এপ্রিল ১১, ২০২১ ১:২৪ পূর্বাহ্ণ ||২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ||২৭শে শাবান, ১৪৪২ হিজরী

বঙ্গবন্ধুর সহচর সাবেক এমপি আব্দুর রহিম আর নেই

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর, সংবিধান প্রণেতা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক দিনাজপুরের বিশিষ্ট আইনজীবী সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট এম আব্দুর রহিম আর নেই (ইন্না … রাজেউন)। আজ রোববার বেলা ১১টায় রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে মারা যান।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৯০ বছর। বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি বিচারপতি এনায়েতুর রহিম এবং জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিমের পিতা। মৃত্যুকালে এম আব্দুর রহিম স্ত্রী, দুই ছেলে, চার মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মরহুম আব্দুর রহিমের প্রথম নামাজে জানাজা সোমবার সকাল ১১টায় দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে এবং বিকেল ৩টায় তার গ্রামের বাড়ি দক্ষিণ কোতোয়ালির জালালপুরে অনুষ্ঠিত হবে। পরে গ্রামের বাড়ি জালালপুরে দাফন করা হবে তাকে।

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, মুক্তিযুদ্ধকালীন পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনের জোনাল চেয়ারম্যান  ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর সাবেক এমপি এম আব্দুর রহিম ১৯২৭ সালের ২১ নভেম্বর দিনাজপুর সদর উপজেলার শংকপুর ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের এক সভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী  হিসেবে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বৃহত্তর দিনাজপুর অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। পাক বাহিনীরা দিনাজপুর আক্রমণ করলে এম আব্দুর রহিমকে আহ্বায়ক করে দিনাজপুরে মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। মানবিক মূল্যবোধ আর দেশাত্মবোধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে তিনি ভারতের পতিরাম, রায়গঞ্জ, কালিয়াগঞ্জ, বালুরঘাট, গঙ্গারামপুরসহ বিভিন্ন এলাকার শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

‘৭১-এর ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন হলে গোটা দেশকে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ১১টি বেসামরিক জোনে ভাগ করা হয়। মুজিবনগর সরকার এম আব্দুর রহিমকে পশ্চিম জোনের জোনাল চেয়ারম্যান নিযুক্ত করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি ১৮ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় দিনাজপুর গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম দিনাজপুরে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় মিত্রবাহিনীর এ অঞ্চলের অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার ফরিদ ভাট্টি ও কর্নেল সমশের সিংয়ের নেতৃত্বে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়।

রাজনীতিক এম আব্দুর রহিম সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশ আ’লীগের সভাপতি ছিলেন তখন কেন্দ্রীয় আ’লীগের সহসভাপতি হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এম আব্দুর রহিম ১৯৯১ সালে দিনাজপুর সদর আসন থেকে পুনরায় জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তিনি বেশ কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ্ থাকলে তাকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঢাকার বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন বলে নিশ্চিত করেছেন তার বড় ছেলে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। তার মৃত্যুর খবর এসে পৌঁছালে দিনাজপুরে নেমে আসে শোকের ছায়া।

 

About alochito