জাতীয়

মামলার পরেই গা-ঢাকা দিয়েছেন শ্বশুর-শাশুড়ি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নৃত্যকলা বিভাগের ছাত্রী ইলমা চৌধুরী মেঘলা (২৬) হত্যা মামলার আসামি শ্বশুর ও শাশুড়ি গা-ঢাকা দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার থেকে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত কয়েক দফা অভিযানের পর তাদের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানায়, ইলমা হত্যায় স্বামী ইফতেখারসহ শ্বশুর-শাশুড়ির সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের খোঁজে সম্ভাব্য জায়গায় অভিযান চালিয়েও তাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এই মামলার অন্যতম আসামি ইলমার স্বামী কানাডাপ্রবাসী ইফতেখারকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। আজ শনিবার রিমান্ড শেষে ইফতেখারকে আদালতে পাঠানো হবে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রিমান্ডে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইলমাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে ইফতেখার। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ আরো অনেক তথ্য দিয়েছে। ইফতেখার তার প্রথম স্ত্রী ফ্রান্সপ্রবাসীকে নির্যাতনের বিষয়েও মুখ খুলেছেন। প্রথম স্ত্রী ছাড়াও তিনি আরো অনেক নারীর সঙ্গে পরকীয়া করতেন। তার পরকীয়া ছাপিয়ে ইলমাকে সন্দেহ করতেন। এসব কারণে ইলমার বন্ধু-বান্ধবী ও সহপাঠিদের সঙ্গে চলাফেরা নিষেধ করা হয়। এমনকি ইলমার বাবার বাড়িতে থাকতেও পছন্দ করতেন না তিনি। এসব বিষয় নিয়ে ইলমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। একপর্যায়ে গত ১২ ডিসেম্বর কাউকে কিছু না জানিয়েই কানাডা থেকে হঠাৎ দেশে চলে আসেন। ওই সূত্র আরো জানায়, ইফতেখার দেশে ফিরেই ইলমার সঙ্গে কথাকাটাকাটির জেরে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে ইলমা তার বাবার বাড়ি ফিরে যেতে চাইলে তাকে সেখানে যেতে দেয়নি। রিমান্ডে ইফতেখার বলেন, ওই সময় ইলমাকে তার বাবার বাড়ি যেতে না দিয়ে বলেছেন, তার ‘লাশ’ যাবে। ইলমার বাবা সাইফুল ইসলাম বলেন, ইফতেখার ও তার পরিবার তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ফ্রান্সে বিয়ের বিষয়েও কোনো তথ্য দেননি। মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে মেয়েটাকে পরিকল্পিতভাবে তারা হত্যা করেছে। তিনি বলেন, মেয়েটার শরীরে যে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে তাতে স্পষ্ট যে নারকীয়ভাবে তাকে হত্যা করেছে তারা। কতটা যন্ত্রণায় সে মারা গেছে। আমরা ইফতেখারের বাবা-মাকেও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাই। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

ডিএমপির বনানী থানার ওসি নূরে আযম মিয়া জানান, ইফতাখারকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। তার কাছ থেকে যে তথ্য পেয়েছি, সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, অপর দুই আসামি ইলমার শ্বশুর-শাশুড়িকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আমরা তাদের বাসায় ও সম্ভাব্য স্থানে অভিযান চালিয়েছি। তাদের গ্রেপ্তার করতে পারলে আরো অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে তিনি জানান।

বিচার চাইল পরিবার ও এলাকাবাসী : শ্বশুর বাড়িতে ‘নির্যাতনের কারণেই’ ইলমা চৌধুরীর মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে তার পরিবার ও এলাকাবাসী। গতকাল শুক্রবার ঢাকার ধামরাইয়ের থানা রোড এলাকায় উপজেলার বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়। এতে ধামরাইয়ের বিভিন্ন সংগঠন ও ইলমার বাবাসহ আত্মীয়স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। ইলমার বাবার বাড়ি ধামরাই পৌরসভা এলাকায়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তার বাবা সাইফুল ইসলাম চৌধুরী। মেয়ের শোকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে। বিয়ের পর থেকেই স্বামীসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজন তার পড়াশোনায় বাধা দিচ্ছিল। এটা না মানতেই ইলমার ওপর নির্যাতন নেমে আসে। আমরা ডিভোর্সের কথাও বলেছিলাম। কিন্তু নির্যাতন সহ্য করতে করতে জীবনটাই দিতে হলো মেয়েটাকে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button