পুষ্টিগুণ বিষয়ক জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কার্যক্রম, শোভাযাত্রা, বিদ্যালয় ও এতিমখানায় ডিম বিতরণ, সারাদেশে পোষ্টার বিতরণ প্রভৃতি কর্মসূচি পালন করা হবে।

    ১৪ অক্টোবর শুক্রবার রাজধানীর কৃষিবীদ ইনস্টিটিউটে ‘বিশ্ব ডিম দিবস-২০২২’ কেন্দ্রীক এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। এছাড়াও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নাহিদ রশীদ, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা।

    ১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক এগ কমিশনের কনফারেন্সে প্রতি বছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার বিশ্ব ডিম দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া  হয়।

    ডিমকে বলা হয় পরিপূর্ণ খাদ্য। বিশ্বে যে  কয়েকটি খাদ্যকে সুপার ফুড হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয় এর মধ্যে ডিম অন্যতম। গেল  এক দশকে ডিমের উৎপাদন বেড়েছে তিনগুণ।

    মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশে ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ডিম উৎপাদিত হয়েছে ৭ কোটি ৬১ লাখ ৭৪ হাজার। ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে ২৩ কোটি ৩৫ লাখ ৩৫ হাজার ডিম উৎপাদিত হয়েছে । এক দশকে বছরে ডিমের উৎপাদন বেড়েছে ১৫ কোটি ৭৩ লাখ ০৬ হাজার।

    পুষ্টিবিদরা জানান, একটি ডিমে প্রায় ৬ গ্রাম প্রোটিন, ৫ গ্রাম উন্নত ফ্যাটি এসিড, ৭০-৭৭ কিলোক্যালরি শক্তি, ১০০-১৪০ মিলিগ্রাম কোলিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপকরণ থাকে। এছাড়াও ডিমে থাকা লিউটিন ও জেক্সানথিন চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ডিমে থাকা ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন হৃদরোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে। ডিমের কুসুমে এন্টিবডিসমূহ ভাইরাল ও ব্যাকটেরিয়াল রোগ প্রতিরোধ করে।

    ডিমের ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায় ও এর পুষ্টিমান শিশুদের মেধা বিকাশে সহায়তা করে।  ডিম গর্ভবতীদের পুষ্টি নিশ্চিত করে ও ব্রেস্ট ক্যানসার  প্রতিরোধ করে, নিয়মিত ডিম খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়। এছাড়া ডিমে প্রাপ্ত ভিটামিন-এ চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়, ডিম ওজন কমাতে সহায়ক এবং ডিম টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়।

    এ বিষয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের শিশু বিভাগের চিকিৎসক আয়শা খাতুন বলেন, ডিম হার্টের জন্য উপকারী, ডিম খেয়ে ওজন কমানো যায়। ব্রেইন ডেভেলপমেন্ট এবং হাড় মজবুত করতে ডিম অত্যন্ত কার্যকর। ডায়াবেটিসের রোগীরাও ডিম খেতে পারবেন। বর্তমানে ডিমের দাম বেশি হলেও  প্রতিদিন একটি করে ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

    মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, পুষ্টিসম্মত খাবারের অন্যতম উপাদান ডিম এবং পুষ্টি চাহিদা মেটাতে বেশি বেশি ডিম খেতে হবে। সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে ডিমের দাম মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসার পরিকল্পনার নেয়া হয়েছে।

    মাহফুজা ১৪-১০

     

    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

    Latest Posts

    spot_imgspot_img

    আলোচিত খবর