জানুয়ারি ২৫, ২০২১ ১০:০৪ অপরাহ্ণ ||১২ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ||১১ই জমাদিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

চট্টগ্রামের রোমাঞ্চকর জয়

শেষ ১২ বলে জয়ের জন্য চট্টগ্রামের দরকার ছিল ২৫ রান। নাহিদুল ইসলাম ক্যাচও তুলেছিলেন শুভাগত হোমের করা প্রথম বলে । কিন্তু খুলনার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কভারে দাঁড়িয়ে ক্যাচ ছাড়েন । পরের চার বলে দুই ছক্কা সহ নাহিদুল তোলেন ১৪ রান। কিন্তু শেষ বলে বিলিয়ে আসেন উইকেট। শেষ ওভারে লক্ষ্য মাত্র ৯ রান। মনে হচ্ছিল চট্টগ্রাম অনায়াসে জয় তুলে নেবে। সেভাবেই তারা এগিয়ে যায়।

প্রথম বল ডটের পর দ্বিতীয় বলে মোস্তাফিজুর রহমান হাঁকান বাউন্ডারি। তৃতীয় বলে ১টি রান। ব্যাটিংয়ে ফিরে প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যান শামসুর রহমান শুভ পরের বলে নেন আরও ১ রান। পঞ্চম বলে মোস্তাফিজ লেগ বাই থেকে একটি রান নিয়ে শামসুরকে আবার স্ট্রাইকে ফেরান। দৃঢ় মনোবলে খেলেন ম্যাচ নির্ধারণী বল। নিশ্চিত করেন দলের জয়।

আল-আমিনের ফুল টস স্লগ করে ডিপ মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা হাঁকান ডানহাতি ব্যাটসম্যান। বল সীমানা পাড় হওয়ার আগেই হেলমেট খুলে বিজয় উল্লাসে মাতেন ৩০ বলে ৪৫ রান করা শুভ। মিরপুরে আগে ব্যাটিং করে খুলনা ৯ উইকেটে ১৫৭ রান সংগ্রহ করে। জবাবে শুভর শেষ বলের ছক্কায় ৩ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম। এ জয়ে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করলো চট্টগ্রাম। ৬ ম্যাচে এটি তাদের পঞ্চম জয়, ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে তারা। অন্যদিকে খুলনা ৭ ম্যাচে এটি তৃতীয় হার, চার জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে তারা।

মাশরাফি বিন মুর্তজা দীর্ঘদিন পর  ফিরেছেন ২২ গজে। তাই তো চট্টগ্রাম ও খুলনার ম্যাচে ছিল বাড়তি আগ্রহ। চারে ব্যাটিংয়ে নেমে মাশরাফি কিছুটা অবাক করেছিলেন। প্রথম বলে ১ রান নিয়ে খাতা খুলেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে তাকে রান আউট হয়ে ফিরে আসতে হয়। বোলিংয়ে দীর্ঘদিন পর ফিরে নিজের লাইন ও লেন্থ পেতে ভুগতে হয়নি। নিশানা ঠিক করে বোলিং করেছেন। বোলিংয়ে ছিল বৈচিত্র্য। তিন স্পেলে করেছেন বোলিং। পাওয়ার প্লে’তে ২ ওভার বোলিং করে দিয়েছিলেন ১০ রান। ডট বল ছিল ৬টি। দ্বিতীয় ওভারে দেন ৭ রান। ধারাবাহিক বোলিংয়ে তৃতীয় ওভারে পেয়ে যান সাফল্য। মোসাদ্দেক হোসেন তার শর্ট বল লং অফ দিয়ে সীমানায় পাঠানোর পরের বলেই অফ কাটারে বোল্ড হন। সব মিলিয়ে ৪ ওভারে ২৮ রান খরচায় মাশরাফি পেয়েছেন এক উইকেট।

খুলনার ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালো হলেও ঝড়ো হয়নি। ৩৩ রান তুলেছিলেন জাকির হাসান ও জহুরুল ইসলাম। দ্রুত রান তোলার তাড়ায় জাকির পেসার শরীফুল ইসলামকে তুলে মারতে চেয়েছিলেন মিড উইকেট দিয়ে। কিন্তু পেসারের শর্ট বল গ্লাভসে লেগে ক্যাচ যায় মোহাম্মদ মিথুনের হাতে।

এরপর জহুরুল খানিকটা রান বাড়ালেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। শরীফুলের বলে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ২৬ রান। ব্যাটিংয়ে এবারও জ্বলে উঠতে পারেননি সাকিব আল হাসান। ১৫ রানে মোসাদ্দেকের বলে ক্যাচ দেন জয়ের হাতে। ইমরুল কায়েস পাঁচে নেমে দায়িত্ব নিতে পারেননি। ২৪ রান করে ফেরেন মোস্তাফিজের হাতে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে।

শেষ দিকে মাহমুদউল্লাহর ২৬ রানে দলকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। তবে কাজের কাজ করে দেন শুভাগত হোম। ১৪ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৩২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। তার শেষ অবদানেই চট্টগ্রামের রান দেড়শ পেরিয়ে যায়।

৩৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে শরীফুল ছিলেন চট্টগ্রামের সেরা বোলার।  ২ উইকেট নেন মোস্তাফিজ। ১টি করে উইকেট পেয়েছেন মোসাদ্দেক ও জিয়াউর রহমান।

লক্ষ্য তাড়ায় সাকিব ফেরান দুই ওপেনারকে। লিটন ৪ রানে ক্যাচ দেন রিশাদের হাতে। সৌম্য এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে ১৯ রানে ক্যাচ দেন মাহমুদউল্লাহর হাতে। মাঝে জয় ২৪ রান করে দলের স্কোরবোর্ড সচল রেখেছিলেন ঠিকই। কিন্তু শুভাগতর বলে বাজে শটে উইকেট উপহার দেন প্রতিপক্ষকে।

উইকেটে এসেই আল-আমিনকে দুই চার মেরেছিলেন মিথুন। কিন্তু অধিনায়ক পারেননি নিজের দায়িত্ব নিতে। হাসান মাহমুদের বলে স্লগ করতে গিয়ে এলবিডাব্লিউ হন ২৩ রানে। শেষ ৩০ বলে জয়ের জন্য ৫৩ রান লাগতো চট্টগ্রামের। শুভ দারুণ ব্যাটিংয়ে চট্টগ্রামকে এনে দেন জয়। ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৪৫ রানের ইনিংসটি ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেয়। তাইতো ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠে তার হাতে।

২টি করে উইকেট পেয়েছেন সাকিব ও শুভাগত। মাশরাফি, আল-আমিন ও হাসান মাহমুদের শিকার ১ উইকেট।

About Md Uzzal