২১শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
৬ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
১০ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

    সর্বশেষ খবর

    জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী মারা গেছেন

    বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী  মারা গেছেন।  (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    রোববার ১১ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৪০ মি‌নি‌টে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে -সিএমএইচ চিকিৎসাধীন অবস্থায় ‌তি‌নি মারা যান  বলে জানান সাজেদা চৌধুরীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা বেনজির আহমেদ রায়হান। আগস্টের শেষের দিকে উচ্চরক্তচাপসহ বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যা নিয়ে ঢাকার এ হাসপাতা‌লে ভ‌র্তি হন তি‌নি।

    মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাজেদা চৌধুরীর ছেলে সাহাব আকবর চৌধুরী লাভুও।

    আজ সোমবার ১২ সেপ্টেম্বর  সকাল ১১ টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মরহুম সাজেদা চৌধুরীর প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বাদ জোহর ফরিদপুরের নগরকান্দায় হবে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা। সেখানে জানাজা শেষে বাদ আসর ঢাকায় এনে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে সাজেদা চৌধুরীকে। সাজেদা চৌধুরীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা বেনজির আহমেদ রায়হান এসব তথ্য জানান।

    সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুতে শোক জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রাষ্ট্রপতি এম আবদুল হামিদ।

    সাজেদা চৌধুরীর জন্ম গ্রহন করেন ১৯৩৫ সালের ৮ মে।  তার বাবার নাম সৈয়দ শাহ হামিদ উল্লাহ এবং মা সৈয়দা আছিয়া খাতুন। শিক্ষাজীবনে তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।  সাজেদা ১৯৬৯ সালে  মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

    ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন সাজেদা চৌধুরী, তখন কলকাতা গোবরা নার্সিং ক্যাম্পের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন । স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৫ সালে তিনি বাংলাদেশ নারী পুনর্বাসন বোর্ডের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।এবং বাংলাদেশ গার্লস গাইডের ন্যাশনাল কমিশনারও ছিলেন ।

    পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের পর আওয়ামী লীগের  ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেন সাজেদা। শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়ে দেশে ফেরার পর তার সঙ্গেও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

    ১৯৮৬ থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পর ১৯৯২ সাল থেকে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীতে ছিলেন। ফরিদপুর-২ আসন থেকে তিনি অনেকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

    ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য এবং ১৯৭৩ সালে দেশের প্রথম সংসদেও তিনি নির্বাচিত হন। ২০০৯ সাল থেকে টানা সংসদ উপনেতার পদে ছিলেন তিনি।

    ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন সাজেদা। শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বও তাকে দেন। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনে গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির চেয়ারম্যানও ছিলেন তিনি।

    মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ২০১০ সালে সাজেদা চৌধুরী স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন।

    মাহফুজা ১২-৯

     

    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

    Latest Posts

    spot_imgspot_img

    আলোচিত খবর