ডিসেম্বর ১, ২০২০ ৬:৪১ অপরাহ্ণ ||১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ||১৫ই রবিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী
ফাইল ছবি

ভাই লাগবেনি, কচি মাল আছে, আবাসিক হোটেলের চিত্র

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা হেটেলগুলোও পরিনত হয়েছে অসামাজিক কাজের কেন্দ্র বিন্দু হিসেবে। হোটেলগুলোর সামনের ব্যানারে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ মুক্ত’ লেখা থাকলেও চক্ষুর আড়ালে সেই হোটেলেই সাবধানতা অবলম্বন করে চালানো হচ্ছে অসামাজিক কার্যকলাপ। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম সংবাদ প্ররিবেশন করলেও কমেনি এর দৌড়াত্ব।

রাজধানীর টঙ্গী এলাকার নিরালা গেষ্ট হাউজ, তৃপ্তি হোটেল, হাবিব গেষ্ট হাউজ, মোহাম্মদীয়া গেষ্ট হাউজ, টঙ্গী আবাসিক, হোটেল সজীব, হোটেল বিসমিল্লাহ, হোটেল তানিয়া, হেরেজ হোটেল ছাড়াও বেশকিছু হোটেলসহ, আশুলিয়া, মিরপুর, কাওরান বাজার,পলটনসহ বেশকিছু স্থানে। এছাড়াও বাসা-বাড়ি ভারা নিয়েও ক্ষমতার বাহুবলে চালিয়ে যাচ্ছে দেহব্যবসা।

ঢাকা মহানগরীর সব চেয়ে বড় অসামাজিক কাজের পাড়া হিসেবে পরিচিত বনানী। বনানীর নাম শুনেনি এ রকম লোক খুব কমই আছে। আর এর পিছনে বিশেষ যে অবদান রয়েছে তা হলো অনৈতিক কর্মকান্ড। আর এ কাজের জন্যই বেশ কয়েকবার গণমাধ্যমে আলোচিত সমালোচিত হয়েছিল বনানী-কাকলির হোটেলগুলো। সাথে প্রশ্ন উঠেছিল প্রশাসন নিয়েও।কিন্তু এর পরেও কমেনি এসব কাজের গতিবিধ।

এখনো প্রকাশ্যে দালালরা সামনের রাস্তায় ডেকে ডেকে খুঁজে খদ্দের। ‘ভাই লাগবে? ভিআইপি গুলো আছে। একদম কচি। রেটও আছে সাদ্ধের মদ্ধে ২৫০ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত’ এভাবেই কথা গুলো বলে খদ্দের যোগার করে দালাল রায়হান।

জানা গেছে, এসব কাজের পিছনে রয়েছে প্রভাবশালী কোন মহল। বিশেষ সম্মানী খাতিরে তাদের ছত্র ছায়ায় টিকে থাকছে তারা।

মোজাফ্ফর নামের এক পথ চারির সাথে এ নিয়ে কথা বললে তিনি বলেন, আমি প্রায় এই রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করি। আমার সামনে এসে দালালরা আমার হাত ধরে বলে ভাই লাগবেনি ‘কচি আছে, যেমন চাইবেন তেমনই পাবেন’। এসব কথা শুনে তখন নিজেই খুব বিব্রত বোধ করি।

পারভেজ নামের এক পথচারি বলেন, ঈদের সময় যখন এখান দিয়ে যাই তখন মনে হয় এখানে নষ্টামির মেলা বসেছে। কারণ দালাল দিয়ে তখন এ রাস্তা ভরা থাকে। প্রায় প্রত্যেককেই জিজ্ঞেস করতে থাকে লাগবে কিনা। এসব কি প্রশাসনের নজরে আসেনা?

তিনি আরো বলেন, যখন সাথে বোরকা পরা বোন বা বউ থাকে তখন এখানকার পরিবেশ দেখে মনে হয় এই মেয়েটিই মনে হয় সবচেয়ে অপরাধী।

প্রতিদিন বনানীতে দালালরা রাস্তায় প্রকাশ্যেই হাকডাক করে খদ্দের খোঁজে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরমান আলী বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘ওখানে আমাদের পুলিশ দায়িত্ব পালন করে। আমরা যখন ঐ রাস্তা দিয়ে যাই তখন আমাদের চোখে পড়লে আমরা ব্যবস্থা নেই। আর আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে আমরা যাচাই বাছাই করে ব্যবস্থা নিব।’

About uzzal uzzal