ক্রিকেট

স্কটিশদের উল্লাস, বাংলাদেশের স্বপ্নে আঘাত

কেউ না ভাবলেও, এটাই সত্যি। বাংলাদেশ হেরে গেছে পুচকে স্কটল্যান্ডের কাছে। মাসকটের আল আমিরাত ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বাংলাদেশের সমর্থন দেওয়ার জন্য সমর্থকদের কোনো অভাব ছিল না। মরুর বুকে পাহাড়ের কোল ঘেষে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামটি কেঁপেছে ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ গর্জনে। সাকিব-মেহেদীদের সাফল্যে গ্যালারি রুপ নিয়েছিল লাল সবুজের ঢেউয়ে। সেই গগণবিদারী গর্জনকে শশ্মানে পরিণত করে উল্লাসে মেতেছে স্কটল্যান্ড।

রোববার (১৭) অক্টোবর রাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে বাংলাদেশ হারে ৬ রানে। ১৪১ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে বাংলাদেশ ৭ উইকেট হারিয়ে থামে ১৩৪ রানে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হলো হার দিয়ে।

২০ বলে যখন ৩২ রান প্রয়োজন তখন ক্রিজে আফিফ হোসেন ধ্রুব ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দুই সেট ব্যাটসম্যান থাকায় জয় নিয়ে কোনো শঙ্কা ছিল না।  টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যেটি কোনো ব্যাপারই না আজকাল। কিন্তু সেই চাপকে সামলে জয়ের বন্দরে দলকে নিয়ে যেতে পারেননি কেউ-ই। আফিফ ফেরেন ১২ বলে ১৮ রান করে। এরপর ক্রিজে আসেন নুরুল হাসান সোহান। প্রস্তুতি ম্যাচে ঝড় তোলা এই ব্যাটসম্যান এদিন ফেরেন মাত্র ২ রানে। পরের বলেই ৬ মেরে আশা দেখানো মাহমুদউল্লাহও একই ওভারে (১৯) ফেরেন সাজঘরে। তার ব্যাট থেক আসে ১টি করে চার-ছয়ে ২২ বলে ২৩। মাহমুদউল্লাহর যখন জ্বলে ওঠার কথা তখনই আউট হলেন!

দুই ওপেনার ব্যাট হাতে ব্যর্থ। এরপর হাল ধরেছিলেন সাকিব আল হাসান-মুশফিকুর রহিম। কিন্তু দুজনে খেলেছেন ধীরগতির ইনিংস। সাকিব ২৮ বলে ২০ ও মুশফিক ৩৬ বলে ৩৮ রান করেন। দুজনের এমন ইনিংসে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। শেষ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ২৪, বাংলাদেশ নিতে পারে ১৬ রান। মেহেদী ৫ বলে ১৩ ও সাইফউফউদ্দিন ২ বলে ৫ রান করেন।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রান করে স্কটল্যান্ড। মেহেদী-সাকিবের জোড়া আঘাতে ম্যাচের নাটাই বাংলাদেশের হাতেই ছিল। তবে শেষ দিকে বোলাররা যেন হয় গিয়েছিলেন পথহারা পথিক। তাসকিন-মোস্তাফিজরা রান দিয়েছেন দিল খোলাভাবে। ৪৫ থেকে ৫৩ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারানো স্কটল্যান্ড শেষ ৫ ওভারে ৫৩ রান তোলে। অথচ তৃতীয় ওভারেই ওপেনার ও অধিনায়ক কাইল কোটজারকে বোল্ড করে কী দুর্দান্ত শুরুই না এনে দিয়েছিলেন মাহেদী হাসান ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

ক্যামিও ইনিংস খেলেছেন ক্রিস্টোফার গ্রিভস। মাত্র ২৮ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৪৫ রান করেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। সপ্তম উইকেটে তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন মার্ক ওয়াট। ৩৪ বলে ৫১ রান যোগ করেন দুজন। তাতে স্কটিশরা লড়াইয়ের পুঁজি পেয়েছে। এ ছাড়া ২টি করে ছয় ও চারে ২৩ বলে ২৯ রান করেন জর্জ মানসি। আর ১৭ বলে ১১ রান আসে ম্যাথু ক্রসের ব্যাট থেকে।

বাংলাদেশের হয়ে দারুণ বোলিং করেছেন সাকিব ও মেহেদী। স্পিন জাদুতে দুজনেই স্কটিশদের তটস্থ রেখেছিলেন। মেহেদী চার ওভারে ১৯ রান দিয়ে ৩ ও সাকিব সমান ওভারে ১৭ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। জোড়া সাফল্যে সাকিব টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডটি নিজের করে নেন। ১০৬ উইকেট নিয়ে আজ মাঠে নেমেছিলেন সাকিব। ১০৭ উইকেট নিয়ে লাসিথ মালিঙ্গা ছিলেন শীর্ষে। সাকিব এখন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি।

মোস্তাফিজুর রহমান ৪ ওভারে ৩২ রান দিয়ে নেন ২উইকেট। ৩ ওভার বা এর বেশি বল করেছেন এমন বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে খরুচে ছিলেন তাসকিন আহমেদ। ৩ ওভারে ২৮ রান দিয়ে তিনি ১ উইকেট নেন। সাইফউদ্দিন ৩০ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button