নভেম্বর ১৪, ২০১৯ ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ ||২৯শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ||১৬ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

মৃত্যুদণ্ড বহাল জামায়াত নেতা আজহারুলের

 

 

আলোচিত ডেস্ক: জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।

 

বৃহস্পতিবার সকালে এ রায় ঘোষণা করা হয়। এ টি এম আজহারুল ইসলামের খালাস চেয়ে করা আপিলের এই রায় আজ সুপ্রিম কোর্টের কার্যতালিকার এক নম্বরে ছিল।

 

গত ১৮ জুন আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়। আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীন পেপারবুক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এ শুনানি শুরু হয়েছিল। ১ জুলাই থেকে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। গত ১০ জুলাই প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছিলেন।

 

২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আজহারকে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের আনা নয় ধরনের ছয়টি অপরাধের মধ্যে পাঁচটি এবং পরিকল্পনা-ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) প্রমাণিত হয় রায়ে।

 

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রংপুর অঞ্চলে ১,২৫৬ ব্যক্তিকে গণহত্যা-হত্যা, ১৭ জনকে অপহরণ, একজনকে ধর্ষণ, ১৩ জনকে আটক, নির্যাতন ও গুরুতর জখম এবং শতশত বাড়ি-ঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের মতো নয় ধরনের ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয় এ টি এম আজহারের বিরুদ্ধে।

 

এসব অভিযোগের মধ্যে ১ নম্বর বাদে বাকি পাঁচটি অভিযোগই প্রমাণিত হয় ট্রাইব্যুনালের রায়ে। সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) অভিযোগ ছাড়াও তিনি যে আলবদর কমান্ডার ছিলেন তার প্রমাণ হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

 

এ ছাড়া ওই অঞ্চলের এক নারীকে রংপুর টাউন হলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্যাতন কেন্দ্রে ধর্ষণের জন্য তুলে দেয়ার অভিযোগে তাকে ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অপহরণ ও আটক রেখে নির্যাতনের আরেকটি ঘটনায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

 

২০১৫ সালের ২৯ জানুয়ারি খালাস চেয়ে আপিল করেন আজহারুল ইসলাম। সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীন তুহিন। ১১৩ যুক্তিতে আজহারকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে তার দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে আপিল আবেদন করেন অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীন তুহিন। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় ৯০ পৃষ্ঠার মূল আপিলসহ ২৩৪০ পৃষ্ঠার আপিল দাখিল করা হয়।

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আসা দশম আপিল আবেদন এটি। ২০১৭ সালের ১৩ আগস্ট এক আদেশে আপিল বিভাগ আসামিপক্ষকে আপিলের সার-সংক্ষেপ দাখিলের নির্দেশ দেন।

 

১৯৬৮ সালে রংপুর জিলা স্কুল থেকে মেট্রিক পাস করে পরের বছর আজহারুল ইসলাম ভর্তি হন রংপুর কারামাইকেল কলেজে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় আজহার জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের জেলা কমিটির সভাপতি ও আলবদর বাহিনীর রংপুর শাখার কমান্ডার ছিলেন।

 

১৯৯১ সালে তিনি ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমিরের দায়িত্ব পান এবং ২০০৫ সালে কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারি জেনারেল হন।

 

২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল আজহারের যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু করেন তদন্ত কর্মকর্তা এস এম ইদ্রিস আলী। ওই বছরের ২২ আগস্ট মগবাজারের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা ছয়টি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ২০১৩ সালের ১২ নভেম্বর আজহারের বিচার শুরু করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

About Md Uzzal