১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
২৬শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
২৫শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

    সর্বশেষ খবর

    জাতির জনকের জন্মদিন  ও জাতীয় শিশু দিবস আজ

    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন আজ। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। বাঙালিকে নিজস্ব রাষ্ট্র এনে দেওয়া এই মহান নেতাকে জন্মদিনে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে জাতি।

    ১শ’ ২ বছর আগে সেসময় ব্রিটিশ ভারতে খোকা নামের অদম্য এক শিশুর জন্ম হয়। পরের পাঁচ দশকে ভারতবর্ষ দেখেছে বিভাজন আর মানচিত্র বদলে যাওয়া জটিল রাজনীতি। এই পরিক্রমায় সেদিনের খোকা হয়ে ওঠে শেখ মুজিব, মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু। বন্ধুর পথে ইতিহাসের পাতা উল্টাতে উল্টাতে দূরদ্রষ্টার মতো যিনি হেঁটে আসেন অমরত্বের পথে।

    কালের অভিযাত্রায় উপমহাদেশের রাজনীতি চিনে নেয় আগামীর মহানায়ককে। ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান আর সত্তরের নির্বাচন সময়ের পাটাতন পেরিয়ে তিনি দাঁড়ান একাত্তরের মুখোমুখি।

    একদিকে ক্ষমতা হস্তান্তরে পাকিস্তানিদের তালবাহানা, অন্যদিকে জনপ্রত্যাশার চাপ রাজনীতির কঠিন সমীকরণ মিলিয়ে বঙ্গবন্ধু পৌঁছে যান ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ কুশলীদের সারিতে। ৭ মার্চ বিশ্ব শোনে ব্যক্তিত্বে হিমালয়ের সমান উচ্চতার এক মহাকবির বজ্রকন্ঠ, আর বাঙালি উঠে দাঁড়ায় হাজার বছরের শোষণ-বঞ্চনা শেকল ভেঙে।

    সে সময়ের পূর্ব পাকিস্তানের সর্বময় কর্তৃত্ব শেখ মুজিবের হাতে চলে যাওয়ার পর শুরু হয় পাকিস্তানিদের বাঙালি নিধনের পরিকল্পনা। ২৫শে মার্চ রাতে সেই অভিযানের শুরুতেই পাকিস্তানি বাহিনী গ্রেপ্তার করে বঙ্গবন্ধুকে। তার আগেই তিনি দিয়ে যান স্বাধীনতার ঘোষণা, নয় মাসের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে বাঙালি পায় সার্বভৌম পরিচয়। পাকিস্তানের কারাগার থেকে তিনি ফিরে আসেন জনসমুদ্রে, স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশে।

    যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে স্বপ্নের সোনার বাংলায় রূপান্তরের এ চেষ্টায় শুরু হয় দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র।স্বাধীনতাবিরোধীদের চক্রান্তে, ১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে কিছু বিপথগামী সেনাসদস্যের গুলিতে উল্টোপথে ঘুরে যায় ইতিহাসের চাকা। সপরিবার হত্যা করা হয় বাঙালির কাণ্ডারিকে। তবে রক্তের দাগ মুজিবের কীর্তির চেয়ে গাঢ় হতে পারেনি। সমকাল পেরিয়ে উত্তর প্রজন্মের কাছে অনির্বাণ অনুপ্রেরণার উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক হয়ে থাকেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

    দিনটি জাতীয় শিশু কিশোর দিবস হিসাবেও উদযাপিত হবে।

    বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি এবং আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহন করেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে বাংলাদেশী দূতাবাসগুলোতেও দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করা হবে। দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

    বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি এদিন ‘টুঙ্গিপাড়া হৃদয়ে পিতৃভূমি’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দুপুর ১২ টা ৩০ মিনিটে জাতির পিতার সমাধি সৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বিকাল ২টা ৩০ মিনিটে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

    বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। এবারের আয়োজনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘হৃদয়ে পিতৃভূমি’। ঢাকায় আগামীকাল সকালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এবং সারা দেশের সকল কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে আওয়ামী লীগ।

    রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদিন টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ করবেন।

    ওই দিন একটি শিশু-কিশোর সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ দেবেন। বিকেলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

    ১৮ মার্চেও আওয়ামী লীগের উদ্যোগে টুঙ্গিপাড়ায় একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা সভায় অংশ নেবেন।

    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

    Latest Posts

    spot_imgspot_img

    আলোচিত খবর