এপ্রিল ১১, ২০২১ ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ ||২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ||২৭শে শাবান, ১৪৪২ হিজরী

শরীয়তপুরে যৌতুকের দাবীতে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় যৌতুকের জন্য দুই সন্তানের জননীকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের পূর্ব চররোসুন্দী মালত কান্দি গ্রাম থেকে ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এদিকে ওই গৃহবধূর স্বামী, শ্বশুর শ্বাশুড়িসহ পরিবারের সবাই পলাতক রয়েছে।নিহত গৃহবধূর নাম রেশমা আক্তার। তিনি মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার সুর্যমনি গ্রামের জুলহাস ঘরামির মেয়ে।

পুলিশের ধারণা, রেশমাকে শারিরিক ও মানসিক নির্যাতন করে হত্যার পর গাছের সঙ্গে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৮ বছর আগে শরীয়তপুর জেলার পালং উপজেলার পূর্ব চররোসুন্দী মালত কান্দি গ্রামের আবদুর রব সরদারের ছেলে ফরিদ সরদারের সঙ্গে রেশমা আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের ঘরে তারিকুল (৬) ও ফারিয়া নামে ২ মাসের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
বিয়ের পর থেকেই রেশমাকে যৌতুকের জন্য মারপিট করতো। রেশমার বাবা মা মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে ইতিমধ্যে ২ লাখ টাকা ও ৫ ভরি স্বর্ণালংকার দেয়। এরপরেও ফরিদ বিভিন্ন সময় রেশমার পরিবারের কাছে যৌতুক দাবি করে আসছিল। এ জন্য সে মাঝে মধ্যেই রেশমাকে নির্যাতন করতো।
বুধবার রাতে টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামী ফরিদ ও তার পরিবারের লোকজন রেশমাকে মারধর করে। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় লোকজন ফরিদ সরদারের ঘরের পাশে একটি কাঠাল গাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয়া ঝুলন্ত অবস্থায় রেশমার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশ খবর দেয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা জুলহাস ঘরামি বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামি করে পালং মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।নিহতের বড় ভাই সেলিম ঘরামী বলেন, আমার বোনের কাছে দুই লাখ টাকা চেয়েছে ফরিদের পরিবার। টাকা না দেয়ায় তারা আমার বোনকে হত্যা করেছে।

নিহত রেশমার বাবা জুলহাস ঘরামী বলেন, যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে ফরিদ সরদার ও তার বাবা-মা মিলে হত্যা করে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে গেছে। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।
পালং মডেল থানার ওসি মো. খলিলুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে রেশমা নামে গৃহবধূকে হত্যা করে পরিকল্পিত ভাবে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে। লাশের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

About uzzal uzzal