৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
২০শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
১৯শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

    সর্বশেষ খবর

    স্বামী ও তিন সন্তানের পর রেখাও জীবনের কাছে হার মানলেন

    সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি,২০২২) রাত পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায়

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার একটি বাসায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্বামী ও তিন সন্তানের পর এবার মারা গেলেন রেখা বেগমও।

    রেখার চাচাতো ভাই মমিনুল ইসলাম গতকাল রাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    এর আগে অগ্নিদগ্ধ হয়ে রেখার স্বামী মকবুল হোসেন, বড় ছেলে জয়, মেজো ছেলে জুবায়ের ও গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মকবুলের পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যু হলো। পুরো পরিবারের আর কেউ বেঁচে রইলো না। এ ঘটনার পর এলাকাবাসী ও স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম।

    গত মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ১০টার দিকে উপজেলা সদরের শরীয়তনগর এলাকার একটি বাসায় অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনা ঘটে। এ সময় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মকবুল হোসেনের ছেলে জুবায়ের (৬) মারা যায়।

    একই ঘটনায় মকবুল হোসেন (৪০) ও তার স্ত্রী রেখা বেগম (৩২) এবং তাদের আরেক ছেলে জয় (৯) অগ্নিদগ্ধ হন। গুরুতর অবস্থায় তাদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

    গত বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মকবুল। একই দিন মকবুলের স্ত্রী রেখার গর্ভের ছেলেসন্তানটি মারা যায়।

    রবিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মকবুলের বড় ছেলে জয়ের মৃত্যু হয়। পরিবারের শেষ ব্যক্তি ছিলেন রেখা বেগম। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় অবশেষে সোমবার রাতে মারা যান রেখাও।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চরচারতলা ইউনিয়নের শরীয়তনগর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলাই মিয়ার পাঁচতলা বাড়ির নিচতলায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন মকবুল। গত মঙ্গলবার রাত সোয়া ১০টার দিকে মকবুলের বড় ছেলে জয় মশার কয়েল ধরানোর জন্য গ্যাসের চুলায় আগুন জ্বালায়। এ সময় পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

    মকবুল তখন রাতের খাবার খেতে বসেছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের কারণে বাসার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় অন্ধকারে দরজা খুঁজে না পাওয়ায় তারা বের হতে পারেননি। বাসার ভেতরে আটকা পড়ে সবাই অগ্নিদগ্ধ হন। খবর পেয়ে আশুগঞ্জ, সরাইল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

    মকবুলের চাচা মমিনুল ইসলাম বলেন, অগ্নিদগ্ধ হওয়ার দিন রাতেই মকবুলের ছেলে জুবায়ের মারা যায়। আহতদের শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে সবার মৃত্যু হলো। এই শোক সইবার নয়।

    আশুগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। গ্যাসের চুলার সুইচ চালু করে দীর্ঘক্ষণ পর আগুন জ্বালানোর কারণে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি আমরা। এ ঘটনায় একটি পরিবার শেষ হয়ে গেলো। খুবই মর্মান্তিক ঘটনা।

    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে পাশে থাকুন

    Latest Posts

    spot_imgspot_img

    আলোচিত খবর