ক্রিকেটস্পোর্টস

স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে আফগানিস্তানের জয়

ব্যাট হাতে দোর্দণ্ড প্রতাপের পর বল হাতে স্পিনাদের জাদুতে  স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে আফগানরা প্রথম ম্যাচেই বড় জয় পেয়েছে।  আর এতে করে স্কটিশরা এলোমেলো হয়ে গেল সুপার টুয়েলভের প্রথম ম্যাচেই।

শারজায় আগে ব্যাটিং করে ১৯০ রানের বিশাল পুঁজি পায় আফগানিস্তান। এ লক্ষ্য তাড়া করা সহজ হতো না। কারণ, প্রতিপক্ষ দলে রয়েছে রশিদ খান ও মুজিব-উর-রহমানের মতো স্পিনার। সেটাই হলো। মুজিবের ৫ ও রশিদ খানের ৪ উইকেটে স্কটল্যান্ড গুটিয়ে গেল মাত্র ৬০ রানে। ১৩০ রানের জয়ে বিশ্বকাপের মিশন শুরু করলো আফগানরা। কেন আফগানিস্তান বাছাইপর্ব না খেলে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলছে, প্রথম ম্যাচেই প্রমাণ করে দিলো তারা।

আফগানিস্তান সরাসরি বিশ্বকাপে নাম লিখিয়েছে। স্কটল্যান্ড অনেক পথ পাড়ি দিয়ে এসেছে। তবে সরাসরি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা দলকে সেসব কঠিন পথও পাড়ি দিতে হয়েছে একসময়। নিজেদের সাফল্যধারা অব্যহত রাখায় তারা এখন টি-টোয়েন্টির অন্যতম পরাশক্তি, র‌্যাঙ্কিংয়েও শক্তিশালী।

আফগানিস্তান বিশ্বকাপের আগের আসরেও বাছাই বা প্রথম পর্বে খেলেছে। কিন্তু র‌্যাঙ্কিংয়ে সেরা আটে থাকায় তারা এবার সুপার টুয়েলভে সরাসরি খেলছে। স্কটল্যান্ড শুরুতে নিজেদের জোনে বাছাই পর্ব পেরিয়েছে। এরপর আইসিসি বাছাইপর্ব শেষে বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে নাম লিখায়। প্রথম পর্বে বাংলাদেশকে হারানোর পর পাপুয়া নিউ গিনি ও ওমানকে উড়িয়ে তারা এখন সুপার টুয়েলভে।

শারজাহর উইকেটকে বলা হচ্ছিল মন্থর।  আফগানিস্তানের ব্যাটম্যানরা তেমন কিছুই তো করে দেখালেন। ইনিংসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই ফ্লোতে খেলেছেন। দুই ওপেনার হজরতউল্লাহ জাঝাই ও মোহাম্মদ শাহজাদ উড়ন্ত সূচনা এনে দেন। ৫৪ রানের গুটি গড়ে শাহজাদ (২২) আউট হন। জাঝাই সাজঘরে ফেরার আগে ৩০ বলে করেন ৪৪ রান।

১০ ওভারে আগফানিস্তানের রান ছিল ৮২। শেষ ১০ ওভারে তারা তোলে ১০৮ রান। এর পুরো কৃতিত্বটা যাবে রহমতউল্লাহ গুরবাজ ও নাজিবুল্লাহ জারদানের ঝুলিতে। দুজনের ৫২ বলে ৮৭ রানের জুটি আফগানিস্তানকে বড় সংগ্রহ এনে দেয়। ৩৭ বলে ১ চার ও ৪ ছক্কায় ৪৬ রান করেন রহমতউল্লাহ। ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে নাজিবুল্লাহ ৩৪ বলে করেন ৫৯ রান। তার ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৩টি ছক্কা। অধিনায়ক মোহাম্মদ নবী শেষদিকে নেমে ৪ বলে ২ চারে তোলেন ১১ রান।

বল হাতে স্কটল্যান্ডের হয়ে শাফইয়ান শরিফ ৩৩ রানে ২ উইকেট নেন। ১টি করে উইকেট পেয়েছেন জয় ডেভে ও মার্ক ওয়াট।

লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম ওভারে ১১ রান তুলেছিলেন জর্জ মুনসে। কিন্তু স্পিন আক্রমণ আসতেই কেঁপে উঠলো তাদের ব্যাটিং অর্ডার। চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে মুজিব সাজঘরে ফেরান কোয়েটজের ও ম্যাকলয়েডকে। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন অফস্পিনার। কিন্তু বেরিংটন তার বলটা ঠিকঠাক রুখে দেন। কিন্তু ষষ্ঠ বলে বাঁচতে পারেননি। মুজিব এক ওভারেই নেন তিন উইকেট। পরের দুই ওভারে নাভীন ও মুজিব একটি করে উইকেট পকেটে পুরেন। পাওয়ার প্লে’তে স্কটল্যান্ডের রান ৫ উইকেটে ৩৭।

ষষ্ঠ ওভারে রশিদ খান বোলিংয়ে এসে সাফল্য পেয়ে যান। মুজিব নিজের শেষ ওভারে ফাইফারের স্বাদ নেন। সব মিলিয়ে ৪ ওভারে ২০ রানে তার শিকার ৫টি। স্কটল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের শুরুটা গুড়িয়েছেন মুজিব। লেজটা কেটেছেন রশিদ। লেগ স্পিনার ২.২ ওভারে ৯ রানে পেয়েছেন ৪ উইকেট।

অসাধারণ জয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলো আফগাস্তিান। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বরাবরই তারা শক্তিশালী। মাত্র ১০.২ ওভারে স্কটল্যান্ডকে অলআউট করে সেই প্রমাণই দিলো।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button