এপ্রিল ৮, ২০২০ ৭:৩৫ পূর্বাহ্ণ ||২৫শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ||১৪ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

রাজপথে নেমেই ধাক্কা খেল বিএনপি,আতঙ্কে   শীর্ষ নেতারা

দীর্ঘদিন রাজপথে না থাকা বিএনপি হঠাৎ করেই রাজপথ উত্তাল করার চেষ্টা করে।  বিএনপির মহসচিব মির্জা ফখরুল ঘোষনা দেয় এখন থেকে সমাবেশ করতে আর কোন অনুমতি নেয়া হবে না। যখন প্রয়োজন হবে তখনই আমরা সভা সমাবেশ করব। এর দুদিন পরই হাইকোর্টের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আর এই ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা হয়েছে। ওই এই মামলায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ২৮ জনের নাম উল্লেখ করে ৫শ’ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গেল মঙ্গলবার রাতে এসআই মতিউর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

এরই মধ্যে ওই মামলায় মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বিএনপি নেতা ইশতিয়াক আজিজ উলফাতকে ২ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুর রহমান বলেন, সরকারি কাজে বাধা দেয়া, অগ্নিসংযোগ ও গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে এসআই মতিউর রহমান বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় মামলা করেন।

এ মামলার এজারভুক্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজউদ্দিন আহমেদ, আবদুল্লাহ আল নোমান, শওকত মাহমুদ, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিবউন নবী খান সোহেল, খায়রুল কবির খোকন, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইসতিয়াক আজিজ উলফাত, সাধারণ সম্পাদক জনাব সাদেক খান, যুবদলের সভাপতি জনাব সাইফুল ইসলাম নীরব, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জনাব শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল।

এছাড়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী তালুকদার, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক ছাত্র বৃত্তি সহ সম্পাদক রওনাকুল ইসলাম শ্রাবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক শাহনেওয়াজ, সাইফ মোহাম্মদ জুয়েল, ছাত্রদল ঢাকা দক্ষিণ ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রবিন প্রমুখ। এই তথ্য জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল।

উক্ত আসামীতের মধ্যে তিন কেন্দ্রীয় নেতাকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন-ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত।

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর)  দুপুর ১২টার দিকে হাইকোর্ট এলাকা থেকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মুক্তিযোদ্ধা মেজর হাফিজের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) এসএম শামীম।

তিনি বলেন, ২৬ নভেম্বর হাইকোর্টের সামনে গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় শাহবাগ থানায় করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান মুঠোফোনে জানান, হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রমের স্ত্রী দিলারা হাফিজ আমাকে ফোন করে জানিয়েছেন যে, তার স্বামীকে পুলিশ আটক করেছে। হাইকোর্ট থেকে বের হওয়ার পরই তাকে আটক করা হয়। তাকে কোথায় নেয়া হয়েছে তাও জানে না পরিবার।

এর আগে সকালে সুপ্রিমকোর্টের ফটক থেকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনকে আটক করে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান।

তিনি বলেন, খায়রুল কবির খোকনকে হাইকোর্টের সামনে থেকে আটকের পর শাহবাগ থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার হাইকোর্টের সামনে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির ৫০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে। মামলাটি ইতিমধ্যে ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। খায়রুল কবিরকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হতে পারে বলে জানান ওসি। এ বিষয়টি ডিবি পুলিশ দেখবে বলে জানান আবুল হাসান।

এ বিষয়ে খোকনের স্ত্রী বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরীন সুলতানা অভিযোগ করে বলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার শুনানি উপলক্ষে আমি ও খোকন একই গাড়িতে হাইকোর্টে যাচ্ছিলাম। গেট থেকে তাকে পুলিশ নিয়ে গেছে। তাকে কেন আটক করা হয়েছে, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।

আর খোকনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে জানিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) এসএম শামীম গণমাধ্যমকে বলেন, খোকনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা রয়েছে। এ কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার রাতে গ্রেফতার হন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত। তাকে একই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

About Md Uzzal