October 15, 2019 5:18 AM

থানার সামনে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যাকারী লিজার স্বামী গ্রেফতার

রাজশাহীতে কলেজছাত্রী লিজা রহমানের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহননের প্ররোচণার মামলায় তার স্বামী সাখাওয়াত হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভোররাতে গোমস্তাপুর থানার লক্ষ্মীনারায়নপুর গ্রাম থেকে পুলিশ সাখাওয়াতকে গ্রেফতার করে।

রাজশাহী নগর পুলিশের শাহমখদুম থানার ওসি মাসুদ পারভেজ বলেন, বুধবার রাতে লিজার বাবা আলম মিয়া বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় লিজার স্বামী সাখাওয়াত হোসেন, শ্বশুর মাহাবুবুল আলম খোকন এবং শ্বাশুড়ি নাজনিন বেগমকে আসামি হয়।

ওসি বলেন, মামলার পর আসামীদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান শুরু হয়। বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার লক্ষ্মীনারায়নপুর গ্রামে বোনের বাড়ি থেকে সাখাওয়াতকে (১৯) গ্রেফতার করা হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাখাওয়াতের অবস্থান সনাক্ত করে গোমস্তাপুর পুলিশের সহযোগিতায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। অন্য আসামীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে ব্যর্থ হয়ে থানা থেকে বের হয়ে থারা পাশে গিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয় কলেজছাত্রী লিজা। প্রথমে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলেও রাতেই তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেয়া হয়। তাদের শরীরের ৬৩ শতাংশ দগ্ধ লিজা বুধবার ভোরে মারা যান।

লিজা রহমানের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায়। তিনি রাজশাহী মহিলা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করতেন। তার স্বামী সাখাওয়াত রাজশাহী সিটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। সাখাওয়াতের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার খাজুরা থান্দুরা গ্রামে। বিয়ের পর লিজা ও সাখাওয়াত রাজশাহী শহরের আলাদা দুটি মেসে থাকতেন।

কিন্তু ছেলের পরিবার বিয়ে মেনে না নেওয়া স্বামীর সঙ্গে মতোবিরোধ হয় লিজার। এতে স্বামীর হাতে নির্যাতনের শিকার হন লিজা। এ নিয়ে গত শনিবার লিজা প্রথম নগরীর শাহমখদুম থানায় অভিযোগ করতে যান। তার অভিযোগ আমলে না নিয়ে পুলিশ তাকে থানা চত্বরে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে থানার গেটে থেকে ১০০ গজ দূরে মহিলা টিটিসির গেটের সামনে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগান লিজা। থানা থেকে বেরিয়ে কলেজছাত্রীর গায়ে আগুন দেয়ার ঘটনায় পুলিশ ও মানবাধিকার কমিশন দুইটি তদন্ত কমিটি করে।

 

 

About Md Uzzal