১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
৩রা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

    সর্বশেষ খবর

    এবার উপজেলা চেয়ারম্যান প্রকাশ্যে চড় থাপ্পর মারলো আইনজীবীকে

    পটুয়াখালী প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদককে প্রকাশ্যে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে আলোচিত উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শাহিন ওরফে শাহিন শাহের বিরুদ্ধে।  এ ঘটনায় শাহিন শাহের বহিস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশ।

    মঙ্গলবার (১২ জুলাই) উপজেলার উলানিয়া বাজারে রাসেল স্কয়ার নামে একটি চত্বরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ওবায়দুল ইসলামকে মারধর ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগে উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শাহিন ওরফে শাহিন শাহের বিরুদ্ধে গলাচিপা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন ওবায়দুল ইসলাম। মো. শাহিন তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছেন বলেও সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করেন ওবায়দুল ইসলাম।প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী জানিয়েছেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুল ইসলামকে ডেকে দুই-একটি কথা জিজ্ঞেস করার পরেই উপজেলা চেয়ারম্যান তাকে গালিগালাজ শুরু করেন। সেই সাথে শতশত মানুষের সামনে তাকে বেশ কয়েকটি চড় মারেন।

    পরে উপস্থিত অন্যান্য নেতাকর্মীরা ওবায়দুল ইসলামকে সেখান থেকে সরিয়ে নেন।উল্লেখ্য, অভিযুক্ত উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শাহিন একইসাথে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

    ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদাসহ গলাচিপা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। মো. শাহিন স্থানীয় ওই সংসদ সদস্যের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নেতা বলেন, কিছুদিন পরপর উপজেলা চেয়ারম্যানের এমন কর্মকান্ডে তারা চরম বিব্রত।

    উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সন্তোষ দে বলেন, ‘এ রকম ঘটনা এটাই প্রথম না। এর আগের অন্য যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদকের গায়ে মোবাইল ছুঁড়ে মারেন মো. শাহীন। আমি তার সাথে একমত হতে পারি নাই তাই আমার সাথেও অনেকবার খারাপ ব্যবহার করছে।’

    এ বিষয়ে পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা একাত্তরকে বলেন, ‘ঘটনাটি ঘটে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার ২০ থেকে ২৫ মিনিট আগে। রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমাকে ফোন দিয়ে এ ব্যাপারে জানান। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতিকে দ্রুত সাংগঠনিক রিপোর্ট করতে বলেছি।’

    বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আফজাল হোসেনের সাথে কথা হয়েছে জানিয়ে এমপি বলেন, তার কাছে সবিস্তারে জানানোর পরে আমার মতামত দেবো।

    অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. শাহিন এ অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ‘ওবায়দুল বিভিন্নজনকে আমার সাথে চলতে নিষেধ করে। এ কারনে ওকে দু’টি চড় থাপ্পর দিয়েছি। এছাড়া তেমন কিছু হয়নি।’

    উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার মারধর ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ রয়েছে মো. শাহিনের বিরুদ্ধে। এর আগে এক পুলিশ সদস্যকে মারধর করে তিনি জেল খেটেছিলেন।

    স্থানীয় এক নারী আইনজীবীকে প্রকাশ্যে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও মারধরের অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নেতাকর্মী- তার মারধর বা গালিগালাজ থেকে কেউই বাদ যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

    এদিকে মোহাম্মদ  শাহীন শাহকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে দলের একাংশর নেতাকর্মীরা। গলাচিপার পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা আহসানুল হক তুহিনের নেতৃত্বে আজ শুক্রবার বেলা ১১টায়  পৌর চত্বর থেকে মিছিলটি  বের হয়ে সদর রোডে ঢুকতে গেলে পুলিশ মিছিলে বাধা দেয়। পরে মিছিলটি পুনরায় পৌর চত্বরে গিয়ে সমাবেশ করে।  সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন গলাচিপা পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের অন্যতম নেতা আহসানুল হক তুহিন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক  অ্যাডভোকেট ওবায়দুল ইসলাম, পৌর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহিন মিয়া, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক ফরিদ আহসান কচিন প্রমূখ। এ কর্সূচিতে উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ অন্যান্য সহযোগি সংগঠনের একাংশের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

    সমাবেশে বক্তারা বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে দলীয় নেতাকর্মীদের মারধরসহ স্থানীয়দের জিম্মি করে নির্যাতন করেছেন। সর্বশেষ গত ১২ জুলাই উপজেলার রতনদি তালতলি ইউনিয়নের এক অনুষ্ঠানে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওবায়দুল ইসলামকে শারিরীক ভাবে লাঞ্ছিত করেন। তাই তাকে অবিলম্বে দল থেকে বহিস্কার করা হোক।

     

    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

    Latest Posts

    spot_imgspot_img

    আলোচিত খবর