এপ্রিল ১, ২০২০ ১:০৭ অপরাহ্ণ ||১৮ই চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ||৭ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

ফেসবুকে অডিও প্রকাশ করায় ঢাবির দুই ছাত্রী ছাত্রীর সিট বাতিল, কারণ দর্শানোর নোটিশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রোকেয়া হলের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করার অভিযোগে দুই ছাত্রীর সিট বাতিল করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সিট বাতিলের বিষয়ে প্রশাসন দুই ছাত্রীকে শোকজ নোটিশ দিয়েছে। ওই দুই ছাত্রী হলেন ডাকসু নির্বাচনে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযোদ্ধা সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা শ্রবণা শফিক দীপ্তি এবং হল সংসদের নির্বাচিত সহ-সাধারণ সম্পাদক ফাল্গুনী দাস।
তারা কর্মচারী নিয়োগের আগে নিয়োগ সংক্রান্ত অর্থ লেনদেনের বিষয়ে কয়েকটি অডিও রেকর্ড ফাঁস করেছিলেন। সে রেকর্ড যাচাই-বাছাই করতে গত বছর প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। প্রাথমিক পর্যায়ে কমিটি কোনও দুর্নীতির প্রমাণ না পেয়ে পদগুলোতে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান নিয়োগ স্থগিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক বেগম আকতার কামালকে প্রধান করে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কিন্তু সে কমিটির আহ্বায়ক বেগম আকতার কামাল অসুস্থ থাকায় নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দিতে পারেননি। পরে কমিটির আহ্বায়ক করা হয় অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শফিক উজ জামানকে। তিনিও কিছুদিন কাজ করার পর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে আহ্বায়কের পদ থেকে সরে যান। পরবর্তীতে আহ্বায়ক না থাকায় দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে কমিটি কোনও কাজ করতে পারেনি। সর্বশেষ উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ ফারহাত আনোয়ারকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়। পরে তার নেতৃত্বে কমিটি কোনও দুর্নীতির প্রমাণ পায়নি মর্মে প্রতিবেদন জমা দেয়। এ সূত্রে কমিটি ওই দুই শিক্ষার্থীর সিট বাতিল করতে শোকজ নোটিশ দেয়।
এদিকে, প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে শ্রবণা শফিক দীপ্তি গত বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি বলেন, হল প্রশাসন যে সিট বাতিলের বিষয়ে শোকজ নোটিশ দিয়েছে তাতে উল্লেখ করা হয়েছে আমি মিথ্যা তথ্য দিয়েছি। অথচ আমি স্পষ্ট সোর্স উল্লেখ করেছি। তারপরও আমার বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া হলো? চিঠিতে বলা হয়েছে ৩টি অডিও ক্লিপ আমি ভাইরাল করেছি, যা সঠিক নয়। আর এটা আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রকাশ করি। হল প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দীপ্তি বলেন, আপনারা উল্লেখ করেছেন ফেসবুকে তথ্য ভাইরাল করা বা তথ্য প্রদান হলো সাইবার ক্রাইম। তাহলে এটার বিচার করবে আদালত। এ কারণে আপনারা সিট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, তার জন্য অবশ্যই আদালত আছে।
এ বিষয়ে হল সংসদের এজিএস ফাল্গুনী দাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমার সিট বাতিল করা হবে এমন কথা জানিয়ে আমাকে শোকজ করেছে হল প্রশাসন। একই নোটিশের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দুই নেতা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই নেতাকে। অথচ তারা কেউ প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত না। হলের মধ্যে কোনও অনিয়ম হলে একজন সাধারণ ছাত্রী হিসেবে আমার কথা বলার অধিকার রয়েছে। কিন্তু প্রশাসন উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমার সিট বাতিল করতে পারে না।
উল্লেখ্য, গত ১৫ জানুয়ারি ওই দুই ছাত্রীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জিনাত হুদা। সেখানে উল্লেখ করা হয়, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে রোকেয়া হলে কর্মচারী নিয়োগে কোনও অনিয়ম বা আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফেসবুকে এ সংক্রান্ত যে অডিও ক্লিপ ভাইরাল করা হয়েছে, তার কোনও সত্যতা নেই। যাদের নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে বলে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয় তাদের কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওই অপপ্রচার চালানো হয় বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৫ জুলাই রোকেয়া হলে চারটি পদে কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয় হল কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে অফিস সহায়ক পদে একজন, মালি পদে একজন, নিরাপত্তা প্রহরী পদে তিন জন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে তিন জনকে নিয়োগ দেওয়ার তথ্য জানানো হয়। ৩১ জুলাই ছিল আবেদনের শেষ দিন। ১ সেপ্টেম্বর এসব পদে আবেদনকারীদের মৌখিক পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। তবে এ সময়ের মধ্যে তিনটি পদের বিপরীতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। রোকেয়া হল সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) ইসরাত জাহান তন্বী, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সায়মা আক্তার প্রমি ও হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও ডাকসুর কমনরুম ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক বিএম লিপি আক্তার, ওই হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী ইসলামের বিরুদ্ধে এ নিয়োগ-বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনও করেছিলেন ওই ছাত্রীরা। এর সঙ্গে হল প্রাধ্যক্ষেরও যোগসাজশ রয়েছে বলে ৩ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছিলেন তারা। প্রমাণ হিসেবে কিছু অডিও রেকর্ডও সাংবাদিকদের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন।

About Md Uzzal