Uncategorized

রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন শেখ হাসিনা

বাংলাদেশে আশ্রিত  রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মিয়ানমারে ফেরাতে একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা ও অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে (বাংলাদেশ সময়) জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা সঙ্কট এবার পঞ্চম বছরে পড়লো। কিন্তু এখন পর্যন্ত বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের একজনকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। মিয়ানমারে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা ও অব্যাহত সহযোগিতা আশা করি।

‘মিয়ানমারকে অবশ্যই তার নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত।’

এ সময়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে তাদের সাময়িক অবস্থানকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে কিছু সংখ্যক বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিককে আমরা ‘ভাষানচর’-এ স্থানান্তর করেছি। আশ্রয় শিবিরে কোভিড-১৯ মহামারির বিস্তাররোধে টিকালাভের যোগ্য সকলকে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগেও বলেছি, আবারও বলছি-রোহিঙ্গা সঙ্কটের সৃষ্টি মিয়ানমারে, সমাধানও রয়েছে মিয়ানমারে। রাখাইন রাজ্যে তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই কেবল এ সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান হতে পারে। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’

‘আমরা আশা করি আসিয়ানের নেতৃবৃন্দ বাস্তুচ্যূত মিয়ানমার নাগরিক ইস্যুতে গৃহীত প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করবেন। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জবাদদিহি নিশ্চিতকরণে গৃহীত সকল কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করতে হবে।’

স্বাধীনতাবিরোধীরা এখনো দেশের বিরুদ্ধে সক্রিয় বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এসময় বিএনপির দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অর্থের উৎস কি, প্রশ্ন করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখনো বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের হত্যার পরিকল্পনা করে তারা। যাদের উত্থান অবৈধ, তাদের মুখে অবৈধ সরকার ও গণতন্ত্রের কথা মানায় না।

তিনি বলেন, বিএনপির অগণতান্ত্রিক নির্বাচন ক্ষমতা দখলের ইতিহাস নিজেরাই ভুলে গেছে। জনগণ বিএনপির পাশে থাকলে তাদের আন্দোলন করে জনগণ দূর করতো না।

‘মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের অংশগ্রহণ ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের হয়ে’ এমন দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে সম্পদের পাহাড় গড়া হচ্ছে জিয়া পরিবারের কাজ। তাদের আমলেই দেশ প্রেমিক ও মেধাবীদের হত্যা করা হয়েছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার নিউইয়র্কে সংস্থাটির সদরদপ্তরে তিনি বাংলায় ভাষণ দেন। যা ছিল তার ১৭তম ভাষণ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button